Tuesday, July 16, 2019

পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়ঃ

আবূ বারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, যখন আমাদের একজন তার পার্শ্ববর্তী আপরজনকে চিনতে পারত। আর এ সালাত (নামায/নামাজ) তিনি ষাট থেকে একশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং যুহরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য পশিম দিকে ঢলে পড়ত। তিনি আসরের সালাত আদায় করতেন এমন সময় যে, আমাদের কেউ মদিনার শেষ প্রান্তে পৌছে আবার ফিরে আসতে পারত, তখনও সূর্য সতেজ থাকত। রাবী বলেন, মাগরিব সম্পর্কে তিনি [আবূ বারযা (রাঃ)] কী বলেছিলেন, আমি তা ভুলে গেছি। আর ইশার সালাত রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে তিনি কোনরূপ দ্বিধাবোধ করতেন না। তারপর রাবী বলেন, রাতের অর্ধাংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে অসুবিধা বোধ করতেন না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫১৪]


মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনু হাসান ইবনু আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইবনু আমর (রহঃ) বলেন, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ) (মদিনায়) এলে আমরা জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে সালাতের ওয়াক্ত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম, (কেননা, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ বিলম্ব করে সালাত আদায় করতেন)। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) প্রচন্ড গরমের সময় আদায় করতেন। আর আসরের সালাত সূর্য উজ্জল থাকতে আদায় করতেন, মাগরিবের সালাত সূর্য অস্ত যেতেই আর ইশার সালাত বিভিন্ন সময়ে আদায় করতেন। যদি দেখতেন, সবাই সমবেত হয়েছেন, তাহলে সকাল সকাল আদায় করতেন। আর যদি দেখতেন, লোকজন আসতে দেরী করছে, তাহলে বিলম্বে আদায় করতেন। আর ফজরের সালাত তাঁরা কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্ধকার থাকতে আদায় করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৩]



আবূ মিনহাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে আবূ বারযা আসলামী (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞাস করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাতসমূহ কোন সময় আদায় করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) যাকে তোমরা প্রথম সালাত বলে থাক, সূর্য ঢলে পড়লে আদায় করতেন। আর আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, আমাদের কেউ সূর্য সজীব থাকতেই মদিনার শেষ প্রান্তে নিজ পরিজনের কাছে ফিরে আসতে পারত। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কি বলেছিলেন, তা আমি ভুলে গেছি। তারপর আবূ বারযা (রাঃ) বলেন, ইশার সালত একটু বিলম্বে আদায় করাকে তিনি পছন্দ করতেন। আর ইশার আগে ঘুমানো এবং পরে কথাবার্তা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। আর এমন মুহূর্তে তিনি ফজরের সালাত শেষ করতেন যে, আমাদের যে কেউ তার পার্শ্ববর্তী ব্যাক্তিকে চিনতে পারত। এ সালাতে তিনি ষাট থেকে একশ’ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৭২]



আবদুল্লাহ্ আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আসরের নামাযের সময় আরম্ভের পূর্ব পর্যন্ত যুহয়ের নামাযের সময় অবশিষ্ট থাকে এবং সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করার পূর্ব পর্যন্ত আসরের নামাযের সময় থাকে। মাগরিবের নামাযের সময়সীমা হল পশ্চিম আকাশের শাফাক অস্তমিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। এশার নামাযের ওয়াক্ত রাতের অর্ধেক সময় পর্যন্ত, এবং সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত হল ফজরের নামাযের সময়। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩৯৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]



জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেনঃ আমার সঙ্গে সালাত আদায় কর। তারপর তিনি যোহরের সালাত আদায় করেন যখন সুর্য অনেকখানি ঢলে যায়। আসরের সালাত আদায় করেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমান হয়ে গেল, মাগরিবের সালাত আদায় করেন যখন সুর্য অদৃশ্য হয়ে গেল এবং ইশার সালাত আদায় করেন যখন সুর্য অস্তমিত হওয়ার পর শাফাক অদৃশ্য হয়ে গেল। রাবী বলেনঃ (পরদিন) যোহরের সালাত আদায় করেন যখন মানুষের ছায়া তার সমান হল, আসরের সালাত আদায় করেন যখন মানুষের ছায়া দ্বিগুন হল। মাগরিবের সালাত আদায় করলেন শাফাক অদৃশ্য হওয়ার পূর্বে। আবদুল্লাহ ইবনু হারিস বলেন, তারপর বর্ণনাকারী ইশার সালাতের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তা রাতের এক-তৃতীয়াংশের দিকে আদায় করেছেন বলে আমার মনে হয়। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/নামাজের সময়সীমা, হাদিস নম্বরঃ ৫০৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]



প্রচণ্ড গরমের সময় যুহরের সালাত ঠাণ্ডায় আদায় করাঃ

আবূ হূরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন গরম বৃদ্ধি পায় তখন তোমরা তা কমে এলে (যুহরের) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করো। কেননা, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপের অংশ। (তারপর তিনি বলেন), জাহান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে এ বলে নালিশ করেছিল, হে আমার প্রতিপালক! (দহনের প্রচণ্ডতায়) আমার এক অংশ আরেক অংশকে গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে দু’টি শ্বাস ফেলার অনুমতি দিলেন, একটি শীতকালে আর একটি গ্রীষ্মকালে। আর সে দু’টি হল, তোমরা গ্রীষ্মকালে যে প্রচণ্ঠ উত্তাপ এবং শীতকালে যে প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভব কর তাই। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫১০]


আসরের ওয়াক্তঃ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন যে, তখনো সূর্যেরশ্মি ঘরের বাইরে যায়নি। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫১৭]


আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, আর সূর্যকিরণ তখনো আমার ঘরে থাকত। সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার পরও পশ্চিমের ছায়া ঘরে দৃষ্টিগোচর হত না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫১৯]



আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, আর সূর্য তখনও যথেষ্ট উপরে উজ্জ্বল অবস্থায় বিরাজমান থাকত। সালাতের পর কোন গমনকারী আওালির দিকে রওয়ানা হয়ে পৌঁছে যেত, আর তখনও সূর্য উপরে থাকত। আওালার কোন অংশ ছিল মদিনা থেকে চার মাইল বা তার কাছাকাছি দূরত্বে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫২৪]



আল-আলা ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা যুহরের নামায আদায়ের পর আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) -র নিকট গিয়ে দেখলাম তিনি আসরের নামায আদায় করছেন। তাঁর নামায সমাপ্তির পর আমরা তাকে বললাম, নামায বেশী আগে আদায় করা হয়েছে। অথবা (আনাস) নিজেই নামায আগে আদায়ের কারণ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি (আনাস) বলেন, এটা মুনাফিকদের নামায, এটা মুনাফিকদের নামায, এটা মুনাফিকদের নামায, এদের কেউ বসে থাকে অতঃপর সূর্যের রং যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং তা শয়তানের উভয় শিংয়ের উপর অবস্হান করে (সূর্য অস্তগামী হয়) তখন সে নামায আদায় করার জন্য দন্ডায়মান হয়ে চারটি ঠোকর দিয়ে থাকে (অতি দ্রুত নামায সম্পন্ন করে, যাতে রুকু-সিজ্দা ঠিক মত আদায় হয় না) এবং সে ঐ নামাযের মধ্যে আল্লাহ্ তা’আলার যিকির অতি সামান্যই করে থাকে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪১৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]



আ’লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যোহরের সালাত আদায় করার পর আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর বসরায় অবস্থিত বাসস্থানে গেলেন। তাঁর বাড়ি মসজিদের পার্শ্বেই ছিল। আ’লা (রহঃ) বলেন, যখন আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি আসরের সালাত আদায় করেছ? আমরা বললাম, না। আমরা তো এইমাত্র যোহরের সালাত আদায় করলাম। তিনি বললেন, এখন আসরের সালাত আদায় কর। আ’লা বলেন, আমরা তত্ক্ষনাত সালাতে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষে তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এটা মুনাফিকের সালাত যে, বসে সালাতের অপেক্ষারত থাকে, তারপর সুর্য যখন শয়তানের দুই শিং-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে (সূর্যাস্তের সময় নিকটবর্তী হয়ে যায়) তখন (তাড়াহুড়া করে মোরগের মত) চারটি ঠোকর মারে এবং তাতে আল্লাহ তা'আলার স্মরণ সামান্যই করে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/নামাজের সময়সীমা, হাদিস নম্বরঃ ৫১২, হাদিসের মানঃ সহিহ]



আসরের সালাত ছুটে গেলে তার গুনাহঃ

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন ব্যাক্তির আসরের সালাত (নামায/নামাজ) ছুটে যায়, তাহলে যেন তার পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদ সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গেল। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫২৫]


আবূ মালীহ্‌ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মেঘলা দিনে আমরা বুরাইদা (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, শীঘ্র সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নাও। কেননা, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আসরের সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দেয় তার সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭]



আসরের সালাতের ফযীলতঃ

জরীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি রাতে (পূর্ণিমার) চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ ঐ চাঁদকে তোমরা যেমন দেখছ, ঠিক তেমনি অচিরেই তোমাদের প্রতিপালককে তোমরা দেখতে পাবে। তাঁকে দেখতে তোমরা কোন ভীড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই সূর্য উদয়ের এবং অস্ত যাওয়ার আগের সালাত (নামায/নামাজ) (শয়তানের প্রভাবমুক্ত হয়ে) আদায় করতে পারলে তোমরা তাই করবে। তারপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন, “কাজেই তোমার প্রতিপালকের প্রশ্নংসার তাসবীহ্ পাঠ কর সূর্য উদয়ের আগে ও অস্ত যওয়ার আগে।” (৫০ : ৩৯)


ইসমাঈল (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হলঃ এমনভাবে আদায় করার চেষ্টা করবে যেন কখনো ছুটে না যায়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫২৭]



আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফেরেশতাগণ পালা বদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। আসর ও ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) উভয় দল একত্র হন। তারপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমার বান্দাদের কোন্ অবস্থায় রেখে আসলে? অবশ্য তিনি নিজেই তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। উত্তরে তাঁরা বলেনঃ আমরা তাদের সালাতে রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাতরত ছিলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫২৮]



উমারা ইবনু রুওয়ায়বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি সূর্য উদয়ের পূর্বে ফজরের সালাত এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে আসরের সালাত আদায় করবে, সে ব্যাক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৮৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]



মাগরিবের ওয়াক্তঃ

রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে এমন সময় ফিরে আসতাম যে, আমাদের কেউ (তীর নিক্ষেপ করলে) নিক্ষিপ্ত তীর পতিত হওয়ার স্থান দেখতে পেত। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৩২]


সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্য পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৩]



ইশার সালাতের ওয়াক্ত ও ফযীলতঃ 
মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু হাসান ইবনু আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা জাবির ইব‌ন আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ) সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, মধ্যাহ্ন গড়ালেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করতেন এবং সূর্য সতেজ থাকতেই আসর আদায় করতেন, আর সূর্য অস্ত গেলেই মাগরিব আদায় করতেন, আর লোক বেশী হয়ে গেলে ইশার সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করতেন এবং লোক কম হলে দেরী করতেন, আর ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতেই আদায় করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৮]



আবূ বারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৪১]



আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেরী করলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, আস-সালাত। নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তারপর তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তোমরা ব্যতীত পৃথিবীর আর কেউ এ সালাতের জন্য অপেক্ষা করছে না। (রাবী বলেন) তখন মদিনা ব্যতীত অন্য কোথাও সালাত আদায় করা হত না। (তিনি আরও বলেন যে) পশ্চিম আকাশের ‘শাফাক’ অন্তর্হিত হওয়ার পর থেকে রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে তাঁরা ইশার সালাত আদায় করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৪২]



আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত (নামায/নামাজ) অর্ধেক রাত পর্যন্ত বিলম্ব করলেন। তারপর সালাত আদায় করে তিনি বললেনঃ লোকেরা নিশ্চয়ই সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। শোন! তোমরা যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় ছিলে ততক্ষণ তোমরা সালাতেই ছিলে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৪৪]



ইশা ও ফজর সালাতের ফযীলতঃ

আবূ বকর ইবনু আবূ মূসা (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি দুই শীতের (ফজর ও আসরের) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, সে জান্নাতে দাখিল হবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৪৬]


ফজরের ওয়াক্তঃ

যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাহরী খেয়েছেন, তারপর ফজরের সালাতে দাঁড়িয়েছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ দু’য়ের মাঝে কতটুকু সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ বা ষাট আয়াত তিলাওয়াত করা যায়, এরূপ সময়ের ব্যবধান ছিল। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৪৮]


আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মুসলিম মহিলাগণ সর্বাঙ্গ চাদরে ঢেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ফজরের জামা’আতে হাযির হতেন। তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তারা যার যার ঘরে ফিরে যেতেন। আবছা আঁধারে কেউ তাঁদের চিনতে পারত না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৫১]



ফজরের (সুন্নাত) দু’ রাকা’আত নিয়মিত আদায় করাঃ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন, এরপর আট রাকা’আত সালাত আদায় করেন এবং দু’ রাকা’আত আদায় করেন বসে। আর দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেন আযান ও ইকামাত-এর মধ্যবর্তী সময়ে। এ দু’ রাকা’আত তিনি কখনো পরিত্যাগ করতেন না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৯০]


আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু' রাকআত সুন্নাত সালাতের জন্য যতটা ব্যস্ত হতেন, অন্য কোন নফল সালাতের জন্য ততটা ব্যস্ত হতে আমি তাঁকে দেখি নি। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৬০]



আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফজরে দু' রাকআত (সুন্নাত) দুনিয়া এবং দুনিয়ার সকল কিছুর চাইতে উত্তম। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৬১]



আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের ওয়াক্ত আসার পরে দু' রাকআত সুন্নাত সম্পর্কে বলেছেন যে, তা আমার নিকট দুনিয়ার সকল কিছু অপেক্ষা শ্রেয়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৬২]



যে ব্যাক্তি আসর ও ফজরের এক রাকআত পেলঃ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি সূর্য উঠার আগে ফজরের সালাতের এক রাকআত পায়, সে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) পেল। আর যে ব্যাক্তি সূর্য ডুবার আগে আসরের সালাতের এক রাকাআত পেল সে আসরের সালাত পেল। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৫২]


আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি কোন সালাতের এক রাকআত পায়, সে সালাত (নামায/নামাজ) পেল। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৫৩]



সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় না করাঃ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কয়েকজন আস্থাভাজন ব্যাক্তি আমার কাছে – যাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন উমর (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পর সূর্য উজ্জ্বল হয়ে না উঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৫৪]


ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের উদ্যোগ না নেয়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৫৮]



ঘুমের কারনে ও ভুলে গেলে দেরিতে সালাত আদায় করাঃ

আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। যাত্রী দলের কেউ কেউ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! রাতের এ শেষ প্রহরে আমাদের নিয়ে যদি একটু বিশ্রাম নিতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার ভয় হচ্ছে সালাতের সময়ও তোমরা ঘুমিয়ে থাকবে। বিলাল (রাঃ) বললেন, আমি আপনাদের জাগিয়ে দিব। কাজেই সবাই শুয়ে পড়লেন। এ দিকে বিলাল (রাঃ) তাঁর হাওদার গায়ে একটু হেলান দিয়ে বসলেন। এতে তাঁর দু’চোখ মুদে আসল। ফলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন।


সূর্য কেবল উঠতে শুরু করেছে, এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন এবং বিলাল (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, হে বিলাল! তোমার কথা গেল কোথায়? বিলাল (রাঃ) বললেন, আমার এত অধিক ঘুম আর কখনও পায়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তোমাদের রূহ্‌ কব্‌য করে নিয়েছেন; আবার যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তা তোমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। হে বিলাল! উঠ, লোকদের জন্য সালাতের আযান দাও। তারপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং সূর্য যখন উপরে উঠল এবং উজ্জ্বল হল তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮]



আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ কোন সালাতের কথা ভুলে যায়, তাহলে যখনই স্মরণ হবে, তখন তাকে তা আদায় করতে হবে। এ ব্যতীত সে সালাতের অন্য কোন কাফ্‌ফারা নেই। (কেননা, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন) (‏وَأَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي‏) “আমাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে সালাত কায়েম কর”। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৭০]



একাধিক সালাতের কাযা ধারাবাহিকভাবে আদায় করাঃ

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, খন্দকের দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এসে কুরাইশ গোত্রীয় কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি এখনও আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য অস্ত যায় যায়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমিও তা আদায় করিনি। তারপর আমরা উঠে বুতহানের দিকে গেলাম। সেখানে তিনি সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং আমরাও উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলাম; এরপর সূর্য ডুবে গেলে আসরের সালাত আদায় করেন, তারপর মাগরিবের সালাত আদায় করেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯]

সফর ও কসরের সালাতঃ


ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে ফরজ সালাত (নামায/নামাজ) ব্যতীত তার সাওয়ারীতে থেকেই ইশারায় রাতের সালাত আদায় করতেন। সাওয়ারী যে দিকেই ফিরুক না কেন, আর তিনি বাহনের উপরেই বিতর আদায় করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/বিতর সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৪৬]


ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সফরে উনিশ দিন পর্যন্ত অবস্থান করেন এবং সালাত (নামায/নামাজ) কসর করেন। কাজেই (কোথাও) আমরা উনিশ দিনের সফরে থাকলে কসর করি এবং এর চাইতে বেশী হলে পুরোপুরি সালাত আদায় করি। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০১৯] 

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মদিনা থেকে মক্কায় গমণ করি, আমরা মদিনা ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি দু’রাকা’আত, দু’রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। (রাবী বলেন) আমি (আনাস (রাঃ)-কে বললাম, আপনারা মক্কায় কত দিন ছিলেন তিনি বললেন, আমরা সেখানে দশ দিন ছিলাম। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০২০]

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মহিলাই যেন মাহরাম পুরুষকে সঙ্গে না নিয়ে তিন দিনের সফর না করে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০২১]

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, সফরে যখনই তাঁর ব্যস্ততার কারণ ঘটেছে, তখন তিনি মাগরিবের সালাত বিলম্বিত করেছেন, এমন কি মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সফরের ব্যস্ততার সময় অনুরূপ করতেন। অপর এক সূ্ত্রে সালিম (রহঃ) বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। সালিম (রহঃ) আরও বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) তাঁর স্ত্রী সাফীয়্যা বিনত আবূ উবাইদ এর দুঃসংবাদ পেয়ে মদিনা প্রত্যাবর্তনকালে মাগরিবের সালাত বিলম্বিত করেন। আমি তাঁকে বললাম, সালাতের সময় হয়ে গেছে। তিনি বললেন, চলতে থাক। আমি আবার বললাম, সালাত? তিনি বললেন, চলতে থাক। এমন কি (এ ভাবে) দু’ বা তিন মাইল অগ্রসর হলেন।
এরপর নেমে সালাত আদায় করলেন। পরে বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সফরের ব্যস্ততার সময় এরূপভাবে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি। আবদুল্লাহ (রাঃ) আরো বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, সফরে যখনই তাঁর ব্যস্ততার কারণ ঘটেছে, তখন তিনি মাগরিবের সালাত (দেরী করে) আদায় করেছেন এবং তা তিন রাকা’আতই আদায় করেছেন। মাগরিবের সালাম ফিরিয়ে কিছু বিলম্ব করেই ইশার ইকামাত দেওয়া হত এবং দু’ রাকা’আত আদায় করে সালাম ফিরাতেন। কিন্তু ইশার পরে গভীর রাত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৩০]

আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, তাঁর সাওয়ারী যেদিকেই ফিরেছে, তিনি সে দিকেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৩১]

নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) তাঁর সাওয়ারীর উপর (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন এবং এর উপর বিতর আদায় করতেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৩২]

আমীর ইবনু রাবী’আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, তিনি সাওয়ারীর উপর উপবিষ্ট অবস্থায় মাথা দিয়ে ইশারা করে সে দিকেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন যে দিকে সাওয়ারী ফিরত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাতে এরূপ করতেন না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৩৫]

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারীর উপর থাকা অবস্থায় পূর্ব দিকে ফিরেও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। কিন্তু যখন তিনি ফরয সালাত আদায় করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি সাওয়ারী থেকে নেমে যেতেন এবং কিব্‌লামুখী হতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৩৬]

হাফস ইবনু আসিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমর (রাঃ) একবার সফর করেন এবং বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্যে থেকেছি, সফরে তাঁকে নফল সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখিনি এবং আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ “নিশ্চই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। (সূরা আহযাবঃ ২১১) [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৩৮]

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সফরে) তাঁর বাহনের পিঠে এর গতিমুখী হয়ে মাথার ইশারা করে নফল সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। আর ইবনু উমর (রাঃ)-ও তা করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৪১]

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দ্রুত সফর করতেন, তখন মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। ইবরাহীম ইবনু তাহমান (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সফরে দ্রুত চলার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহ্‌র ও আসরের সালাত (নামায/নামাজ) একত্রে আদায় করতেন আর মাগরিব ইশা একত্রে আদায় করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৪২]

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে পড়ার আগে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত (পূর্ব পর্যন্ত) যুহ্‌র বিলম্বিত করতেন এবং উভয় সালাত (নামায/নামাজ) একত্রে আদায় করতেন। আর (সফর শুরু করার আগেই) সূর্য ঢলে গেলে যুহর আদায় করে নিতেন। এরপর (সফরের উদ্দেশ্যে) আরোহণ করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৪৫]

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে পড়ার আগে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) বিলম্বিত করতেন। তারপর অবতরণ করে দু’ সালাত একসাথে আদায় করতেন। আর যদি সফর শুরু করার আগেই সূর্য ঢলে পড়তো তাহলে যুহ্‌রের সালাত আদায় করে নিতেন। তারপর বাহনে আরোহণ করতেন।  [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৪৬]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লাহ্‌ যখন সালাত ফরয করেছিলেন, তখন দু’রাকাত ফরয করেছিলেন। এরপর মুকিমের সালাত পুরা করেন (চার রাক'আত) কিন্তু সফরের সালাত প্রথম অবস্থায়ই রাখা হয়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৪]

ইয়ালা ইবনু উমায়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কে বললাম, (আল্লাহ তা’আলা বলেছেন) "যদি তোমরা ভয় পাও যে, কাফিররা তোমাদেরকে কষ্ট দেবে, তরে সালাত সংক্ষেপ করে পড়াতে কোন দোষ নেই" কিন্তু এখন তো লোকেরা নিরাপদ। উমর (রাঃ) বললেন, বিষয়টি আমাকেও বিস্মিত করেছে, যা তোমাকে বিস্মিত করেছিল। তারপর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম ও এর জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি একটি সাদাকা। তোমরা তাঁর সাদাকাটি গ্রহণ কর। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৬] 

হাফস ইবনু আসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। ইবনু উমর (রাঃ) আমাকে দেখতে আসেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর কাছে সফরে সুন্নাত সালাত পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সফরে ছিলাম, কিন্তু তাকে কখনো সুন্নাত আদায় করতে দেখি নি। যদি আমি সুন্নাত পড়তাম তাহলে আমি (ফরয) সালাতকেই পূর্ণভাবে আদায় করতাম। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, "নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে রয়েছে তোম্যদের জন্য উত্তম আদর্শ।" [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৩]

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মদিনা থেকে মক্কার দিকে রওনা দিলাম। সেই সফরে তিনি মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত দু' রাক'আত দু’ রাক'আত করে সালাত আদায় করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি মক্কায় কতদিন ছিলেন? তিনি বললেন, দশ দিন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৯] 

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উষ্ট্রের পিঠে নফল সালাত আদায় করতেন, উষ্ট্রের মুখ যে দিকেই থাক না কেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৪৮৩]

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে গাধার উপরে সালাত আদায় করতে দেখেছি যখন তিনি খায়বারের দিকে মুখ করেছিলেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৪৮৭]

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাওয়ারীর উপর বসে বিতর আদায় করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৪৯০]

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যখন সফরে তাড়াহুড়ো থাকত তখন মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৪৯৪]  

ইয়াহিয়া ইবনু ইযায়ীদ আল হুনাঈ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর নিকট সালাত কসর করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরের উদ্দেশ্যে তিন মাইল অথবা (রাবী শুবার সন্দেহ) তিনি তিন ফারসাখ পথ অতিক্রম করতেন, তখন দু’রাকআত পড়তেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৬]

যুহায়র ইবনু নুফায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুরাহবিল ইবনুল সিম্‌ত (রহঃ) এর সঙ্গে একটি গ্রামের দিকে রওনা দিলাম, যা সতের বা আঠার মাইলের মাথায় অবস্থিত। তারপর তিনি দু' রাক'আত সালাত পড়লেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি উমর (রাঃ) কে দেখেছি, তিনি যুল হুলায়ফায় দু' রাক'আত পড়েছেন। এ বিষয়ে তাঁকে আমি জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যেরূপ করতে দেখেছি, সেরূপই করছি। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৭]

রাতের নফল (তাহাজ্জুদ/তারাবীহ) সালাতঃ

প্রতিরাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেনঃ 

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা’আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছ এমনে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৭৯] 

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের বরকতময় ও মহান প্রতিপালক প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকার সময় নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন কে আছে আমাকে ডাকবে, তাহলে আমি তার ডাকে সাড়া দিব; কে আছে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, তবে আমি তাকে দিয়ে দিব, কে আছে আমার কাছে মাগফিরাত কামনা করবে, তবে আমি তাকে মাফ করে দেব। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬৪৫] 

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতি রাতে যখন রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তখন আল্লাহ নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন আর তিনি বলতে থাকেন, আমিই বাদশাহ। কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আছে এমন যে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দিয়ে দেব; কে আছে এমন যে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। ফজর উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত এ ভাবেই চলতে থাকে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬৪৬] 

আবূ সাঈদ ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ অপেক্ষা করতে থাকেন। অবশেষে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়ে গেলে তিনি নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে বলেন, কেউ কি আছে মাগফিরাতকামী? কেউ কি আছে তাওবাকারী? কেউ কি আছে প্রার্থনাকারী? কেউ কি আছে দুআকারী? এরুপ বলতে থাকেন ফজর উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬৫০] 

তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ সালাতঃ 

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবিতকালে কোন ব্যাক্তি স্বপ্ন দেখলে তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে বর্ণনা করত। এতে আমার মনে আকাঙ্খা জাগলো যে, আমি কোন স্বপ্ন দেখলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করব। তখন আমি যুবক ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে মসজিদে ঘুমাতাম। আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন দু’জন ফিরিশতা আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে চলেছেন। তা যেন কুপের পাড় বাঁধানোর ন্যায় পাড় বাঁধানে। তাতে দু’টি খুঁটি রয়েছে এবং এর মধ্যে রয়েছে এমন কতক লোক, যাদের আমি চিনতে পারলাম। তখন আমি বলতে লাগলাম, আমি জাহান্নাম থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। তিনি বলেন, তখন অন্য একজন ফিরিশতা আমাদের সঙ্গে মিলিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন, ভয় পেয় না। আমি এ স্বপ্ন (আমার বোন উম্মুল মু’মিনীন) হাফসা (রাঃ) এর কাছে বর্ণনা করলাম। এরপর হাফসা (রাঃ) তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ আবদুল্লাহ কতই না ভাল লোক! যদি রাত জেগে সে সালাত (নামায/নামাজ) (তাহাজ্জুদ) আদায় করত! এরপর থেকে আবদুল্লাহ (রাঃ) খুব অল্প সময়ই ঘুমাতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৫৫] 

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহাজ্জুদের) এগার রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন এবং তা ছিল তাঁর (স্বাভাবিক) সালাত। সে সালাতে তিনি এক একটি সিজ্‌দা এত পরিমাণ (দীর্ঘায়িত) করতেন যে, তোমাদের কেউ (সিজ‌্দা থেকে) তাঁর মাথা তোলার আগে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারত। আর ফজরের (ফরয) সালাতের আগে তিনি দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। তারপর তিনি ডান কাঁতে শুইতেন যতক্ষণ না সালাতের জন্য তাঁর কাছে মুয়ায্‌যিন আসতো। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৫৬] 

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্ত তার নিয়মিত ওযীফা বা তার অংশবিশেষ আদায় করতে না পেরে ঘুমিয়ে পড়ল এবং পরে ফজর সালাত ও যুহর সালাতের মধ্যবর্তী সময় তা পড়ে নিল তবে তার জন্য তেমনই লিপিবদ্ধ করা হরে যেন সে তা রাতেই পড়েছে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬১৮] 

আবদুল্লাহ ইবনু উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! রাতের সালাত কি রকম? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রাতের সালাত দুই দুই (রাক'আত)। যখন তুমি ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন এক রাক’আত দিয়ে বিতর করে নেবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬২৩] 

উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে মসজিদে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন, কিছু লোক তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলো। পরবর্তী রাতেও তিনি সালাত আদায় করলেন এবং লোক আরো বেড়ে গেল। এরপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতে লোকজন সমবেত হলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন না। সকাল হলে তিনি বললেনঃ তোমাদের কার্যকলাপ আমি লক্ষ্য করেছি। তোমাদের কাছে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে শুধু এ আশংকাই আমাকে বাধা দিয়েছে যে, তোমাদের উপর তা ফরয হয়ে যাবে। আর ঘটনাটি ছিল রামাযান মাসের (তারাবীহ্‌র সালাতের)। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৬২] 

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, একজন জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাতের সালাত (নামায/নামাজ)-এর (আদায়ের) পদ্ধতি কি? তিনি বললেনঃ দু’ রাকা’আত করে। আর ফজর হয়ে যাওয়ার আশংকা করলে এক রাকা’আত মিলিয়ে বিতর আদায় করে নিবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৭১] 

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ) ছিল তের রাকা’আত অর্থাৎ রাতে। (তাহাজ্জুদ ও বিতরসহ)। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৭২] 

মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ফজরের দু’রাকা’আত (সুন্নাত) ব্যতিরেকে সাত বা নয় কিংবা এগার রাকা’আত। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৭৩] 

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তের রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, বিত্‌র এবং ফজরের দু’ রাকা’আত (সুন্নাত) ও এর অন্তর্ভূক্ত। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৭৪] 

আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ) কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি প্রথমাংশে ঘুমাতেন, শেষাংশে জেগে সালাত আদায় করতেন। এরপর তাঁর শয্যায় ফিরে যেতেন, মুয়ায্‌যিন আযান দিলে দ্রুত উঠে পড়তেন, তখন তাঁর প্রয়োজন থাকলে গোসল করতেন, অনথায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে (মসজিদের দিকে) বেরিয়ে যেতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৮০] 

আবূ সালামা ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন, রামাযান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ) কেমন ছিল? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে এবং অন্যান্য সময় (রাতের বেলা) এগার রাকা’আতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। তুমি সেই সালাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘত্ব সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর তিনি তিন রাকা’আত (বিত্‌র) সালাত আদায় করতেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, (একদিন) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি বিতরের আগে ঘুমিয়ে থাকেন? তিনি ইরশাদ করলেনঃ আমার চোখ দু’টি ঘুমায়, কিন্তু আমার হৃদয় ঘুমায় না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৮১] 

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি ঈমান ও নিষ্ঠার সাথে (সাওয়াব প্রাপ্তির বিশ্বাস নিয়ে) রমযানে রাত্রি জাগরণ করে (তারাবী পড়ে), তার পূর্ববর্তী গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬৫২] 

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি ঈমান ও সাওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। আর যে ব্যাক্তি লায়লাতুল কাদরে ঈমান ও সাওয়াবের আশায় রাত জাগরণ (ইবাদত) করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬৫৪] 

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে মসজিদে সালাত আদায় করলেন। তখন তাঁর সঙ্গে লোকজন সালাত আদায় করল। এরপর পরবর্তী রাতে তিনি সালাত আদায় করলেন এতে বহু লোক হল। পরে তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতেও তাঁরা সমবেত হলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের দিকে বের হলেন না। পরে সকালে তিনি বললেন, তোমরা যা করেছ তা তো আমি দেখেছি। তোমাদের কাছে বের হয়ে আসতে আমাকে শুধু এ ই বাধা দিয়েছে যে, আমি আশংকা কছিলাম যে, সে সালাত তোমাদের উপর ফরয হয়ে যেতে পারে। এ ঘটনা রমযানের। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬৫৬] 

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্য রাতে বেরিয়ে মসজিদে সালাত আদায় করলেন। তখন একদল লোক তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করল এবং সকালে লোকেরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করল। ফলে তাদের চাইতে অনেক বেশী লোক সমবেত হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাতে বের হলেন এবং লোকেরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করল। এদিন সকালেও লোকেরা বিষয়টি আলোচনা করতে থাকল। এতে রাতে মসজিদের লোক সংখ্যা আরো বেশী হল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এলেন। লোকেরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করল। 

চতুর্থ রাতে মসজিদ লোকদের স্থান সংকুলানে অক্ষম হল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের কাছে বের হলেন না। তখন তাদের মাঝে কিছু লোক বলতে লাগল, সালাত! সালাত! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনও তাদের কাছে বের হলেন না। অবশেষে ফজরের সালাতের জন্য বের হলেন। ফজরের সালাত আদায় করার পরে লোকদের দিকে মুখ করলেন এবং তাশাহহুদ পাঠের পরে বললেন, আজ রাতে তোমাদের অবস্থা আমার কাছে গোপন থাকে নি। তবে আমার আশংকা হয়েছিল যে, রাতের (তারাবীহ) সালাত তোমাদের উপর ফরয হয়ে যায়; আর তোমরা তা পাননে অক্ষম হও। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬৫৭] 

ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝরাতে যখন সালাতের উদ্দেশ্যে উঠতেন তখন (এ দুআ) বলতেনঃ "হে আল্লাহ! আপনারই জন্য যাবর্তীয় প্রশংসা, আপনই আসমান যমীনের নূর (জ্যোতি), আপনারই সকল প্রশংসা, আপনই আসমান যমীনের রক্ষক, আপনারই জন্য সকল প্রশংসা, আপনি আসমান যমীনের মধ্যে যা কিছু রয়েছে সে সবের রব। আপনই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার বানী সত্য, আপনার সাক্ষাত সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আপনারই কাছে আত্মসমর্পণ করছি, আপনার প্রতি ঈমান স্থাপন করছি, আপনারই উপর ভরসা করছি, আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি, আপনারই প্রদত্ত সত্য প্রমাণ নিয়ে দুশমনের মুকাবিলা করছি, আপনারই কাছে ফয়সালা ন্যস্ত করছি। তাই আমার যা কিছু পুর্বাপর এবং গোপন ও প্রকাশ্য, সে সকল ক্ষমা করুন। মা'বুদ আপনি ব্যতীত আমার কোন ইলাহ নেই। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬৮১] 

লায়লাতুল ক্বাদরের দু'আঃ 
আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন রাতটি লায়লাতুল ক্বাদর, এ কথা যদি আমি জানতে পারি তবে সে রাতে কি দু-আ করব? তিনি বললেন, বলবেঃ 

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي 

হে আল্লাহ! তুমি তো খুবই ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাই তুমি ভালবাস। সুতরাং ক্ষমা করে দাও আমাকে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫১/দু’আ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, হাদিস নম্বরঃ ৩৫১৩, হাদিসের মানঃ সহীহ] 

শাহর ইবন হাওশাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে বললামঃ হে উম্মুল মুমিনীন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আপনার কাছে অবস্থান করতেন তখন অধিকাংশ সময় তিনি কি দুয়া করতেন? তিনি বললেনঃ তাঁর অধিকাংশ দু’আ ছিলঃ 

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ 

(উচ্চারণঃ ইয়া মুকাল্লিবাল কুলূব ছাব্বিত কালবী আলা দীনিকা) 

অর্থঃ হে অন্তর পরিবর্তনকারি! আমার অন্তর তুমি তোমার দীনে সুদৃঢ় রাখ। 

তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অধিকাংশ সময় এই দু’আ কেন করেন যে, ইয়া মুকাল্লিবাল কুলূব ছাব্বিত কালবী আলা দীনিকা? তিনি বললেনঃ হে উম্মু সালামা! এমন কোন মানুষ নেই যার অন্তর আল্লহ ত’আলার অঙ্গুলীসমূহের দুই অঙ্গুলের মাঝে নেই। যাকে তিনি ইচ্ছা তাকে তিনি দিনের উপর কায়েম রাখেন, যাকে ইচ্ছা তিনি সরিয়ে দেন। রাবি মুআয (রহঃ) এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ 

ربَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا 

হে আমাদের রব্ব! হেদায়তের পর তুমি আমাদের অন্তর বক্র করে দিও না। (আল-ইমরান ৩ঃ 8)। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫১/দু’আ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, হাদিস নম্বরঃ ৩৫২২, হাদিসের মানঃ সহীহ] 

বিতর সালাতঃ 
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট রাতের সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রাতের সালাত দু’দু’(রাকা’আত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হওয়ার আশংকা করে, সে যেন এক রাকা’আত মিলিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সালাত আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/বিতর সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৩৭] 

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, তার খালা উম্মুল মু’মিনীন মাইমুনা (রাঃ) এর ঘরে রাত কাটান। (তিনি বলেন) আমি বালিশের প্রস্থের দিক দিয়ে শয়ন করলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার পরিবার সেটির দৈঘ্যের দিক দিয়ে শয়ন করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘুমালেন। এরপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং চেহারা থেকে ঘুমের আবেশ দূর করেন। পরে তিনি সূরা আলে ইমরানের (শেষ) দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঝুলন্ত মশকের নিকট গেলন এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। এরপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। 

আমিও তার মতই করলাম এবং তার পাশেই দাঁড়ালাম। তিনি তার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার কান ধরলেন। এরপর তিনি দু’রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর দু’ রাকা'আত, এরপর দু’ রাকা'আত, এরপর দু’ রাকা'আত, এরপর দু’ রাকা'আত, এরপর তিনি বিতর আদায় করলেন। তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়ায্‌যিন তার কাছে এলো। তখন তিনি দাঁড়িয়ে দু’ রাকা'আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বের হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/বিতর সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৩৮] 

আয়িশা (রাঃ) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সকল অংশে (অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন রাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে) বিতর আদায় করতেন আর (জীবনের) শেষ দিকে সাহরীরর সময় তিনি বিতর আদায় করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/বিতর সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৪২] 

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত (নামায/নামাজ) করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/বিতর সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৪৪] 

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এমন সময় আসলেন যখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ রাতের সালাত (নামায/নামাজ) কিভাবে আদায় করতে হয়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দু’রাকা’আত দু’রাকা’আত করে আদায় করবে। আর যখন ভোর হওয়ার আশংকা করবে, তখন আরো এক রাকা’আত আদায় করে নিবে। সে সালাত তোমার আগের সালাতকে বিতর করে দিবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৫৯] 

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তের রাক’আত সালাত আদায় করতেন। এর মধ্যে পাঁচ রাক’আত দিয়ে তিনি বিতর আদায় করতেন এর শেষে ব্যতীত কখনও বসতেন না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৯৩] 

আবূ সালামা (রাঃ) বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) এর কাছে গিয়ে বললাম, হে আম্মাজান! আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে অবহিত করতন। তিনি বললেন, তাঁর সালাত ছিল রমযান এবং রমযানের বাইরে রাতের রেলায় তের রাক’আত। এর মধ্যে ফজরের দু’রাক’আত (সুন্নাত) ও রয়েছে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৯৯] 

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের সব অংশেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর আদায় করেছেন রাতের প্রথম অংশে, মাঝরাতে এবং শেষ রাতে। অবশেষ তিনি বিতর আদায় করতেন সাহরীর সময়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬১০] 

বিতরের দু'আঃ 
আলী ইবন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিতর সালাতে পাঠ করতেনঃ 

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَأَعُوذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ 

[সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫১/দু’আ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, হাদিস নম্বরঃ ৩৫৬৬, হাদিসের মানঃ সহীহ]