মসজিদে হেঁটে আসাঃ
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ সালাতের ইকামত হলে তোমরা (তাড়াহুড়া করে) দৌড়াতে দৌড়াতে আসবে না, বরং সেদিকে হেঁটে আসবে। তোমাদের ধীরস্থির হওয়া উচিত। জামাআতের সাথে সালাতের যতটুকু পাবে, আদায় করে নিবে। আর যতটুকু ফওত হয়ে গেল তা (সালামের পর) পূরণ করে নিবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩২৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ফরয সালাত আদায়ের স্থান থেকে সরে নফল সালাত আদায় করাঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ যদি তোমাদের কারও পক্ষে ফরয নামায আদাযের পর ডানে, বামে, সম্মুখে বা পশ্চাতে গমন করা সম্ভব না হয়, তবে সে ফরয নামায আদায়ের স্থানে দাঁড়িয়ে নফল আদায় করতে পারে। নচেৎ ফরয নামায আদায়ের স্থান হতে সরে গিয়ে অন্যত্র নফল নামায আদায় করা শ্রেয়। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১০০৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মোজা পরে সালাত আদায় করাঃ
মুগীর ইবনু শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করিয়েছি। তিনি উযূর সময় মোজা দু’টির উপর মাসেহ করলেন ও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৩৮১]
বিতর সালাতঃ
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট রাতের সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রাতের সালাত দু’দু’(রাকা’আত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হওয়ার আশংকা করে, সে যেন এক রাকা’আত মিলিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সালাত আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/বিতর সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৩৭]
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, তার খালা উম্মুল মু’মিনীন মাইমুনা (রাঃ) এর ঘরে রাত কাটান। (তিনি বলেন) আমি বালিশের প্রস্থের দিক দিয়ে শয়ন করলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার পরিবার সেটির দৈঘ্যের দিক দিয়ে শয়ন করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘুমালেন। এরপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং চেহারা থেকে ঘুমের আবেশ দূর করেন। পরে তিনি সূরা আলে ইমরানের (শেষ) দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঝুলন্ত মশকের নিকট গেলন এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। এরপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন।
আমিও তার মতই করলাম এবং তার পাশেই দাঁড়ালাম। তিনি তার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার কান ধরলেন। এরপর তিনি দু’রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর দু’ রাকা'আত, এরপর দু’ রাকা'আত, এরপর দু’ রাকা'আত, এরপর দু’ রাকা'আত, এরপর তিনি বিতর আদায় করলেন। তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়ায্যিন তার কাছে এলো। তখন তিনি দাঁড়িয়ে দু’ রাকা'আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বের হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/বিতর সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৩৮]
আয়িশা (রাঃ) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সকল অংশে (অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন রাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে) বিতর আদায় করতেন আর (জীবনের) শেষ দিকে সাহরীরর সময় তিনি বিতর আদায় করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/বিতর সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৪২]
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত (নামায/নামাজ) করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/বিতর সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৪৪]
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ হে কুরআনের অনুসারীগণ! তোমরা বিতরের নামায আদায় কর। কেননা আল্লাহ তাআলা বেজোড় (একক), কাজেই তিনি বেজোড় (বিতর)-কে ভালোবাসেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪১৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবু সায়ীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি নিদ্র বা ভুলের কারণে বিতিরের নামায আদায় করে নাই, সে যেন তা স্মরণ হওয়ার পরপরই আদায় করে নেয়। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪৩১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইবন উমার (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (স.) বলেনঃ তোমরা বিতিরকে রাত্রির সর্বশেষ নামায হিসাবে আদায় করবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ রাতের সালাত (নামায/নামাজ) হ’ল দু’রাকআত করে। তবে ভোর হয়ে যাওয়ার যদি আশংকা হয় তবে এক রাকআত যোগ করে বিতর পড়ে নিবে। বিতরকে তুমি তোমার শেষ সালাত বানাবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৩৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি ঘুম বা তন্দ্রার কারণে রাতের সালাত (নামায/নামাজ) পুরা না করতে পারতেন তবে দিনে বার রাকআত আদায় করতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৪৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
রাতের সালাত ও বিতরঃ
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এমন সময় আসলেন যখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ রাতের সালাত (নামায/নামাজ) কিভাবে আদায় করতে হয়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দু’রাকা’আত দু’রাকা’আত করে আদায় করবে। আর যখন ভোর হওয়ার আশংকা করবে, তখন আরো এক রাকা’আত আদায় করে নিবে। সে সালাত তোমার আগের সালাতকে বিতর করে দিবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৫৯]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তের রাক’আত সালাত আদায় করতেন। এর মধ্যে পাঁচ রাক’আত দিয়ে তিনি বিতর আদায় করতেন এর শেষে ব্যতীত কখনও বসতেন না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৯৩]
আবূ সালামা (রাঃ) বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) এর কাছে গিয়ে বললাম, হে আম্মাজান! আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে অবহিত করতন। তিনি বললেন, তাঁর সালাত ছিল রমযান এবং রমযানের বাইরে রাতের রেলায় তের রাক’আত। এর মধ্যে ফজরের দু’রাক’আত (সুন্নাত) ও রয়েছে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৯৯]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের সব অংশেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর আদায় করেছেন রাতের প্রথম অংশে, মাঝরাতে এবং শেষ রাতে। অবশেষ তিনি বিতর আদায় করতেন সাহরীর সময়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬১০]
ইমামের সুতরাই মুকতাদীর জন্য যথেষ্টঃ
আওন ইবনু জুহায়ফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে নিয়ে ‘বাতহা’ নামক স্থানে যোহরের দু’রাকা’আত ও আসরের দু’রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। তখন তাঁর সামনে ছড়ি পুঁতে রাখা হয়েছিল। তাঁর সম্মুখ দিয়ে (সুতরার বাইরে) মহিলা ও গাধা চলাচল করতো। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৭১]
সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের স্থান ও দেওয়ালের মাঝখানে একটা বকরী চলার মত ব্যবধান ছিল। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৭২]
তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের যে কেউ তার সম্মুখে হাওদার পিছনের খাড়া কাঠের পরিমাণ কিছু স্থাপন করে, যেন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। এরপর সেটির পিছন দিয়ে কেউ গেলে কোন পরোয়া করবে না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৯৪]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মুসল্লীর সূতরা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, তা হাওদার পিছনের কাঠটির মত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৯৭]
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাওয়ারীকে সামনে রেখে সেটির দিকে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ১০০০]
আওন ইবনু আবূ জুহায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে লাল চামড়ার তাবুতে দেখেছেন। তিনি বলেন, আমি বিলাল (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উযূ (ওজু/অজু/অযু)-র অবশিষ্ট পানি বের করতে দেখলাম। আর দেখলাম লোকেরা ঐ পানির জন্য তাড়াহুড়া করছে। যে ঐ পানি পেল, সে তা তার গায়ে মাখল। আর যে তা পেলনা সে তার সাথীর হাতের অদ্রতা থেকে কিছু নিল। তারপর দেখলাম একটি অগ্রভাগে লৌহযুক্ত যষ্ঠি বের করে গেড়ে দিলেন। এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাল ডোরাযুক্ত চাঁদর পরিধান করে তা উঠিয়ে বের হলেন। অতঃপর লোকজনকে নিয়ে যষ্ঠি সামনে রেখে দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। আর দেখলাম মানুষ ও জীবজন্তুকে বর্শার সম্মুখ দিয়ে চলা ফেরা করছে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ১০০৩]
আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাওদার পিছনের কাঠ এক হাত বা তার চেয়ে কিছুটা লম্বা হয়ে থাকে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬৮৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
স্তম্ভ (থাম) সামনে রেখে সালাত আদায়ঃ
ইয়াযিদ ইবনু আবূ উবায়দা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) এর কাছে আসতাম। তিনি সর্বদা মসজিদে নববীর সেই স্তম্ভের কাছে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন যা ছিল মাসাহাফের নিকটবর্তী। আমি তাঁকে বললাম হে আবূ মুসলিম! আমি আপনাকে সর্বদা এই স্তম্ভ খুজে বের করে সামনে রেখে সালাত আদায় করতে দেখি (এর কারণ কি?) তিনি বললেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এটি খুঁজে বের করে এর কাছে সালাত আদায় করেত দেখেছি। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮]
দুই স্তম্ভের মাঝে কাতার করা মাকরূহঃ
আবদুল হামীম ইবনু মাহমূদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বনে একবার জনৈক আমীরের পিছনে আমি সালাত আদায় করলাম। মানুষের চাপে বাধ্য হয়ে আমাদেরে দুই স্তম্ভের মাঝে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে হল। সালাত শেষে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের বললেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা এই ধরনের কাজ থেকে বেঁচে থাকতাম। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২২৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মুসল্লীর সম্মুখ দিয়ে যাওয়াঃ
আবূ সালেহ সম্মান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)-কে দেখেছি। তিনি জুম্মার দিন লোকদের জন্য সুতরা হিসাবে কোন কিছু সামনে রেখে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। আবূ মু’আইত গোত্রের এক যুবক তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) তার বুকে ধাক্কা মারলেন। যুবকটি লক্ষ্য করে দেখলো যে তাঁর সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন পথ নেই। এজন্য সে পুনরায় তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। এবার আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) প্রথম বারের চাইতে জোরে ধাক্কা দিলেন। ফলে আবূ সা’ঈদ (রাঃ)-কে তিরস্কার করে সে মারওয়ানের কাছে গিয়ে আবূ সা’ঈদ (রাঃ)-এর ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করল। এদিকে তার পরপরই আবূ সা’ঈদ (রাঃ)-ও মারওয়ানের কাছে গেলেন। মারওয়ান তাঁকে বললেনঃ হে আবূ সা’ঈদ! তোমার এই ভাতিজার কি ঘটেছে? তিনি জবাব দিলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যদি লোকদের জন্য সামনে সুতরা রেখে সালাত আদায় করে, আর কেউ যদি তার সামনে দিয়ে যেতে চায়, তাহলে যেন সে তাকে বাধা দেয়। সে যদি না মানে, তবে সে ব্যাক্তি (মুসল্লী) যেন তার সাথে মুকাবিলা করে, কারণ সে শয়তান। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫]
বুসর ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, যায়েদ ইবনু খালিদ (রাঃ) তাঁকে আবূ জুহায়ম (রাঃ) এর কাছে পাঠালেন, যেন তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে, মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী সম্পর্কে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কি শুনেছেন। তখন আবূ জুহায়ম (রাঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি মুসল্লীর সামনে অতিক্রমকারী জানতো এটা তার কত বড় অপরাধ, তাহলে সে মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চাইতে চল্লিশ দিন/মাস/বছর দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করতো। আবূন-নাযর (রহঃ) বলেনঃ আমার জানানেই তিনি কি চল্লিশ দিন বা চল্লিশ মাস বা চল্লিশ বছর বলেছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬]
আবূ সাঈদ খুদূরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তখন তার সম্মুখ দিয়ে কাউকে যেতে দিবে না। বরং যথাসাধ্য তাকে বাধা দিবে। যদি সে না মানে, তবে তার সাথে লড়াই করবে। কেননা, সে একটি শয়তান। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ১০১১]
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তখন সে কাউকে তার সম্মুখ দিয়ে যেতে দিবে না। যদি সে না মানে, তবে তার সাথে লড়াই করবে। কেননা, তার সাথে একটি সহচর (শয়তান) রয়েছে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ১০১৩]
সাহল ইবনু সা’দ আস-সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর স্থান এবং সুতরার মধ্যকার ব্যবধান এই পরিমাণ প্রশস্ত ছিল যে, একটি বকরী যেতে পারে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ১০১৭]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারী, গাধা ও কুকুর সম্মুখ দিয়ে গেলে সালাত (নামায/নামাজ) নষ্ট করে দেয়। তা থেকে রক্ষার উপায় হলো, মুসল্লীর সামনে হাওদার কাষ্ঠ পরিমাণ কোনও বস্তু রাখা। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ১০২২]
পাঁচ ওয়াক্তের সালাত গুনাসমূহের কাফ্ফারাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, “বলত যদি তোমাদের কারো বাড়ীর সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার দেহে কোন ময়লা থাকবে?” তারা বললেন, তার দেহে কোনরূপ ময়লা বাকী থাকবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ হল পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ)-এর উদাহরণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা (বান্দার) গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫০৩]
যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করে একাগ্র চিত্তে নির্ভুলভাবে দুই রাকাত নামায আদায় করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মার্জিত হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯০৫, হাদিসের মানঃ হাসান]
উসমান ইবনে আবু শায়বা (রহঃ) উকবা ইবনে আমির আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে কেউ উত্তমরূপে ওযু করে দুই রাকাত নামায খালেস অন্তরদিয়ে আদায় করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯০৬, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং জুমু'আ মধ্যবর্তী সময়ে যে গুনাহ হয় তাঁর জন্য কাফফারা স্বরূপ যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি কবীরা গুনাহে লিপ্ত হয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২১৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ আইয়ূব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্র ইবাদত কর এবং তাঁর সঙ্গে কিছু শরীক করবে না। সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে। (জবাব দেয়ার পর) প্রশ্নকারীকে বললেন, উটের লাগাম ছেড়ে দাও। যেহেতু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উটের উপর সওয়ার হয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৬৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উমারা ইবনু রুওয়াইবা সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যাক্তি সূর্য উদয় হওয়ার পূর্বের (ফযরের) সালাত এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বের (আসরের) সালাত আদায় করবে, সে কখনও জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৭২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উমারা ইবনু রুওয়ায়বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি সূর্য উদয়ের পূর্বে ফজরের সালাত এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে আসরের সালাত আদায় করবে, সে ব্যাক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৮৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মুসল্লী সালাতে তার মহান প্রতিপালকের সাথে গোপনে কথা বলেঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে (নামায/নামাজ) দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে গোপনে কথা বলে। কাজেই, সে যেন ডানদিকে থুথু না ফেলে, তবে (প্রয়োজনে) বাম পায়ের নীচে ফেলতে পারে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫০৬]
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সিজদায় মধ্যপন্থা অবলম্বন কর। তোমাদের কেউ যেন তার বাহুদ্বয় বিছিয়ে না দেয় কুকুরের মত। আর যদি থুথু ফেলতে হয়, তাহলে সে যেন সামনে বা ডানে না ফেলে। কেননা, সে তখন তার প্রতিপালকের সঙ্গে গোপন কথায় লিপ্ত থাকে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫০৭]
যথাসময়ে সালাত আদায় করাঃ
আবূ আমর শায়বানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর বাড়ীর দিকে ইশারা করে বলেন, এ বাড়ীর মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন্ আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যথাসময়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরপর জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ্ (আল্লাহর পথে জিহাদ)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, এগুলো তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনই, যদি আমি আরও বেশী জানতে চাইতাম, তাহলে তিনি আরও বলতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৯/সালাতের ওয়াক্তসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫০২]
উম্মে ফারওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ ওয়াক্তের প্রথম ভাগে নামায আদায় করা সর্বোত্তম কাজ। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪২৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ঘুমের কারণে নামায কাযা হলে অন্যায় নয়, বরং জগ্রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে নামায এত বিলম্বে আদায় করা অন্যায়- যাতে অন্য ওয়াক্ত উপনীত হয়। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৪১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
নামাযসমুহের হেফাযত করাঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি আমাদের ন্যায় সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, আমাদের কিবলামুখী আর আমাদের যবেহ করা প্রাণী খায়, সে-ই মুসলিম, যার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যিম্মাদার। সুতরাং তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীতে খিয়ানত করো না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৪]
আবদুল্লাহ্ ইবনু ফাদালা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে শরীআতের হুকুম-আহকাম সম্পর্কে শিক্ষা দেন। তিনি আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছিলেন তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিলঃ পাঁচ ওয়াক্তের নামাযের হিফাযত সঠিকভাবে করবে। আমি বলি, এই সময়ে আমি কর্মব্যস্ত থাকি। অতএব আমাকে এমন একটি পরিপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষা দিন যা আমল করলে আমার অন্য কিছু করার প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেনঃ তুমি দু’টি আসরের (সময়ের) হিফাযত কর। রাবী বলেন, তা আমাদের পরিভাষায় না থাকায় আমি তাঁকে দু’টি আসর কি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ সূর্যোদয়ের পূর্বের নামায এবং সূর্যাস্তের পূর্বের নামায (অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামায) সঠিক সময়ে আদায় করবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪২৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূদ-দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাঁচটি জিনিস ঈমানের সাথে সস্পাদন করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) ও রুকু-সিজ্দা সহকারে এবং ওয়াক্ত মত আদায় করবে, রমযানের রোযা রাখবে, সামর্থ থাকলে বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে, মনকে পবিত্র করার উদ্দেশ্যে যাকাত দিবে এবং আমানত আদায় করবে। লোকেরা বলল, হে আবূদ-দারদা! আমানত আদায়ের অর্থ কি? তিনি বলেন, নাপাকীর গোসল। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪২৯, হাদিসের মানঃ হাসান]
আবূ কাতাদা ইবনু রিবঈ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ্ বলেন- নিশ্চিত আমি আপনার উম্মাতের উপর পাচঁ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং আমি নিজের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিঃ যে ব্যক্তি তা সঠিক ওয়াক্তসমূহে আদায় করবে- আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি তার হেফাজত করে না - তার জন্য আমার পক্ষ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি নেই। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৩০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইবনু মুহায়রিয (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুখ্দাজী নামক বনূ কিনানার জনৈক ব্যাক্তি আবূ মুহাম্মদ নামক এক ব্যাক্তিকে সিরিয়ায় বলতে শুনেছেন যে, বিতরের সালাত ওয়াজিব। মুখদাজী বলেন, আমি এ কথা শুনে উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। আমি যখন তাঁর নিকট পৌঁছি তখন তিনি মসজিদে যাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে আবূ মুহাম্মদের বক্তব্য শুনালাম। উবাদা (রাঃ) বললেনঃ আবূ মুহাম্মদ ভুল বলেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্ তা’আলা বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যে ব্যাক্তি এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে এবং এগুলোর মধ্যে কোন সালাত হালকা জ্ঞানে ছেড়ে দেবে না, তার জন্য আল্লাহ্র ওয়াদা হল- তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যে ব্যাক্তি এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহ্র কোন ওয়াদা নেই। ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন, আবার ইচ্ছা করলে জান্নাতেও প্রবেশ করাতে পারেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৬২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূল মালিহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা মেঘাচ্ছন্ন দিনে আমরা বুরায়দা (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ অবিলম্বে সালাত আদায় করে নাও, কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আসরের সালাত ছেড়ে দিল, তার সমস্ত আমল ধ্বংস হয়ে গেল। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৭৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইরাক ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নাওফাল ইবনু মুয়াবিয়া (রাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ সালাতের মধ্যে এমন সালাত রয়েছে যে ব্যাক্তি থেকে তা ছুটে গেল তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ যেন ছিনতাই হয়ে গেল। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তা হচ্ছে আসরের সালাত। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৮১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
কিয়ামতের দিন বান্দার সর্ব প্রথম হিসাব হবে সালাতেরঃ
আলী ইবনু নাসর ইবনু আলী আল-জাহযামী (রহঃ)-হুরায়স ইবনু কাবীসা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ আমি একবার মদীনায় এলাম। দু’আ করলামঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য একজন নেক সঙ্গী লাভ সহজ করে দাও। পরে আমি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকটে গিয়ে বসলাম। বললামঃ একজন নেক সঙ্গী জুটিয়ে দিতে আমি আমি আল্লাহর নিকট দু’আ করেছিলাম। মেহেরবানী করে আপনি আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে হাদীস শুনেছেন তা আমাকে শুনান। হয়ত আল্লাহ তা’আলা এর মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করবেন। তিনি বললেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্ব প্রথম হিসাব নেওয়া হবে সালাতের। যদি তা সঠিক বলে গণ্য হয়, তবে সে হবে কল্যাণপ্রাপ্ত ও সফলকাম। আর যদি তা সঠিক বলে গণ্য না হয়, তবে সে হবে অসফল ও ক্ষতিগ্রস্ত। ফরযের মধ্যে যদি কোন ক্রটি দেখা যায়, তবে মহান প্রভু বলবেনঃ লক্ষ্য কর, আমার বান্দার কোন নফল আমল আছে কি? তা দিয়ে তার ফরযের যতটুকু ক্রটি আছে তা পূরণ করে দাও। পরে এতদনুসারেই হবে অন্যান্য সব আমলের অবস্থা। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪১৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
হুরায়স ইবনু কাবীসাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি মদিনা এসে আল্লাহ্র নিকট দোয়া করি, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে একজন সৎ সঙ্গী দান করুন। তারপর আমি এসে আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর মজলিসে বসলাম এবং তাঁকে বললাম যে, আমি মহান আল্লাহ্র নিকট একজন সৎ সঙ্গী পাওয়ার জন্য দোয়া করেছি। অতএব আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শোনা এমন একটি হাদিস আমাকে বর্ণনা করুন যা দ্বারা আল্লাহ্ আমাকে উপকৃত করবেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম তাঁর বান্দা থেকে সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। সালাত যথাযথভাবে আদায় হয়ে থাকলে সে সফল হবে ও মুক্তি পাবে। সালাত যথাযথ আদায় না হয়ে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হবে। হাম্মাম বলেন, ‘আমি জানি না- এটা কাতাদার কথা না হাদিসের অংশ। যদি ফরয সালাত কিছু কম হয়ে থাকে তবে আল্লাহ্ (ফেরেশতাদের) বলবেন, আমার বান্দার কোন নফল সালাত আছে কি না? থাকলে তা দ্বারা ফরয পূর্ণ করে দেওয়া হবে। এরপর অন্যান্য আমলের ব্যাপারেও একই অবস্থা হবে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৬৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন মানুষের আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব-নিকাশ নেওয়া হবে। যদি সালাত পরিপূর্ণ রূপে পাওয়া যায়, তবে তা পরিপূর্ণ লেখা হবে। যদি কিছু কম পাওয়া যায়, তাহলে আল্লাহ্ বলবেন, তার নফল সালাত কিছু আছে কি না? (যদি থাকে) এগুলোর দ্বারা ফরয সালাতের ক্ষতিপূরণ করে দেওয়া হবে। তারপর অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রেও এরূপ করা হবে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৬৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন বান্দার থেকে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেয়া হবে। সালাত পুরোপুরি আদায় করে থাকলে তো ভাল কথা, অন্যথায় আল্লাহ্ তা’আলা বলবেন, দেখ, আমার বান্দার কোন নফল সালাত আছে কি না? নফল সালাত থাকলে বলবেন, এই নফল সালাত দ্বারা ফরয সালাত পূর্ণ করে দাও। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৬৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
তামীম দারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বান্দার সর্ব প্রথম যে বিষয়ের হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো সালাত। আর তা যদি পরিপূর্ণ হিসেবে পায়, তবে তা পরিপূর্ণ হিসেবে লিখা হবে। আর তাতে কোনো ঘাটতি থাকলে আল্লাহ তা’আলা মালাইকা (ফিরিশতা) দেরকে বলবেন, “তোমরা (খুঁজে) দেখো, আমার বান্দার নফল (সালাত) আছে কি-না। (থাকলে) তার ফরয সালাতের যে ঘাটতি রয়েছে, তার এ (নফল) দ্বারা তোমরা তা পূর্ণ করে দাও। তারপর যাকাত, তারপর অন্যান্য আমলসমূহের হিসাবও (এভাবে) নেওয়া হবে। [সুনান আদ-দারেমী, অধ্যায়ঃ ২. সালাত অধ্যায়, পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস, হাদিস নম্বরঃ ১৩৯২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
নামাজ পরিত্যাগকারী সম্পর্কে বিধানঃ
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত (নামায/নামাজ) পরিত্যাগ করা। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/কিতাবুল ঈমান, হাদিস নম্বরঃ ১৪৯]
বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের এবং কাফিরদের মধ্যে পার্থক্যকারী আমল হল সালাত। যে সালাত ছেড়ে দিল সে কুফরী করল। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৬৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সালাত ছেড়ে দেওয়া ব্যতীত বান্দা ও কুফরের মাঝে কোন অন্তরায়ই নেই। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৬৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমান ও কুফরের ব্যবধান হল সালাত (নামায) পরিত্যাগ করা। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) / অধ্যায়ঃ ৪৩/ ঈমান, হাদিস নম্বরঃ ২৬১৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবদুল্লাহ্ ইবন শাকীক উকায়লী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ সালাত (নামায) ছাড়া অন্য কোন আমল পরিত্যাগ করা কুফরী বলে মনে করতেন না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) / অধ্যায়ঃ ৪৩/ ঈমান, হাদিস নম্বরঃ ২৬২৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ফরয সালাত ত্যাগের শাস্তিঃ
সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর স্বপ্ন বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেছেন, যে ব্যাক্তির মাথা পাথর দিয়ে বিচূর্ণ করা হচ্ছিল, সে হল ঐ লোক যে কুরআন মাজিদ শিখে তা পরিত্যাগ করে এবং ফরয সালাত (নামায/নামাজ) আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৭৭]
সালাতের মর্যাদাঃ
মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। একদিন চলার সময় আমি তাঁর নিকটবর্তী হয়ে গেলাম। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে অবহিত করুন যা আমাকে জান্নাতে দাখিল করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দিবে।
তিনি বললেনঃ তুমি তো বিরাট একটা বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তবে আল্লাহ্ তা’আলা যার জন্য তা সহজ করে দেন তার জন্য বিষয়টি অবশ্য সহজ। আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সঙ্গে কোন কিছু শরীক করবে না। সালাত (নামায) কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে, বায়তুল্লাহর হজ্জ করবে।
এরপর তিনি বললেনঃ সব কল্যাণের দ্বার সম্পর্কে কি আমি তোমাকে দিক-নির্দেশনা দিব? সিয়াম হল ঢালস্বরূপ, পানি যেমন আগুন নিভিয়ে দেয় তেমনি সাদকা ও গুনাহসমূহকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়, আর হল মধ্য রাতের সালাত (নামায)।
এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ তারা (মু’মিনরা গভীর রাতে) শয্যা ত্যাগ করে তাদের পরওয়ারদিগারকে ডাকে আশায় ও আশংকায় এবং আমি তাদের যে রিযক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন সুখকর কী লূকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ। (সাজদা ৩২ঃ ১৬-১৭)
তারপর বললেনঃ তোমাকে এই সব কিছুর মাথা ও বুনিয়াদ এবং সর্বোচ্চ শীর্ষদেশ স্বরূপ আমল সম্পর্কে অবহিত করব কি?
এরপর বললেনঃ অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ্!
তিনি বললেনঃ সব কিছুর মাথা হল ইসলাম, বুনিয়াদ হল সালাত (নামায) আর সর্বোচ্চ শীর্ষ হল জিহাদ।
এরপর বললেনঃ এ সব কিছুর মূল পুঁজি সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করব কি?
আমি বললামঃ অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ্!
তিনি তাঁর জিহ্বা ধরে বললেনঃ এটিকে সংযত রাখ।
আমি বললামঃ হে আল্লাহ্র নবী, আমরা যে কথাবর্তা বলি সেই কারণেও কি আমাদের পাকড়াও করা হবে?
তিনি বললেনঃ তোমাদের মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক,* হে মু’আয! লোকদের অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ্ত হওয়ার জন্য এই যবানের কামাই ছাড়া আর কি কিছু আছে নাকি? [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) / অধ্যায়ঃ ৪৩/ ঈমান, হাদিস নম্বরঃ ২৬১৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
* একটি বাক রীতি। কোন কথার গুরুত্ব বুঝাতে এবং শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণার্থে এই বাক-ভঙ্গিমা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাউকে যদি মসজিদের প্রতি মনোযোগী ও রক্ষণাবেক্ষণশীল দেখতে পাও তবে তার ঈমানের সাক্ষ্য দিতে পার। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ
তারাই তো আল্লাহর মসজিদসমূহের আবাদ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে যারা আল্লাহ্ ও আখিরাত দিবসে ঈমান আনে এবং সালাত (নামায) কায়েম করে। যাকাত দেয় (তওবা ৯ঃ১৮)। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) / অধ্যায়ঃ ৪৩/ ঈমান, হাদিস নম্বরঃ ২৬১৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইমাম নামাযের বিলম্ব করলেঃ
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবূ যার! যখন শাসকগগ নামায আদায়ে বিলম্ব করবে-তখন তুমি কি করবে? জবাবে আমি বলি, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! এ ব্যাপারে আমার জন্য আপনার নির্দেশ কি? তিনি বলেনঃ তুমি নির্ধারিত সময়ে একাকী নামায আদায় করবে। তাতঃপর যদি তুমি ঐ ওয়াক্তের নামায তাদেরকে জামাআতে আদায় করতে দেখ, তবে তুমিও তাদের সাথে জামাআতে শামিল হবে এবং তা তোমার জন্য নফল হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৩১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
নামাযের মধ্যে এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কেঃ
মুসাদ্দাদ (রহঃ) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নামাযের মধ্যে (ঘাড় ফিরিয়ে) এদিক ওদিক তাকানোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেন, এটা শয়তানের ছোঁ মারা, সে মানুষের নামায হতে কিছু অংশ ছো মেরে নিয়ে যায়। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯১০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, লোকদের কি হয়েছে যে, তার চক্ষু উপরের দিকে উঠিয়ে নামায আদায় করছে? এ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, তারা অবশ্যই যেন উপরের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে বিরত থাকে। অন্যথায় তাদের চক্ষুসমূহ উপড়িয়ে ফেলা হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯১৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
নামাযের মধ্যে যে কাজ বৈধঃ
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে শুয়ে থাকতাম আর আমার পা দুটো থাকত তাঁর কিবলার দিকে। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন আমাকে টোকা দিতেন, আর আমি আমার পা সরিয়ে নিতাম। তিনি দাঁড়িয়ে গেলে পুনরায় পা দুটো প্রসারিত করে দিতাম। আয়িশা (রাঃ) বলেন তখন ঘরে কোন বাতি ছিল না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৮৯]
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী মায়মুনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন আর আমি ঋতুমতী অবস্থায় তাঁর পাশে থাকতাম। কখনও সিজদা করতে তাঁর কাপড় আমার গায়ে লেগে যেত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ১০২৯]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ) আদায়কালে আমি তাঁর কিব্লার দিকে পা ছড়িয়ে রাখতাম; তিনি সিজদা করার সময় আমাকে খোঁচা দিলে আমি পা সরিয়ে নিতাম; তিনি দাঁড়িয়ে গেলে আবার পা ছড়িয়ে দিতাম। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১৩৬]
আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় কন্যা যয়নবের মেয়ে উমামাকে কাঁধে নিয়ে নামায পড়ছিলেন। তিনি সিজদার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং যখন দাঁড়াতেন তখন উঠিয়ে নিতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯১৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ কাতাদা আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মেয়ে যয়নবের গর্ভজাত ও আবূল আস ইবনু রাবী’য়া ইবনু আবদে শামস (রহঃ) এর ঔরসজাত কন্যা উমামা (রাঃ)-কে কাঁধে নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। তিনি যখন সিজদায় যেতেন তখন তাকে রেখে দিতেন আর যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে তুলে নিতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৯২]
আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা উপস্থিত থাকাকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমামা বিনতে আবুল আসকে নিয়ে আমাদের নিকট আসেন, যার মাতা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা যয়নব (রাঃ)। এ সময় তিনি (উমামা) শিশু ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাঁধে নিয়ে আসেন এবং ঐ অবস্থায় নামায আদায় করেন। তিনি রুকু করার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং দাঁড়ানো থাকাবস্থায় তাকে কাঁধে উঠিয়ে নিতেন। এইভাবে তিনি নামায সমাপ্ত করেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯১৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে ঘুমাতাম, আমার পা দু’খানা তাঁর কিবলার দিকে ছিল। তিনি সিজদায় গেলে আমার পায়ে মৃদু চাপ দিতেন, তখন আমি পা দু’খানা সঙ্কুচিত করতাম। আর তিনি দাঁড়িয়ে গেলে আমি পা দু’খানা সপ্রসারিত করতাম। তিনি বলেনঃ সে সময় ঘরগুলোতে বাতি ছিল না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৩৭৫]
সালাতে কথা বলা নিষিদ্ধঃ
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে কথা বলতাম। আমাদের যে কেউ তার সঙ্গীর সাথে নিজ দরকারী বিষয়ে কথা বলত। অবশেষে এ আয়াত নাযিল হল- حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ "তোমরা তোমাদের সালাত সমূহকে সংরক্ষণ কর ও নিয়মানুবর্তিতা রক্ষা কর; বিশেষত মধ্যবর্তী (আসর) সালাতে, আর তোমরা (সালাতে) আল্লাহর উদ্দেশ্যে একাগ্রচিত্ত হও।" (সূরা বাকারাঃ ২৩৮)। এরপর থেকে আমরা সালাতে নিরব থাকতে আদিষ্ট হলাম। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১২৭]
বৃষ্টির দিনে ঘরে সালাত আদায় করাঃ
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ঠাণ্ডা ও ঝড় বৃষ্টির রাতে আযান দেন এবং তিনি তাঁর আযানের শেষে বলেন, ‘তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে সালাত আদায় করে নাও। অবস্থান স্থলে সালাত আদায় করে নাও। তারপর বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে ঠাণ্ডা ও বাদলা রাতে মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিতেন, সে যেন বলে দেয় যে, তোমরা তোমাদের নিজ নিজ অবস্থানে সালাত আদায় করে ফেল। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৪৭৪]
জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। ঐ সময় বৃষ্টিপাত হওয়ায় তিনি সাহাবীদের বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজ ঘরে নামায আদায়ের ইচ্ছা করে সে তা করতে পারে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১০৬৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সালাত আদায়ের সময় কারো উযু নষ্ট হলেঃ
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন নামাযের মধ্যে তোমাদের কারো ওযু নষ্ট হয়, তখন সে যেন তার নাক ধরে বের হয়ে যায় (নাক ধরা ওযু নষ্টের পরিচায়ক)। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১১১৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
রাতের খানা ও ইকামাতঃ
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রাতের খানা যদি হাযির হয়ে পড়ে আর এদিকে সালাতের ইকামাত হয়ে যায়, তবে আগে খানা খেয়ে নিবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩৫৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
দাড়িয়ে সালাত আদায়ে অক্ষম হলেঃ
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ছিলেন অর্শরোগী, তিনি বললেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ যদি কেউ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তবে তা-ই উত্তম। আর যে ব্যাক্তি বসে সালাত আদায় করবে, তার জন্য দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব আর যে শুয়ে আদায় করবে তার জন্য বসে আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৪৯]
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ছিলেন অর্শরোগী, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায়কারী ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, যে ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করল সে উত্তম। আর যে ব্যাক্তি বসে সালাত আদায় করল তার জন্য দাঁড়ান ব্যাক্তির অর্ধেক সাওয়াব। আর যে শুয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল, তার জন্য বসে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সাওয়াব। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৫০]
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার অর্শরোগ ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম, তিনি বললেনঃ দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তাতে সমর্থ না হলে বসে; যদি তাতেও সক্ষম না হও তাহলে কাত হয়ে শুয়ে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৫১]
উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অধিক বয়সে পৌঁছার আগে কখনো রাতের সালাত (নামায/নামাজ) বসে আদায় করতে দেখেননি। (বার্ধক্যের) পরে তিনি বসে কিরাআত পাঠ করতেন। যখন তিন রুকূ’ করার ইচ্ছা করতেন, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং প্রায় ত্রিশ কিংবা চল্লিশ আয়াত তিলাওয়াত করে রুকূ’ করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৫২]
উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে সালাত আদায় করতেন। বসেই তিনি কিরাআত পাঠ করতেন। যখন তাঁর কিরাআতের প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করতেন, তারপর রুকূ’ করতেন; পরে সিজ্দা করতেন। দ্বিতীয় রাকা’আতেও অনুরূপ করতেন। সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করে তিনি লক্ষ্য করতেন, আমি জাগ্রত থাকলে আমার সাথে বাক্যালাপ করতেন আর ঘুমিয়ে থাকলে তিনিও শুয়ে পড়তেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৫৩]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘরাত পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত (কিরা'আত) আদায় করতেন তখন রুকু দাঁড়ানো অবস্থায় থেকে করতেন আর বসে সালাত আদায় করার সময় রুকুও বসা অবস্থায় করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৭৩]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স হয়ে গেলে এবং তার শরীর ভারী হয়ে গেলে তাঁর অধিকাংশ সালাত বসা অবস্থায় আদায় করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৮৪]
হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বসে নফল সালাত আদায় করতে দেখি নি। অবশেষে তার ইন্তিকালের এক বছর আগে থেকে নফল সালাত বসে আদায় করতেন এবং যে সূরা পাঠ করতেন তা এতই তারতীলের সাথে (স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে) পাঠ করতেন যে, তা এর চেয়ে দীর্ঘ সূরার চাইতেও দীর্ঘ হয়ে যেত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৮৫]
ইমরান ইবনে হোসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পাঁজরের মধ্যে ব্যথা থাকায় নামায আদায়কালে অসুবিধা হত। এ সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সম্ভব হলে তুমি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে, এতে অসুবিধা হলে বসে নামায পড়বে এবং তাতেও অপারগ হলে শুয়ে পার্শ্বদেশের উপর ভর করে নামায আদায় করবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৫২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
শয়তানের গিট দেয়াঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার গ্রীবাদেশে তিনটি গিট দেয়। প্রতি গিটে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত। তারপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঠ খুলে যায়, পরে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়, তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয়, প্রফুল্ল মনে ও নির্মল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৭৬]
সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়লে শয়তান তার কানে পেশাব করে দেয়ঃ
আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এক ব্যাক্তির সম্পর্কে আলোচনা করা হল- সকাল বেলা পর্যন্ত সে ঘুমিয়েই কাটিয়েছে, সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য (যথা সময়ে) জাগ্রত হয়নি, তখন (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেনঃ শয়তান তার কানে পেশাব করে দিয়েছে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৭৮]
রাতে ও দিনে তাহারাত (পবিত্রতা) হাসিল করার ফযীলতঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফজরের সালাতের সময় বিলাল (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে বিলাল! ইসলাম গ্রহণের পর সর্বাধিক আশাব্যঞ্জক যে আমল তুমি করেছ, তার কথা আমার নিকট ব্যক্ত কর। কেননা, জান্নাতে আমি আমার সামনে তোমর পাদুকার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। বিলাল (রাঃ) বললেন, দিন রাতের যে কোন প্রহরে আমি তাহারাত ও পবিত্রতা অর্জন করেছি, তখনই সে তাহারাত দ্বারা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি, যে পরিমাণ সালাত আদায় করা আমার তাকদীরে লেখা ছিল। আমার কাছে এর চাইতে (অধিক) আশাব্যঞ্জক হয়, এছাড়া কোন বিশেষ আমল আমি করিনি। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৮৩]
নিয়মিত ইবাদত ছেড়ে না দেয়াঃ
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আ’স (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আবদুল্লাহ! তুমি অমুক ব্যাক্তির মত হয়ো না, সে রাত জেগে ইবাদাত করত, পরে রাত জেগে ইবাদাত করা ছেড়ে দিয়েছে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৮৫]
আবূল আব্বাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমাকে কি জানানো হয়নি যে, তুমি রাতভর ইবাদাতে জেগে থাক, আর দিনভর সিয়াম পালন কর? আমি বললাম, হ্যাঁ, তা আমি করে থাকি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ একথা নিশ্চিত যে, তুমি এমন করতে থাকলে তোমার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাবে এবং তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তোমার দেহের অধিকার রয়েছে, তোমার পরিবার পরিজনেরও অধিকার রয়েছে। কাজেই তুমি সিয়াম পালন করবে এবং বাদও দেবে। আর জেগে ইবাদাত করবে ঘুমাবেও। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৮৬]
মসজিদে প্রবেশের পর দুই রাকাত নফল সালাত (তাহিয়্যাতুল মসজিদ) আদায় করাঃ
আবূ কাতাদা ইবনু রিব’আ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দু’ রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) (তাহিয়্যাতুল-মাসজিদ) আদায় করার আগে বসবে না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৯৪]
আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে, তখন বসার আগে দু-রাক’আত সালাত আদায় করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫২৭]
আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে গেলাম তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে বসেছিলেন। তিনি বলেন, আমিও বসে পড়লাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, বসার আগে দু-রাক’আত সালাত আদায় করা থেকে তোমাকে কিসে বিরত রাখল? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে বসা দেখলাম এবং লোকেরাও বসা ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে তখন দু-রাকআত সালাত আদায়ের আগে বসবে না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫২৮]
আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসা সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে পৌছে বসার পূর্বেই যেন দুই রাকাত (তাহিয়্যাতুল-মাসজিদ) নামায আদায় করে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৬৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
জুমু'আর খুতবার সময় কেউ প্রবেশ করলে বসার পূর্বে দুই রাকা'আত সালাত আদায় করাঃ
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবা প্রদান কালে ইরশাদ করলেনঃ তোমরা কেউ এমন সময় মসজিদে উপস্থিত হলে, যখন ইমাম (জুমু'আর) খুতবা দিচ্ছেন, কিংবা মিম্বরে আরোহেণের জন্য (হুজরা থেকে) বেরিয়ে পড়েছেন, তাহলে সে তখন যেন দু’ রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেয়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৯৭]
পাঁচ ওয়াক্তের (বার রাক’আত) নফল সালাতের ফযীলতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যুহরের আগে দু’ রাকা’আত, যুহ্রের পরে দু’ রাকা’আত, জুমু'আর পরে দু’ রাকা’আত, মাগরিবের পরে দু’ রাকা’আত এবং ইশার পরে দু’ রাকা’আত (সুন্নাত) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৯৬]
নূ'মান ইবনু সালিম (রাঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যাক্তি দিনে বার রাক’আত অতিরিক্ত (নিয়মিত) সালাত আদায় করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর বানানো হবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৬৮]
উম্মে হাবিবা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (সা) ইরশাদ করেন, যে ব্যাক্তি দৈনিক বার রাকাত নফল নামায আদায় করবে, এর বিনিময়ে আল্লাহ্ তাআলা তাঁর জন্য বেহেশতের মধ্যে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১২৫০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আব্দুল্লাহ ইবন শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলে, একদা আমি . আয়েশা (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ (সা) এর নামায (সুন্নাত/নফল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, তিনি (সা) যুহরের পূর্বে ঘরে চার রাকাত নামায আদায় করতেন। পুনরায় ঘরে ফিরে এসে তিনি দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি মাগরিবের ফরয নামায জামায়াতে আদায়ের পর ঘরে ফিরে এসে তিনি দুই রাকাত (সুন্নাত) নামায আদায় করতেন। তিনি (সা) রাতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ও বসে (নফল) নামায পড়তেন। তিনি দাঁড়িয়ে কিরাআত পাঠ করলে রুকু ও সিজদাও ঐ অবস্থায় করতেন এবং যখন তিনি বসে কিরাত পাঠ করতেন তখন রুকু সিজদাও ঐ অবস্থায় আদায় করতেন। তিনি সুবহে সাদিকের সময় দুই রাকাত (সুন্নাত) নামায আদায় করতেন। অতঃপর তিনি ঘর হতে বের হয়ে (মসজিদে গিয়ে) জামায়াতে ফজরের নামায আদায় করতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১২৫১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) যুহরের পূর্বে কোন কোন সময় দুই রাকাত নামায আদায় করতেন এবং যুহরের ফরয নামায আদায়ের পরও দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি মাগরিবের ফরযের পর ঘরে ফিরে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন।তিনি এশার ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি জুমুয়ার নামায আদায়ের পর ঘরে ফিরে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১২৫২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কোন অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত ছুটে যেত, তবে তিনি দিনের বেলা বার রাক'আত সালাত আদায় করে নিতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৬১৬]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নফল সালাত (নামায/নামাজ)-কে ফজরের দু’ রাকা’আত সুন্নাতের ন্যায় অধিক হিফাযত ও গুরুত্ব প্রদানকারী ছিলেন না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১০০]
উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণে আমি যুহরের আগে দু’ রাকা’আত, যুহরের পর দু’ রাকা’আত, মাগরিবের পর দু’ রাকা’আত, ইশার পর দু’ রাকা’আত এবং জুমু'আর পর দু’ রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি। তবে মাগরিবের ও ইশার পরের সালাত তিনি তাঁর ঘরে আদায় করতেন। ইবনু উমর (রাঃ) আরও বলেন, আমার বোন (উম্মুল মু’মিনীন) হাফসা (রাঃ) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর হওয়ার পর সংক্ষিপ্ত দু’ রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। [ইবনু উমর (রাঃ) বলেন,] এটি ছিল এমন একটি সময়, যখন আমরা কেউ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে হাজির হতাম না। (তাই সে সময়ের আমল সম্পর্কে উম্মুহাতুল মু’মিনীন অধিক জানতেন)। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১০৩]
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমি দশ রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) আমার স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে রেখেছি। যুহরের আগে দু’ রাকা’আত পরে দু’ রাকা’আত, মাগরিবের পরে দু’ রাকা’আত তাঁর ঘরে, ইশার পরে দু’ রাকা’আত তাঁর ঘরে এবং দু’ রাকা’আত সকালের (ফজরের) সালাত (নামায/নামাজ)-এর আগে। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, আর এ সময়টি ছিল এমন, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে (সাধারণত) কোন ব্যাক্তিকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হত না। তবে উম্মুল মু’মিনিন হাফসা (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, যখন মুআয্যিন আযান দিতেন এবং ফজর (সুবহে-সা’দিক) উদিত হত তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১১০]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের আগে চার রাকা’আত এবং (ফজরের আগে) দু’ রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) (কখনো) ছাড়তেন না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১১১]
মারসা’দ ইবনু আবদুল্লাহ ইয়াযানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উক্বা ইবনু জুহানী (রাঃ) এর কাছে গিয়ে তাঁকে বললাম, আবূ তামীম (রহঃ) সম্পর্কে এ কথা বলে কি আমি আপনাকে বিস্মিত করে দিব না যে, তিনি মাগরিবের (ফরয) সালাতের আগে দু’ রাকা’আত (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে থাকেন। উক্বা (রাঃ) বললেন, (এতে বিস্মিত হওয়ার কি আছে?) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে তো আমরা তা আদায় করতাম। আমি প্রশ্ন করলাম, তাহলে এখন কিসে আপনাকে বিরত রাখছে? তিনি বললেন, কর্মব্যস্ততা। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১১৩]
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি প্রতিদিন নিয়মিত বার রাক’আত সুন্নাত আদায় করবে, আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর বানিয়ে দিবেনঃ যোহরের পূর্বে চার রাকআত, এরপর দু’রাকআত, মাগরিবের পর দু’রাকআত এশার পর দু’রাকআত, ফজরের পূর্বে দু’রাকআত। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪১৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি যোহরের পূর্বে চার রাকআত এবং এর পর চার রাকআত সুন্নাত আদায় করবে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিবেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪২৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মাগরিবের পর ছয় রাকআত (নফল) সালাতের হাদিস যঈফঃ
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কেউ যদি মাগরিবের পর ছয় রাকআত (নফল) আদায় করে এবং এর মাঝে সে যদি কোন মন্দ কথা না বলে, তবে তাকে বার বছর ইবাদত করার সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৩৫, হাদিসের মানঃ যঈফ]
যদি কারো ফজরের সুন্নত বাদ পড়ে তবে সে তা কখন পড়বেঃ
কায়েস ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) দেখতে পান যে, এক ব্যাক্তি ফজরের ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকাত নামায আদায় করছে। মহানবী (সা) বলেন, ফজরের নামায দুই রাকাত। তখন ঐ ব্যাক্তি বলেন, আমি ইতিপূর্বে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করতে পারিনি, তা এখন আদায় করছি। তাঁর কথায় রাসুলুল্লাহ (সা) নিরব থাকেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১২৫২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে এলেন। সালাতের ইকামত দেওয়া হলো, আমিও তাঁর সঙ্গে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। সালাত থেকে ফিরে তিনি আমাকে সালাতরত দেখতে পেলেন। বললেনঃ হে কায়স! থাম, এইই সাথে দুই সালাত পড়ছ! আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি ফজরের দু’রাকআত সুন্নাত পড়তে পাড়িনি। তিনি বললেনঃ তা হলে অসুবিধা নেই। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪২২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কেউ যদি ফরযের পূর্বে ফজরের দু’রাকআত আদায় না করে থাকে, তবে সে যেন সূর্যোদয়ের পর তা আদায় করে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪২৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
নফল সালাত ঘরে আদায় করাঃ
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেনঃ তোমরা তোমাদের কিছু কিছু সালাত (নামায/নামাজ) ঘরে আদায় করবে, তোমাদের ঘরগুলকে কবর বানাবে না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১১৫]
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যুহরের পূর্বে দু' রাকআত ও তার পরে দু-রাক’আত, মাগরিবের পরে দু-রাকআত, ইশার পরে দু-রাক’আত এবং জুমু'আর পরে দু-রাক’আত সালাত আদায় করেছি। আর মাগরিব, ইশা, জুমু'আর (দু-রাকআত) সালাত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁর ঘরেই আদায় করেছি। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫৭১]
সালাতে পুরুষদের জন্য 'তাসবীহ্' ও মহিলাদের 'তাস্ফীক' করাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ (ইমামের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য) পুরুষদের বেলায় তাস্বীহ্-সুবহানাল্লাহ্ বলা। তবে মহিলাদের বেলায় 'তাস্ফীক'। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১৩০]
সাহ্ল ইবনু সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতে (দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে) পুরুষদের বেলায় 'তাসবীহ্' আর মহিলাদের বেলায় 'তাসফীহ্'। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১৩১]
* 'তাসফীক্' (تصفيق) এক হাতের তালু দ্বারা অন্য হাতের তালুতে আঘাত করা।
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নামাযের মধ্যে ইমামের কোনরূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে পুরুষেরা “সুবহানাল্লাহ” বলবে এবং স্ত্রীলোকেরা হাতের উপর হাত তালি মেরে শব্দ করবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৩৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সালাতে মুসল্লীর কোন বিষয় চিন্তা আসলেঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের আযান হলে শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে সে আযান না শুনতে পায়। তখন তার পশ্চাঁদ-বায়ূ নিঃসরণ হতে থাকে। মুআয্যিন আযান শেষে নিরব হলে সে আবার এগিয়ে আসে। আবার ইকামত বলা হলে পালিয়ে যায়। মুআয্যিন (ইকামত) শেষ করলে এগিয়ে আসে। তখন সে মুসল্লীকে বলতে থাকে, (ওটা) স্মরণ কর, যে বিষয় তার স্মরণে ছিল না শেষ পর্যন্ত সে কত রাকা'আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল তা মনে করতে পারে না। আবূ সালামা ইবনু আবদূর রহমান (রহঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ এরূপ অবস্থায় পড়লে (শেষ বৈঠকে) বসা অবস্থায় যেন দু'টি সিজ্দা করে। একথা আবূ সালামা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে শুনেছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১৪৯]
সিজ্দায়ে সাহু দেয়াঃ
আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়না (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু' রাকা'আত আদায় করে না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুসল্লিগণ তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। যখন সালাত (নামায/নামাজ) সমাপ্ত করার সময় হল এবং আমরা তাঁর সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করছিলাম, তখন তিনি সালাম ফিরানোর আগে তাক্বীর বলে বসে বসেই দু'টি সিজ্দা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১৫১]
আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়না (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহ্রের দু' রাকা'আত আদায় করে দাঁড়িয়ে গেলেন। দু' রাকা'আতের পর তিনি বসলেন না। সালাত (নামায/নামাজ) শেষ হয়ে গেলে তিনি দু'টি সিজ্দা করলেন এবং এরপর সালাম ফিরালেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১৫২]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু' রাকা'আত আদায় করে সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করলেন। যুল-ইয়াদাইন (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সালাত কি কম করে দেয়া দেওয়া হয়েছে, না কি আপনি ভুলে গেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, যুল-ইয়াদাইন কি সত্য বলছে? মুসল্লীগণ বললেন, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আরও দু' রাকা'আত সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং তাক্বীর বললেন, পরে সিজদা করলেন, স্বাভাবিক সিজ্দার মতো বা তাঁর চেয়ে দীর্ঘ। এরপর তিনি মাথা তুললেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১৫৫]
আবদুল্লাহ ইবনু বুহাইনা আসাদী (রাঃ) যিনি বনূ আবদুল মুত্তালিবের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তিবদ্ধ ছিলেন তাঁর থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহ্রের সালাত (দু' রাকা'আত আদায় করার পর) না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। সালাত (নামায/নামাজ) পূর্ণ করার পর সালাম ফিরাবার আগে তিনি বসা অবস্থায় ভুলে যাওয়া বৈঠকের স্থলে দু'টি সিজ্দা সম্পূর্ণ করলেন, প্রতি সিজ্দায় তাক্বীর বললেন। মুসল্লীগণও তাঁর সঙ্গে এ দু'টি সিজ্দা করল। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১৫৮]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে আযান শুনতে না পায় আর তার পশ্চাদ-বায়ূ সশব্দে নির্গত হতে থাকে। আযান শেষ হয়ে গেলে সে এগিয়ে আসে। আবার সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া হলে সে পিঠ ফিরিয়ে পালায়। ইকামত শেষ হয়ে গেলে আবার ফিরে আসে। এমন কি সে সালাতরত ব্যাক্তির মনে ওয়াস্ওয়াসা সৃষ্টি করে এবং বলতে থাকে, অমুক অমুক বিষয় স্মরণ করো, যা তার স্মরণে ছিল না। এভাবে সে ব্যাক্তি কত রাকা'আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে তা স্মরণ করতে পারে না। তাই, তোমাদের কেউ তিন রাকা'আত বা চার রাকা'আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে, তা মনে রাখতে না পারলে বসা অবস্থায় দু'টি সিজ্দা করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১৫৯]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ালে শয়তান এসে তাকে সন্দেহে ফেলে, এমনকি সে বুঝতে পারে না যে, সে কত রাকা'আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে। তোমাদের কারো এ অবস্থা হলে সে যেন বসা অবস্থায় দু'টি সিজ্দা করে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১১৬০]
ইবন আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি সিজদায়ে সাহূকে ‘‘মুরগামাতায়ন’’ নামকরণ করেছেন। (অর্থাৎ এই দুটি সিজদা শয়তানকে অপমান করে থাকে)। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১০২৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবদুল্লাহ ইবন বুহায়না (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাআতে নামায আদায় করার সময় দুই রাকাতের পর না বসে (ভুলবশত তৃতীয় রাকাতের) জন্য দন্ডায়মান হন এবং মুক্তাদীগণও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে যায়। নামায শেষে আমরা যখন সালামের অপেক্ষায় ছিলাম, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা অবস্থায় সালামের পূর্বে আল্লাহু আকবার বলে দুইটি সিজদা দেন এবং অতপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরান। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১০৩৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
যোহর বা আসরের দুই রাকআতে সালাম করে ফেললেঃ
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাকআতেই সালাম ফিরিয়ে ফেললেন। তখন যুল-ইয়াদায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! সালাত কি হ্রাস হয়ে গেল, না আপনি ভুল করেছেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যুল-ইয়াদায়ন কি সত্য বলছে? লোকেরা বললেনঃ জি, হ্যাঁ। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন এবং অবশিষ্ট দুই রাকআত আদায় করলেন। সালাম ফিরালেন, পরে তাকবীর বলে অনুরূপ বা আরো দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর মাথা তুললেন এবং অনুরূপ বা আরো দীর্ঘ সিজদা করলেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩৯৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সিজ্দায়ে সাহু-এর পর তাশাহ্হুদ পড়ার হাদিস যঈফঃ
ইমরান হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এতে তাঁর সাহু (ভুল) হয়ে গেল। অনন্তর তিনি সিজদা সাহু করলেন। এরপর তাশাহ্হুদ পাঠ করে সালাম ফিরালেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩৯৫, হাদিসের মানঃ যঈফ]
মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গেঃ
আল-খূযাঈ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লোকেরা মসজিদে পরস্পরের মধ্যে (নির্মাণ ও কারুকার্য নিয়ে) গর্ব না করা পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৪৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেন এবং তা পবিত্র, সুগন্ধিযুক্ত ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও নির্দেশ দেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৫৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ছবিযুক্ত ও কারুকার্য খচিত কাপড়ে সালাত আদায়ঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা একটি কারুকার্য খচিত চাদর গায়ে দিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। আর সালাতে সে চাদরের কারুকার্যের প্রতি তাঁর দৃষ্টি পড়ল। সালাত শেষে তিনি বললেনঃ এ চাদরখানা আবূ জাহমের কাছে নিয়ে যাও, আর তার কাছ থেকে আমবিজানিয়্যা (কারুকার্য ছাড়া মোটা চাঁদর) নিয়ে আস। এটা তো আমাকে সালাত থেকে অমনোযোগী করে দিচ্ছিল।
হিশাম ইবনু ‘উরওয়া (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ’আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সালাত আদায়ের সময় এর কারুকার্যের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে। তখন আমি আশংকা করছিলাম যে, এটা আমাকে ফিতনায় ফেলে দিতে পারে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৩৬৬]
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‘আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে একটা বিচিত্র রঙের পাতলা পর্দার একটা কাপড় ছিল। তিনি তা ঘরের একদিকে পর্দা হিসাবে ব্যাবহার করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার সম্মুখ থেকে এই পর্দা সরিয়ে নাও। কারণ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার সময় এর ছবিগুলো আমার সামনে ভেসে ওঠে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৩৬৭]
নামাযের মধ্যে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা সম্পর্কেঃ
ইবনু মাস্উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি নামাযের মধ্যে অহংকার করে স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র (লুঙ্গী, জামা, পাজামা বা প্যান্ট গোছার নীচে পর্যন্ত) ঝুলিয়ে রাখে, ঐ ব্যক্তির ভাল বা মন্দের ব্যপারে আল্লাহ্ তা’আলার কোন দায়িত্ব নেই (তার জন্য জান্নাত হালাল করবেন না। এবং দোযখ হারাম করবেন না, অথবা তার গুনাহ্ মাফ করবেন না এবং তাকে খারাপ কাজ থেকে বাচিয়ে রাখবেন না।) [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬৩৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
কয়টা কাপড় পরিধান করে নামায পড়া জায়েজঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক কাপড়ে নামায আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কি দুইটি করে কাপড় আছে? [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬২৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বাহুদ্বয় খোলা রেখে এক বস্ত্রে নামায না পড়ে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬২৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোন বস্ত্র পরিধান করে নামায পড়বে তখন সে যেন তার আচল কাঁধের উপর বিপরীতমুখী করে রাখে (যাতে কাঁধ ঢাকা থাকে)। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬২৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
এক কাপড়ে সালাত আদায় করাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ তার কাঁধের উপর একাংশ থাকে না- এইভাবে এক কাপড় পরিধান করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৩৪]
উমার ইবনু আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উম্মু সালামার গৃহে এক কাপড় পরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি। তিনি তার দুই প্রান্ত কাঁধের উপর রেখেছিলেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৩৫]
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে দেখলাম, তিনি একটি চাটাইয়ের উপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছেন ও তার উপর সিজদা করছেন। আরও দেখলাম, তিনি এক কাপড়ে তাওয়াশশুহ করে সালাত আদায় করছেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ১০৪২]
নারীদের মসজিদে যাওয়া প্রসঙ্গেঃ
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর বান্দীদেরকে আল্লাহর মসজিদে যেতে নিষেধ করবে না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮৭৪]
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের স্ত্রীগণ মসজিদে যেতে অনুমতি চাইলে তাদেরকে মসজিদে যেতে অনুমতি দিবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮৭৫]
আবদুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে নারী মসজিদে আসবে, সে যেন খোশবূ স্পর্শও না করে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮৮১]
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি সালাত (নামায/নামাজ) আরম্ভ করি এবং দীর্ঘ সালাত আদায়ের ইচ্ছা করি, কিন্তু যখনই শিশুরু কান্না শুনতে পাই তখনই মায়ের কষ্ট অনুভব করে সালাত সংক্ষিপ্ত করি। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৪০]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর বান্দীদের (স্ত্রীলোকদের) আল্লাহর মসজিদে যাতায়াতে নিষেধ কর না। কিন্তু খুশবু ব্যবহার না করে তারা মসাজিদে যাবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের মসজিদ সমূহে যাতায়াতের বাধা দিও না। কিন্তু তাদের ঘরসমূহই তাদের (নামাযের জন্য)-উত্তম স্থান। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস্উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ মহিলাদের ঘরে নামায আদায় করা- বৈঠকখানায় নামায আদায় করার চাইতে উত্তম এবং মহিলাদের সাধারণ থাকার ঘরে নামায আদায় করার চেয়ে গোপন প্রকোষ্ঠে নামায আদায় করা অধিক উত্তম। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৭০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মহিলারা ওড়না ছাড়া নামায আদায় করা সম্পর্কেঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ প্রাপ্ত বয়সী মহিলারা ওড়না ছাড়া নামায আদায় করলে তা আল্লাহর নিকটে কবুল হবে না। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬৪১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সন্তানদের কখন থেকে নামায পড়ার নির্দেশ দিতে হবেঃ
আবদুল মালিক থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হয়, তখন তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দাও এবং যখন তাদের বয়স দশ বছর হবে তখন নামায না পড়লে এজন্য তাদের শাস্তি দাও। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আমর ইবনু শুআয়েব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের সন্তানরা সাত বছরে উপনীত হবে, তখন তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দেবে এবং তাদের বয়স যখন দশ বছর হবে তখন নামায না পড়লে এজন্য তাদেরকে মারপিট কর এবং তাদের (ছেলে-মেয়েদের) বিছানা পৃথক করে দিবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৯৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সাবরা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সাত বৎসর হলে শিশুদের সালাত (নামায/নামাজ) শিক্ষা দিবে আর দশ বৎসরের হলে এই বিষয়ে (প্রয়োজনবোধে) প্রহার করবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪০৭, হাদিসের মানঃ হাসান]
দু'আর ফযিলতঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের দোয়া কবুল হয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি তার জন্য তারাহুড়া করে এবং এরূপ বলতে থাকে যে, আমি দু’আ করলাম অথচ তা কবুল হয় নাই। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪৮৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে কখনও হাতের পেটের দ্বারা এবং কখনও পিঠের দ্বারা দু’আ ( ইসতিসকার নামাযে) করতে দেখেছি। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪৮৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : তোমাদের রব চিরঞ্জীব ও মহান দাতা। যখন কোন বান্দাহ হাত উঠিয়ে দু’আ করে, তখন তিনি তার খালি হাত ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪৮৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে এরূপ দুআ করতে শুনেন “ ইয়া আল্লাহ্। আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি এবং আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, তুমিই আল্লাহ্ এবং তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তুমি একক এবং অমুখাপেক্ষী যার কোন সন্তান নাই এবং যিনি কারও সন্তান নন যার সমকক্ষ কেউই নাই। “তখন তিনি (সা) বলেন তুমিই আল্লাহ্র নিকট তাঁর নাম ধরে প্রার্থনা করেছ, যখন এরূপে কেউ দু’আ করে তখন আল্লাহ্ তা প্রদান করেন এবং এরূপে দু’আ করলে তিনি তা কবুল করে থাকেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪৯৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে বসে ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি নামায শেষে এরূপ দু’আ করতে থাকে “ ইয়া আল্লাহ। আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। তুমিই সমস্ত প্রশংসার মালিক, তুমি ছাড়া আর কোন দানকারী ইলাহ নাই, তুমিই আসমান ও যমীনসমূহের সৃষ্টিকরী, হে মহান শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ও মহান দাতা, হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর।“ এতদশ্রবণে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই ব্যক্তি আল্লাহ্র নিকট তাঁর মহান নামের মাধ্যমে দু’আ করেছে এবং যদি কেউ এরূপে দু’আ করে, তবে তা অবশ্যই কবুল হবে। আর যদি কেউ এরূপে চায়, তবে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪৯৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
দু'আর সময় মুখমণ্ডল মাসেহ করার হাদিস যঈফঃ
আস- সাইব ইবন য়াযীদ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম দু’আর সময় তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন এবং তাঁর দ্বারা মুখমণ্ডল মাসেহ করতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪৯২, হাদিসের মানঃ যঈফ]
আঙ্গুলের দ্বারা তাসবীহ গননা করা ও এর ফযীলতঃ
হুমায়সাহ বিনতে য়াসির (রহঃ) য়ুসায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁকে এই মর্মে খবর দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে (মহিলা) তাকবীর (আল্লাহু আকবর), তাকদীস (সুবহানাল্লাহ) ও তাহলীল ( লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) –এর শব্দগুলিকে হিফাজত ও গণনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসব আঙ্গুলের গিরার দ্বারা গণনা করতে বলেছেন। কেননা কিয়ামতের দিন আঙ্গুলসমুহকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং তারা এর স্বীকৃতি প্রদান করবে (সাক্ষ্য দিবে)। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫০১, হাদিসের মানঃ হাসান]
তাসবীহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা) অর্থাৎ ‘সুবহান আল্লাহ’ পাঠ করা
তাহমীদ (প্রশংসা করা) অর্থাৎ আলহামদুলিল্লাহ পড়া
তাকবীর (আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা) অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করা।
তাহলীল (আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করা) অর্থাৎ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা।
ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম জুওয়ায়রিয়া (রাঃ) –র ঘর হতে (সকালে) বের হন এবং তার পূর্বের নাম ছিল বাররা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম পরিবর্তন করে জুওয়ায়রিয়া রাখেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘর হতে বের হওয়ার সময়ও তাঁকে জায়নামাজের উপর দেখেন এবং ফিরে এসেও তাঁকে ঐ অবস্থায় দেখতে পান। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এতক্ষণ এই জায়নামাযের উপরেই ছিলে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার এখান থেকে জাবার পর আমি চারটি কলেমা তিনবার করে পড়েছি- তার ওজন করা হলে তোমার পঠিত যিকিরের তুলনায় তাদের ওযন বেশী হবে। তার একটি হল “সুবহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহি”, এটা আল্লাহ্র সৃষ্ট সমস্ত মখলুকের সম-সংখ্যক। তা পাঠের ফলে আল্লাহ্ রাযী হন, তার ওজন পবিত্র আরশের সমান এবং তাঁর (আল্লাহ্র) সমস্ত বাক্যের সম-সংখ্যক। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫০৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু যার (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বিওশালীরা দান-সদকার দ্বারা আমাদের হতে আমলের মধ্যে অগ্রগামী। আমাদের মত তারাও নামায আদায় করে থাকে। তারা আমাদের মত রোযা রেখে থাকে এবং তারা তাদের অতিরিক্ত ধন-সম্পদ দান-সদকাহ করে অধিক ফযীলতের অধিকারী হচ্ছে এবং আমাদের দান-সদকাহ করার মত কোন ধন-সম্পদ নাই। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিক্ষা দিব না, যার উপর আমল করে তুমি তোমার চাইতে অগ্রগামীদের ( ফযীলতের দিক দিয়ে) সমকক্ষ হতে পার এবং পশ্চাতে যারা আছে, তারা কখনই তোমার সমকক্ষ হতে পারবে না? অবশ্য যারা তোমার মত আমল করবে (তারা তোমার সমান হবে)। তিনি বলেন: হাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি আমাকে তা শিক্ষা দিন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি প্রত্যেক নামাযের শেষে “আল্লাহু আকবার” ৩৩ বার, “আলহামদুলিল্লাহ” ৩৩ বার এবং “সুবহানাল্লাহ” ৩৩ বার বলবে এবং সবশেষে পড়বে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল-মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর”। যে ব্যক্তি এই দুআ পাঠ করবে, তার গোনাহের পরিমাণ যদি সমুদ্রের ফেনারাজির মত অসংখ্যও হয়, তা মার্জিত হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫০৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
নামাযের সালাম শেষে কি দু'আ পড়বেঃ
মুগীর ইবন শোবা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম নামাযের সালাম ফিরাবার পর কোন দু’আ পাঠ করতেন এটা জানার জন্য আমীরে মুআবিয়া (রাঃ) মুগীরাকে পত্র লিখেছিলেন। অতঃপর মুগীর (রাঃ) মুআবিয়া (রাঃ)- র নিকট এই মর্মে পত্রোত্তরে জানান যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল-মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর। আল্লাহুম্মা লা মানেআ লিমা আতায়তা, ওলা মুতিয়া লিমা মানা’তা, ওলা লা য়ানফাঊ যাল-জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫০৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবু যুবায়ের (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন যুবায়ের (রাঃ)-কে মিম্বরের উপর দণ্ডায়মান হয়ে ভাষণ দানকালে বলতে শুনেছিঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম নামায শেষে এই দু’আ করতেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল-মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলেসীনা লাহুদ্দীন ও লাও কারিহাল কাফিরূন। আহলুন-নি’মাতে ওয়াল ফাদলে, ওয়াছ-ছানাইল হুসনে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলেসীনা লাহুদ্দীন,ওয়ালাও কারিহাল কাফিরূন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫০৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরূপ দু’আ পাঠ করতেন: রাব্বী আইন্নী ওয়ালা তুইন আলায়্যা, ওয়ানসুরনা ওয়ালা তানসুর আলাইয়্যা, ওয়ামকুর লী ওয়ালা তামকুর আলইয়্যা, ওয়াহদিনী ওয়া ইয়াসসির হুদায়া আলাইয়্যা, ওয়ানসুরনী আলা মান বাগা আলাইয়্যা। আল্লাহুম্মা ইজআলনী লাকা শাকেরান লাকা রাহেবান লাকা মিতাওয়াআন ইলায়কা, মুখবিতান আও মুনিবান রব্বি তাকাব্বাল তাওবাতী,ওয়াগছিল হাওবাতী, আজিব দাও’য়াতী, ওয়াছাব্বিত হুজ্জাতী, ওয়াহদে কালবী, ওয়া সাদ্দিদ লিসানী, ওয়াসলুল সাখীমাতা কালবী। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫১০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সালামের পর নামায শেষে এই দু’আ পাঠ করতেনঃ আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিঙ্কাস সালাম তাবারকতা ইয়া যাল-জালালে ওয়াল ইকরাম। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫১২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদক্রিত গোলাম ছাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শেষ করতেন, তখন তিনিবার ইস্তিগফার পাঠ করতেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেনঃ আল্লাহুম্মা আনতাস-সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালে ওয়াল ইকরাম। সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫১৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করাঃ
ইব্ন উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে মসজিদে অবস্থানকালে একই বৈঠকে নিম্নোক্ত দু’আটি একশত বার পাঠ করতে-গণনা করেছিঃ রাব্বিগফির্ লী ওয়াতুব্ আলায়্যা ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়াবুর রাহীম। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫১৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আব্দুল আযীয ইব্ন সুহায়েব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা কাতাদা (রাঃ) আনাস (রাঃ)-র নিকট জিজ্ঞসা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম কোন দু’আ অধিক পাঠ করতেন? তখন তিনি বলেনঃ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় এই দু’আ পাঠ করতেনঃ আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ্-দুন্য়া হাসানাতাও ওয়া ফিল্ আখিরাতে হাসানা ওয়াকিনা আযাবান্নার।
রাবী যিয়াদ আরো অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন যে, . আনাস (রাঃ) যখন দু’আ করতেন তখন এই দু’আটি করতেন। আর যখন তিনি অতিরিক্ত দু’আ করতে চাইতেন, তখনও এই দু’আ করতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫১৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবু উমামা ইব্ন সাহ্ন হুনায়ফ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি খাঁটি অন্তরে শাহাদাত প্রাপ্তির কামনা করে, ঐ ব্যক্তি নিজের বিছানায় মারা গেলেও আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫২০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মুআয ইব্ন জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত ধরে বলেন, হে মুআয! আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালবাসি। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তোমাকে কিছু ওসয়িত করতে চাই; তুমি নামায পাঠের পর এটা কোন সময় ত্যাগ করবে না। তা হলঃ “আল্লাহুম্মা আইন্নী আলা যিক্রিকা ওয়া শুক্রিকা ওয়া হুস্নি ইবাদাতিক।” অতঃপর মুআয (রাঃ) আল্-সানাবিহীকে এরূপ ওসীয়ত করেন এবং আল্-সানাবিহী আবু আব্দুর রহমানকে এরূপ ওসীয়ত করেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫২২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা ও দু'আ করাঃ
উক্বা ইব্ন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রত্যেক নামাযের পর সূরা ফালাক ও সূরা নাস্ পাঠের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫২৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আস্মা বিনতে উমায়েস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিব না, যা তুমি বিপদাপদের সময় পাঠ করতে পার? অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহু, আল্লাহু রাব্বী, লা উশ্রিকু বিহি শায়আন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫২৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবু উছমান আল্-নাহ্দী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মূসা আল্-আশ্আরী (রাঃ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম। অতঃপর তাঁরা মদীনার নিকটবর্তী হলে লোকেরা উচ্চস্বরে আক্বীর ধ্বনি (আল্লাহু আকবার) দেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তো কোন বধীর এবং অনুপস্থিত ব্যক্তিকে আহবান করছ না, বরং তোমরা (ঐ মহান আল্লাহকে) স্মরণ করছ, যিনি তোমাদের শাহ্ রগেরও নিকটবর্তী। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবূ মূসা! আমি কি তোমাকে এমন একটি জিনিসের কথা অবহিত করব, যা জান্নাতের ভান্ডার (খাজানাহ) স্বরূপ? তখন আমি বলিঃ সেটা কি? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫২৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবু সাঈদ খুদ্রী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি বলে, আমি রব হিসাবে আল্লাহকে, দীন হিসেবে ইসলামকে এবং রাসূল হিসাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে পেয়ে সন্তুষ্ট – তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫২৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে, ব্যক্তি আমার উপর এক বার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫৩০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আওস ইব্ন আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট দিন হলো জুমআর দিন। তোমরা ঐ দিনে আমার উপর অধিক দরূদ পাঠ করবে। কেওননা তোমাদের দরূদ আমার নিকট পেশ করা হয়ে থাকে। রাবী বলেন, সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার দেহ মোবারক চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে মাটির সাথে মিশে যাবে, তখন কিরূপে তা আপনার সামনে পেশ করা হবে? জবাবে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তাআলা যমীনের জন্য নবীদের শরীরকে হারাম করে দিয়েছেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫৩১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবু দার্দা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ যখন কেউ তার মুসলিম ভ্রাতার জন্য তার অনুপস্থিতিতে দু’আ করে তখন ফেরেশ্তাগণ বলেন, আমীন! তখন দু’আকারীর জন্যও অনুরূপ হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবু বুরদা ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁর পিতা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, যখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সম্প্রদায়ের তরফ হতে কোনরূপ বিপদের আশংকা করতেন তখন এরূপ বলতেনঃ “ইয়া আল্লাহ! আমরা আপনাকে তাদের সাথে মুকাবেলার জন্য যথেষ্ট মনে করি এবং তাদের অত্যাচার-অবিচার হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি” (আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফী নুহূরিহিম ওয়া নাউযুবিকা মিন শুরূরিহিম)। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি শারীরিক দুর্বলতা হতে, অলসতা হতে, কাপুরুষতা হতে, কৃপণতা হতে এবং বায়োবৃদ্ধিজনিত ক্লান্তি বা কষ্ট হতে এবং আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি কবরের আযাব হতে, এবং আমি আরো আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি জীবন-মৃত্যুর ফিত্না হতে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫৪০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবুল ইয়ুস্র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরূপ দু’আ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঘর-বাড়ী ভেংগে চাপা পড়া হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, উচ্চ স্থান হতে পতিত হওয়ার ব্যাপার হতে, পানিতে ডুবে, আগুনে জ্বলা ও অধিক বায়োবৃদ্ধি হতে তোমার আশ্রয় কামনা করছি এবং আমি তোমার নিকট মৃত্যুর সময় শয়তানের প্ররোচনা হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার নিকট যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যু হতে তোমার আশ্রয় কামনা করি এবং আমি তোমার নিকট (সাপ, বিচ্ছুর) দংশনজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করা হতে বাঁচার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৫৫২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সালাতে হাই তোলা মাকরূহঃ
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ সালাতে হাই তোলা শয়তান থেকে হয়। সুতরাং কারো যদি হাই আসে তবে সে যেন যথাশক্তি তা রোধ করে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩৭০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
বসে সালাত আদায় করার সওয়াব দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের অর্ধেকঃ
ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বসে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ কেউ যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তবে তার জন্য উত্তম। বসে সালাত আদায় করলে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার অর্ধিক সওয়াব পাবে। আর শুয়ে সালাত আদায় করলে সে বসে সালাত আদায়ের অর্ধেক সওয়াব পাবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩৭১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উম্মুল মুমিনীন হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের এক বৎসর পূর্ব পর্যন্ত নফল সালাত বসে আদায় করতে আমি তাঁকে দেখিনি। তারপর থেকে তিনি (মাঝে মাঝে) নফল সালাত বসে আদায় করতেন। সূরা পড়তেন স্পষ্ট করে এবং ধীরে ধীরে। আর তাঁর কিরাআত হতো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩৭৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
তাওবার জন্য সালাতঃ
আসমা ইবনু হাকাম আল-ফাযারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যখন কোন হাদীস শুনতাম তখন আল্লাহ্ যতটুকু চেয়েছেন আমি এ দ্বারা ততটুকু উপকৃত হয়েছি। তাঁর কোন সাহাবী যখন আমার কাছে কোন হাদীস বর্ণনা করেন আমি তাকে কসম করে বলতে বলি। তিনি কসম করলে আমি তা সত্য বলে গ্রহণ করে নেই। এখন যে হাদীসটি বলছি, সেটি আমাকে আবূ বকর বর্ণনা করেছেন। আর আবূ বকর অবশ্যই সত্য বলেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তি যদি কোন গুনাহ করে বসে, এরপর সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে ও আল্লাহর নিকট মাফ চায়, তবে আল্লাহ্ তা’আলা অবশ্যই তার গুনাহ মাফ করে দেন। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ
আর যারা মনদকাজ করে ফেলে বা নিজের প্রতি যুলুম করে বসে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের গুনাহর জন্য ক্ষমা চায়, (তারাও মুত্তাকীদের অন্তর্ভূক্ত)। আল্লাহ্ ব্যতীত কে গুনাহ মাফ করবে?’’ (৩ঃ১৩৫)। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪০৬, হাদিসের মানঃ হাসান]
মুগীরা ইবনু শু'বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন যে, তাঁর উভয় পা ফুলে গিয়েছিল। তখন তাঁকে বলা হ’ল, আপনি এত কষ্ট করছেন অথচ আপনার পূর্বপর সকল ক্রটি-বিচ্যুতই তো মাফ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি উত্তরে বললেনঃ তবে কি আমি কৃতজ্ঞ বান্দা হব না? [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪১২, হাদিসের মানঃ সহিহ]