Thursday, August 15, 2019

সালাত সম্পর্কে বিস্তারিত হাদিস - ১


আসসালামু আলাইকুম। একটা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হল যে, আমাদের দেশে মাজহাবের দোহাই দিয়ে অনেক সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে আমল বা সুন্নাহকে অস্বীকার করা হয় এবং ফিতনা বলা হয়। নাউজুবিল্লাহ! মাজহাব আগে নাকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস? মাজহাবের ইমামগণ কিন্তু ভুল করেন নাই। সকল ইমামই বলেন গেছেন, তার কথার বিপরীতে সহীহ হাদিস পেলে সেটাই অনুসরণ করতে এবং সেটাই তার মাজহাব। কোন কিছু ফরয করার অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের। তাহলে মাজহাবের সৃষ্টি তো অনেক পরে। কাজেই মাজহাব মানা ফরয হয় কিভাবে? সহীহ হাদিস মানা ইমামদের অবমাননা করা নয় বরং তাদেরকে প্রকৃত সম্মান করা। মাজহাবের দোহাই দিয়ে সহীহ হাদিসকে অস্বীকার করা মানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে অস্বীকার করা অর্থাৎ গোমরাহি।

কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম বান্দার যে আমলের হিসাব নেয়া হবে তা হল সালাত। তাই আসুন, সহীহ হাদিসের আলোকে সালাত সম্পর্কে জানার ও সেই অনুযায়ী আমল করার চেষ্টা করি ইনশাআল্লাহ।

পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ হওয়াঃ  
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবূ যার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমার ঘরের ছাদ খুলে দেয়া হল। তখন আমি মক্কায় ছিলাম। তারপর জিবরীল (আঃ) এসে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। আর তা যমযমের পানি দিয়ে ধুইলেন। এরপর হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। তারপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আসমানের দিকে নিয়ে চললেন। যখন দুনিয়ার আসমানে পৌঁছালাম, তখন জিবরীল (আঃ) আসমানের রক্ষককে বললেনঃ দরযা খোল। তিনি বললেনঃ কে? উত্তর দিলেনঃ আমি জিবরীল, আবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ আপনার সঙ্গে আর কেউ আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আমার সঙ্গে মুহাম্মদ। তিনি আবার বললেনঃ তাঁকে কি আহবান করা হয়েছে? তিনি উত্তরে বললেনঃ হাঁ।
তারপর আসমান খোলা হলে আমরা প্রথম আসমানে উঠলাম। সেখানে দেখলাম, এক লোক বসে আছেন এবং অনেকগুলো মানুষের আকৃতি তাঁর ডান পাশে রয়েছে এবং অনেকগুলো মানুষের আকৃতি বাম পাশেও রয়েছে। যখন তিনি ডান দিকে তাকাচ্ছেন, হাসছেন আর যখন তিনি বাম দিকে তাকাচ্ছেন, কাঁদছেন। তিনি বললেনঃ খোশ আমদেদ, হে পুণ্যবান নাবী! হে নেক সন্তান! আমি জিবরীল (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ ইনি কে? তিনি বললেনঃ ইনি আদম (আঃ)। আর তাঁর ডানে ও বায়ে তাঁর সন্তানদের রুহ। ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বা দিকের লোকেরা জাহান্নামী। এজন্য তিনি ডান দিকে তাকালে হাসেন আর বাঁ দিকে তাকালে কাঁদেনতারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশে উঠলেন। সেখানে উঠে রক্ষক কে বললেনঃ দরযা খোল। তখন রক্ষক প্রথম আসমানের রক্ষকের অনুরুপ প্রশ্ন করলেন। তারপর দরযা খুলে দিলেন।
আনাস (রাঃ) বলেনঃ এরপর আবূ যার বলেনঃ তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসমানসমূহে আদম (আঃ), ঈদরীস (আঃ), মূসা (আঃ), ‘ঈসা (আঃ), ও ইবরাহীম (আঃ)-কে পেলেন। আবূ যার (রাঃ) তাঁদের অবস্থান নির্দিষ্ট ভাবে বলেন নি। কেবল এতটুকু বলেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদম (আঃ)-কে প্রথম আসমানে এবং ইবরাহীম (আঃ)-কে ষষ্ট আসমানে পেয়েছেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ যখন জিবরীল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইদরীস (আঃ) এর পাশ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ঈদরীস (আঃ) বললেনঃ খোশ আমদেদ! পুণ্যবান নাবী ও নেক ভাই! আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল (আঃ) বললেনঃ ইনি ঈদরীস (আঃ)। তারপর আমি মূসা (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ খোশ আমদেদ! পূণ্যবান রাসূল ও নেক ভাই। আমি বললাম ইনি কে? জিবরীল (আঃ) বললেনঃ মূসা (আঃ)। তারপর আমি ঈসা (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ খোশ আমদেদ! পুণ্যবান রাসূল ও নেক ভাই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল (আঃ) বললেনঃ ইনি ঈসা (আঃ)।
তারপর ইবরাহীম (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ খোশ আমদেদ! পুণ্যবান নাবী ও নেক সন্তান। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল (আঃ) বললেনঃ ইনি ইবরাহীম (আঃ)। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন যে, ইবনু হাযম আমাকে খবর দিয়েছেন ইবনু আব্বাস ও আবূ হাব্বা আনসারী (রাঃ) উভয়ে বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তারপর আমাকে আরো উপরে উঠানো হল, আমি এমন এক সমতল স্থানে উপনীত হলাম, যেখান থেকে কলমের লেখার শব্দ শুনতে পেলাম। ইবনু হাযম (রহঃ) ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তারপর আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) ফরয করে দিলেন। আমি এ নিয়ে প্রত্যাবর্তনকালে যখন মূসা (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ আপনার উম্মতের উপর আল্লাহ কি ফরয করেছেন? আমি বললামঃ পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তিনি বললেনঃ আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান। কারণ আপনার উম্মত তা আদায় করতে সক্ষম হবে না।
আমি ফিরে গেলাম। আল্লাহ পাক কিছু অংশ কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা (আঃ) এর কাছে আবার গেলাম আর বললামঃ কিছু অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেওয়া হল। আবার মূসা (আঃ) এর কাছে গেলাম, এবারো তিনি বললেনঃ আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না। তখন আমি আবার গেলাম, তখন আল্লাহ বললেনঃ এই পাঁচই (সওয়াবের দিক দিয়ে) পঞ্চাশ (গণ্য হবে)। আমার কথার কোন পরিবর্তন নেই। আমি আবার মূসা (আঃ) এর কাছে আসলে তিনি আমাকে আবারো বলললেনঃ আপনার রবের কাছে আবার যান। আমি বললামঃ আবার আমার রবের কাছে যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। আর তখন তা বিভিন্ন রঙে ঢাকা ছিল, যার তাৎপর্য আমার জানা ছিল না। তারপর আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হল। আমি দেখলাম তাতে মুক্তার হার রয়েছে আর তাঁর মাটি কস্তুরি। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৩৪২]

তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, একদা নজদের জনৈক অধিবাসী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এমতাবস্হায় আগমন করে যে, তার মাথার চুল ছিল উষ্কখুষ্ক, তার মুখে বিড়বিড় শব্দ শোনা যাচ্ছিল এবং তার কথাগুলি ছিল অস্পট। এমতাবস্থায় সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটবর্তী হয়ে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। জবাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ দিবা রাত্রির মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ফরয। তখন সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, তা ছাড়া তাঁর কিছু করণীয় আছে কি? জবাবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না, যদি তুমি অতিরিক্ত (নফল) কিছু আদায় কর। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিকট রমযানের রোযার কথা উল্লেখ করেন। তখন সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, এ ছাড়া অধিক কিছু করণীয় আছে কি? জবাবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না, কিন্তু যদি তুমি অতিরিক্ত কিছু কর। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য ছদকার (যাকাত) কথা উল্লেখ করেন। তখন সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে- এ ছাড়া অতিরিক্ত কিছু দিতে হবে কি? জবাবে তিনি বলেন, না- তবে যদি তুমি অতিরিক্ত কিছু দান কর। অতঃপর লোকটি প্রত্যাবর্তনের সময় বললঃ আল্লাহর শপথ! আমি এর চেয়েে বেশী বা কম করব না। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ লোকটি যদি তার কথায় সত্য হয়- তবে সে অবশ্যই কামিয়াব (কৃতকার্য) হল। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩৯১, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, মিরাজ রজনীতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয হয়েছিল পরে তা কমিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়। এপর বলা হল, হে মুহাম্মাদ আমার কথার কোন রদ বদল হয় না। আপনার জন্য এই পাঁচ ওয়াক্তের ছওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তেরই সমান। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২১৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

মালিক ইবনু সাসাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কা'বার নিকট তন্দ্রাচ্ছন্নাবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম, তিনজনের একটি দলের মধ্যবর্তী ব্যাক্তিটি এগিয়ে আসল। আমার নিকট হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হল। তারপর ঐ ব্যাক্তি আমার সিনার অগ্রভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত বিদীর্ণ করলো। তারপর যমযমের পানি দ্বারা কল্‌বধৌত করলো। তারপর হিকমত ও ঈমান দ্বারা তা ভরে দেয়া হল। পরে আমার নিকট আকারে খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং গাধার চেয়ে বড় এরূপ একটি জন্তু আনা হল। আমি জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে চলতে থাকি। পরে আমরা দুনিয়ার (নিকতবর্তী) আকাশ পর্যন্ত পৌঁছি। তখন বলা হল, কে? জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বললেন, (আমি) জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বলা হল, তাঁকে আনার জন্য কি দূত প্রেরণ করা হয়েছে? তাঁকে স্বাগতম, তাঁর আগমন কতই না শুভ।
এরপর আমি আদম (আলাইহিস সালাম) এর নিকট আসলাম, তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, স্বাগতম (হে) পুত্র ও নাবী। তারপর আমরা দ্বিতীয় আসমানে আসলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, কে? জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বললেন, (আমি) জিবরীল। বলা হল, আপনার সঙ্গে কে? জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পুর্ববৎ তাঁকে স্বাগতম জানানো হল। এরপর আমি ইয়াহ্‌ইয়া ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাম) এর নিকট আসলাম এবং তাঁদের উভয়কে সালাম দিলাম। তাঁরা বললেন স্বাগতম (হে) ভাই ও নাবী। তারপর আমরা তৃতীয় আসমানে আসলাম। এখানেও জিজ্ঞাসা করা হল, কে? তিনি বললেন, আমি জিবরীল। বলা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পুর্ববৎ তাঁকে স্বাগতম জানানো হল। এখানে আমি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনিও বললেন, স্বাগতম (হে) ভাই ও নাবী। এরপর আমরা পঞ্চম আসমানে আসলাম। এখানেও পুর্ববৎ প্রশ্নোত্তর হল ও সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হল। পরে আমি হারুন (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, স্বাগতম (হে) ভাই ও নাবী। এরপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে আসলাম। এখানেও প্রশ্ন উত্তর সম্বর্ধনার পর আমি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, স্বাগতম (হে) ভাই ও নাবী।
আমি যখন তাঁকে অতিক্রম করে যাই, তখন তিনি কাঁদতে থাকেন। জিজ্ঞাসা করা হল আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, হে আমার রব! এ যুবক, যাকে আপনি আমার পর নাবীরূপে প্রেরণ করেছেন, আমার উম্মত হতে যত সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাঁর উম্মত থেকে তার চেয়ে অধিক সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাঁরা মর্যাদায় হবেন শ্রেষ্ঠতর। তারপর আমরা সপ্তম আসমানে আসলাম। এখানেও পূর্বের ন্যায় প্রশ্ন-উত্তর ও সম্বর্ধনার পর আমি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করলাম। তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, খোশ আমদেদ স্বাগতম (হে) পুত্র ও নাবী। তারপর আমার সামনে বায়তুল মামূর তুলে ধরা হল। আমি জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ কোন্‌ স্থান? তিনি বললেন, এ বায়তুল মামূর। এখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশ্‌তা সালাত আদায় করেন। একদিনে যারা এখানে সালাত আদায় করেন, তারা এখানে কোনদিন প্রত্যাবর্তন করবেন না। এটাই তাদের শেষ (প্রবেশ)। তারপর আমার সামনে সিদরাতুল মুনতাহাতুলে ধরা হল। তার (সিদরাতুল মুনতাহার) গাছের ফল আকারে হাজর (নামক স্থান-এর) কলসীর ন্যায় এবং পাতাগুলো হাতির কানের মত এবং দেখলাম যে, তার মূল হতে চারটি নহর প্রবাহমান। দুটি অপ্রকাশ্য ও দুটি প্রকাশ্য।
আমি জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-কে এগুলো সম্পর্কে জজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য নহর দুটি জান্নাতে প্রবাহমান। আর প্রকাশ্য নহর দুটির একটি ফুরাত ও অন্যটি নীল। তারপর আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হল। ফেরার পথে আমি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট এলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি করে আসলেন? বললাম, আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। তিনি বললেন, আমি মানুষের (প্রকৃতি) সম্পর্কে আপনার চেয়ে অধিক অবগত। আমি বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠিনভাবে চেষ্টা করেছি। একথা নিশ্চিত যে, এগুলো আদায় করতে আপনার উম্মত সক্ষম হবে না। আপনি আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং এ নির্দেশ সহজ করে নিয়ে আসুন। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট পুনরায় গেলাম এবং এ বিধান সহজ করার আবেদন জানালাম। এতে তিনি চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিলেন।
আমি আবার মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট এলাম। তিনি বললেন, আপনি কি করে আসলেন? আমি বললাম, চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিয়েছেন। তিনি এবারও আমাকে পূর্বের ন্যায় বললেন। আমি আমার মহান প্রতিপালকের নিকট ফিরে গেলাম। তিনি এবার ত্রিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আমি আবার মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট এলাম এবং তাকে অবহিত করলাম। তিনি আমাকে পূর্বের মত বললেন। আমি আবার প্রতিপালকের নিকট হাযির হলাম। তিনি বিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। এরপর দশ ওয়াক্ত এবং তারপর পাঁচ ওয়াক্ত করে দিলেন। এরপরে আমি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট এলাম। তিনি পূর্বের মত একই কথা বললেন। আমি বললাম, আমি আবার আল্লাহ্‌র নিকট যেতে লজ্জাবোধ করছি। তারপর আল্লাহ্‌র তরফ থেকে ঘোষণা দেয়া হল, আমি আমার বিধান চূড়ান্ত করলাম এবং আমার বান্দাদের জন্য সহজ করে দিলাম। আর আমি একটি নেককাজের বিনিময়ে দশটি প্রতিদান দিব। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৪৯, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আওফ ইবনু মালিক আশজাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কি আল্লাহ্‌র রাসূলের নিকট বায়আত গ্রহন করবে না? এ কথাটি তিনি তিনবার বলেন। আমরা হাত বাড়িয়ে দিলাম এবং তাঁর নিকট বায়আত গ্রহন করলাম। তারপর আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমরা তো পুর্বেই আপনার নিকট বায়আত হয়েছি, তবে এ বায়আত কোন্‌ বিষয়ের উপর? তিনি বললেনঃ এ বায়আত হল এ কথার উপর যে, তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে। তারপর আস্তে করে মৃদু স্বরে বললেনঃ মানুষের নিকট কিছু চাইবে না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৬১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আযানের নিয়মঃ
মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল মালিক ইবনু আবূ মাহ্যুরা থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং দাদার সূত্রে ব্ণিত। রাবী বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলি, আমাকে আযানের নিয়ম-পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা দিন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি আমার মাথার সম্মুখভাগে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেনঃ তুমি বলবে- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকরার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, তা উচ্চ স্বরে বলবে। অতঃপর আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ - বলার সময় গলার স্বর নীচু করবে।অতঃপর উচ্চ কন্ঠে বলবেঃ আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, অতঃপর বলবেঃ হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাস্-সলাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্। অতঃপর ফজরের নামাযের আযানের সময় বলবেঃ আস্-সালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম, আস্-সালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম অতঃপর বলবেঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫০০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ মাহযূরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে আযানের নিম্নোক্ত শব্দণ্ডলি শিক্ষা দেন। তিনি আমাকে বলেনঃ তুমি বল- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমার কন্ঠস্বর দীর্ঘায়িত করে পুনরায় বলঃ আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫০৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

উচ্চস্বরে আযান দেওয়া সুন্নাতঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাতে আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন নামাযের আযান দেয়া হয় তখন শয়তান এত দ্রুত পলায়ন করে যে, তার পিছনের রাস্তা দিয়ে বায়ু নির্গত হতে থাকে এবং সে এতদুরে চলে যায়- যেখানে আযানের ধ্বনি পৌছায় না। শয়তান ঐ স্থানে আযান সমাপ্তির পর পুনরায় আগমন করে। পুনঃ সে ইকামতের শেযে প্রত্যাবর্তন করে। অতঃপর সে নামাযীর অন্তরে ওস্ওয়াসার (সন্দেহের) সৃষ্টি করে এবং তাকে এমন জিনিসের স্মরণ করিয়ে দেয়- যা সে ভুলে গিয়েছিল। তনেক সময় নামাযী কত রাকাত নামায আদায় করেছে- তাতেও সে সন্দেহের উদ্রেক করে[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫১৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আযানের জবাবে যা বলতে হয়ঃ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা আযান শুনবে-তখন মুআয্যিনের উচ্চারিত শব্দের অনুরূপ উচ্চারণ করবে [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫২২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আযানের জবাব দেয়ার ফযীলতঃ
মুহাম্মাদ ইবনু সালামা আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ যখন তোমরা মুআয্যিনকে আযান দিতে শুনবে তখন সে যেরূপ বলে- তোমরাও তদ্রুপ বলবে। অতঃপর তোমরা (আযান শেষে) আমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে- আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহর নিকট আমার জন্য ওসীলা প্রার্থনা কর এবং ওসীলা হল জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান। আল্লাহ্ তাআলার একজন বিশিষ্ট বান্দা ঐ স্থানের অধিকারী হবেন এবং আমি আশা করি আমিই সেই বান্দা। অতঃপর যে ব্যক্তি আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে তাঁর জন্য শাফাআত করা আমার উপর ওয়াজিব হবে [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫২৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

সাদ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি মুয়ায্যিনের আযান শুনার পর বলবেঃ আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু, রাদীতু বিল্লাহে রব্বান ওয়া বি-মুহাম্মাদিন রাসূলান ওয়া বিল-ইসলামে দ্বীনানতার সমস্ত সগীরা) ণ্ডনাহ্ মাফ হয়ে যাবে[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫২৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন মুয়াযযিন আযানের সময় আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলবে, তখন তোমরাও আল্লাহু আকবার বলবে। অতঃপর মুয়াযযিন যখন আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলবে তখন তোমরাও আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলবে। অতঃপর মুয়াযযিন যখন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ বলবে- তখন তোমরাও আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ বলবে। অতঃপর মুয়ায্যিন যখন হাইয়া আলাস্ সালাহ্ বলবে তখন তোমরা বলবে, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্। অতঃপর মুয়াযযিন যখন হাইয়া আলাল ফালাহ্ বলবে তখন তোমরা বলবে লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্। অতঃপর মুয়ায্যিন যখন আল্লাহু আকবার বলবে তখন তোমরা আল্লাহু আকবার বলবে! অতঃপর মুআযযিন যখন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলবে, তখন তোমরাও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলবে। তোমরা যদি আন্তরিকভাবে এরূপ বল তবে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫২৭, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

জাবের ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আযান শুনার পর যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত দুআ পাঠ করবে- কিয়ামতের দিন সে অবশ্যই শাফাআত লাভের যোগ্য হবে। দুআটি এইঃ আল্লাহুম্মা রব্বা হা-যিহিদ্ দাওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস্ সালাতিল কায়েমাতি আতে মুহাম্মাদানিল্ ওয়াসীলাতা ওয়াল্ ফাদীলাহ্ ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযী ওয়াদতাহু [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫২৯, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আযান ও ইকামাতের মাঝে দু'আ রদ হয় নাঃ
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন আযান ও ইকামতের মাঝে দু'আ রদ হয় না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২১২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত দুআ কখনই প্রত্যাখ্যাত হয়না[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫২১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

সালাত আদায়ের সময় ভাল কাপড় পড়াঃ  
হে আদম সন্তান! প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ গ্রহণ কর[সূরা আল-আ'রাফ/৭, আয়াতঃ ৩১]

নামাযের স্থানঃ
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমার জন্য সমগ্র জমীন পবিত্র এবং নামাযের স্থান বানানো হয়েছে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৮৯, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ গোসলখানা ও কবরস্থান ব্যতীত সমস্ত জমীনই মসজিদ হিসাবে গণ্য (অর্থাৎ যে কোন স্থানে নামায পড়া যায়)[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৯২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আল-বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উটের আস্তাবলে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ তোমরা উটের আস্তাবলে নামায পড়বে না। কেননা তা শয়তানের আড্ডা স্হান। অতঃপর তাকে বক্রী বাঁধার স্হানে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ তোমরা সেখানে নামায পড়তে পার; কেননা তা বরকতময় স্থান[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৯৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত সারা যমীনই মসজিদ। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩১৭, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

মসজিদ নির্মাণের ফযীলতঃ
উসমান ইবনু আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোন মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য তদ্রূপ একটি বাড়ি জান্নাতে নির্মাণ করবেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩১৮, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

মসজিদে প্রবেশকালে পড়ার দুআঃ 
আবূ হুমায়েদ (রাঃ) অথবা আবূ উসায়েদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ কালে সর্বপ্রথম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সালাম, পাঠাবে, অতঃপর এই দুআ পড়বে আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা” “ইয়া আল্লাহ! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাওঅতঃপর যখন কেউ মসজিদ হতে বের হবে তখন এই দুআ পাঠ করবেঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা মিন ফাদলিক ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার করুণা কামনা করি [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৬৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

মসজিদে প্রবেশের পর বসার পূর্বে দুরাকাত সালাত আদায় করাঃ
আবূ কাতাদা সালামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার পূর্বে দুরাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেয়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৩১]

মসজিদে বসে থাকা এবং সালাতের অপেক্ষা করার ফযীলতঃ 
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে সালাতের পর হাদাসের পূর্ব পর্যন্ত যেখানে সে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছ সেখানে যতক্ষণ বসে থাকে ততক্ষণ ফিরিশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। তাঁরা বলেনঃ হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন! হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৩২]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ফেরেশতাগণ তোমাদের কারো জন্য ততক্ষণ দুআ করতে থাকে যতক্ষণ তোমাদের কেউ জায়নামাযে নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকে এবং তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) নষ্ট না হয় বা সে ব্যক্তি ঐ স্থান ত্যাগ না করে। ফেরেশতাদের দুআ ইয়া আল্লাহ্! আপনি তাকে ক্ষমা করুন। ইয়া আল্লাহ্! আপনি তার প্রতি সদয় হোন[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৬৯, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করতেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ মসজিদে নামাযের জন্য অপেক্ষা করবে, ততক্ষণ সে নামাযী হিসেবে পরিগণিত হবে- একমাত্র নামাযই যদি তাকে ঘরে তার পরিবার পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তনে বাধা দিয়ে থাকে[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৭০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতেন অপেক্ষায় থাকবে ততক্ষণ সালাতেই রত বলে গণ্য হবে। কেউ মসজিদে বসে থাকলে হাদাস (উযু নষ্ট) না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য ফেরেশতারা দুআ করতে থাকেনঃ হে আল্লাহ! তাকে মাফ করে দিন, হে আল্লাহ! তাকে রহম করুন। হাযরামাওতের অধিবাসী জনৈক ব্যক্তি তখন বললঃ হে আবূ হুরায়রা, হদাস কি? তিনি বললেনঃ আস্তে বা সশব্দে বায়ূ নির্গমন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩৩০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

সালাতে কিবলামুখী হওয়াঃ
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সাওয়ারীর উপর (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেনসওয়ারী তাঁকে নিয়ে যে দিকেই মুখ করত না কেন। কিন্তু যখন ফরয সালাত আদায়ের ইচ্ছা করতেন, তখন নেমে পড়তেন এবং কিবলার দিকে মুখ করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৩৯১]

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে, যা আমার আগে কোন নবীকে দেয়া হয়নি।
১. আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যা একমাসের দূরত্ব পর্যন্ত অনুভূত হয়।
২. সমস্ত জমিন আমার জন্য সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের উপায় করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কেউ যেখানে সালাতের ওয়াক্ত হয় (সেখানেই) যেন সালাত আদায় করে নেয়।
৩. আমার জন্য গণীমত হালাল করা হয়েছে।
৪. অন্যান্য নাবী নিজেদের বিশেষ গোত্রের প্রতি প্রেরিত হতেন আর আমাকে সকল মানবের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে।
৫. আমাকে (ব্যাপক) শাফাআতের অধিকার প্রদান করা হয়েছে।
[সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪২৫]

আযানের শব্দ গুলো দুই-দুইবার এবং ইকামাতের শব্দগুলো قد قامت الصلواة ছাড়া একবার বলাঃ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল আযানের শব্দগুলো দু-বার করে বলতে এবং ইকামাতের শব্দগুলো এক বার করে বলতে। ইয়াহইয়া তার হাদীসে ইবনু উলায়্যার মাধ্যমে এতটুকু যোগ করেন যে, আমি আইউব (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, قد قامت الصلوة শব্দটি ছাড়া (এটি দুবার বলবে) বাকী শব্দ গুলো একবার করে বলবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭২৪]

ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে আযানের শব্দ দুবার করে এবং ইকামতের শব্দ একবার করে বলা হত। কিন্তু ইকামতের মধ্যে কাদ্ কামাতিস্-সলাহ্শব্দটি দুবার বলা হত। আমরা মুয়াজ্জ্বীনের ইকামত শুনে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে যেতাম অতঃপর নামায আদায় করতে যেতাম[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫১০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

মসজিদে গিয়ে জামা'আতে সালাত আদায়ের ফযীলতঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামাআতের সাথে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলে ঘর বা বাইরে সালাত আদায় করার চাইতে পঁচিশগুণ সওয়াব বৃদ্ধি পায়। কেননা, তোমাদের কেউ যদি ভাল করে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে কেবল সালাতের উদ্দেশ্যেই মসজিদে আসে, সে মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত যতবার কদম রাখে তার প্রতিটির বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা ক্রমান্বয়ে উন্নীত করবেন এবং তার একটি করে গুনাহ মাফ করবেন। আর মসজিদে প্রবেশ করে যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ তাকে সালাতই গণ্য করা হয়। আর সালাতের শেষে সে যতক্ষণ ঐ স্থানে থাকে ততক্ষণ ফিরিশতাগণ তার জন্য এ বলে দুয়া করেন: ইয়া আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, ইয়া আল্লাহ! তাকে রহম করুন, যতক্ষণ সে কাউকে কষ্ট না দেয়, সেখানে উযূ ভঙ্গের কাজ না করে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৬৩]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ মুআয্যিনের আযানের ধ্বলি যতদূর পৌছাবে তাকে ততদুর ক্ষমা করা হবে। তার জন্য কিয়ামতের দিন সমস্ত তাজা ও শুষ্ক বস্তু সাক্ষী দেবে এবং যে ব্যক্তি আযান শুনার পর জামাআতে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে হাযির হবে- সে ব্যক্তি পঁচিশ গুণ অধিক ছওয়াবের অধিকারী হবে এবং দুই নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত যাবতীয় (সগীরাহ) গুনাহ্গুলি ক্ষমা করা হবে [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫১৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

উছমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি এশার নামায জামাতের সাথে আদায় করল সে যেন অর্ধ রাত দাঁড়িয়ে ইবাদত করল। আর যে ব্যক্তি ফজর ও এশার নামায জামাআতে আদায় করল সে যেন সারা রাতব্যাপী ইবাদতে মশ্গুল থাকল [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৫৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে ফরয নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, সে ইহরামধারী হাজ্জীর অনুরূপ ছওয়াব প্রাপ্ত হবে। অপর পক্ষে যে ব্যক্তি কেবলমাত্র চাশতের নামায আদায়ের জন্য মসজিদে যায় সে উমরাহ্কারীর ন্যায় ছওয়াব প্রাপ্ত হবে। যে ব্যক্তি এক ওয়াক্ত নামায আদায়ের পর হতে পরের ওয়াক্ত নামায আদায় করাকালীন সময়ের মধ্যে কোনরূপ বেহুদা কাজ ও কথাবার্তায় লিপ্ত না হয়, তার আমলনামা সপ্তাকাশে লিপিবদ্ধ হবে, অর্থাৎ সে উচ্চমর্যাদার অধিকারী হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৫৮, হাদিসের মানঃ  হাসান]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন কোন ব্যক্তি জামাআতের সাথে নামায আদায় করলে- বাড়ীতে এবং বাজারে একাকী নামায আদায় করা অপেক্ষা তা পঁচিশ গুণ শ্রেয়। তা এই কারনে যে, যখন কোন ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে শুধু নামাযের উদ্দেশ্যেই মসজিদে যায় তার প্রতি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং গুনাহ্ মাফ হয়ে থাকে যতক্ষণ না সে মসজিদে প্রবেশ করে। অতঃপর সে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশের পর যতক্ষণ সেখানে নামাযের জন্য অবস্থান করবে ততক্ষণ তাকে নামাযী হিসাবে গণ্য করা হবে। ঐ ব্যক্তি যতক্ষণ মসজিদে অবস্থান করবে ততক্ষণ ফেরেশুতারা তার জন্য দুআ করবে। দুআটি এইরূপঃ ইয়া আল্লাহ্! তুমি তাকে ক্ষমা করা ইয়া আল্লাহ্! তুমি তার উপর রহমত বর্ষণ কর। ইয়া আল্লাহ্! তুমি তার তওবা কবুল করা।ঐ ব্যক্তির জন্য ফেরেশ্তারা ততক্ষণ-পর্যন্ত ঐরূপ দুআ করতে থাকবে যতক্ষণ সে কাউকেও কষ্ট না দেয় অথবা তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) নষ্ট না হয়[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৫৯, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ সাঈদ আল্-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ জামাআতের সাথে এক ওয়াক্তের নামায -একাকী পচিঁশ ওয়াক্ত নামায (আদায়ের) সমতুল্য। যখন কোন ব্যক্তি মাঠে বা বন-ভূমিতে সঠিকভাবে রুকু-সিজদা সহকারে নামায আদায় করবে, তখন সে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের সমান ছওয়াব পাবে [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৬০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যারা অন্ধকার রজনীতে মসজিদে হাযির হয়ে জামাআতে নামায আদায় করে- তাদেরকে কিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৬১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

সাঈদ ইবনুল মূসাইয়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসার সাহবীর মৃত্যু উপস্থিত হল তিনি বলেন, আমি তোমাদের নিকট একটি হাদীছ একমাত্র আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই বর্ণনা করতে চাই। অতঃপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি তোমাদের কেউ যখন ভালভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নামাযের জন্য রওনা হয়, তখন সে তার ডান পা উঠানোর সাথে সাথেই তার আমলনামায় একটি নেকী লিখিত হয়। অতঃপর তার বাম পা ফেলার সাথে সাথেই তার একটি গুনাহ্ মার্জিত হয়। এখন যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে, সেতার আবাসস্হান মসজিদের নিকটে বা দূরে করতে পারে। অতঃপর ঐ ব্যক্তি মসজিদে আগমনের পর জামাআতের সাথে নামায আদায় করলে- তার সমস্ত (ছগীরা) গুনাহ্ মাফ হবে। ঐ ব্যক্তি মসজিদে পৌছতে পৌছতে ইমাম যদি কিছু অংশ আদায় করে ফেলে, তখন সে ইমামের সাথে বাকী নামায আদায়ের পর-ইমাম যা পূর্বে আদায় করেছে,তা পূর্ণ হবে। কিন্তু সওয়াবের ব্যাপারে ঐ ব্যক্তি পূর্ণ নামায প্রাপ্ত ব্যক্তির অনুরূপ হবে। ঐ ব্যক্তি মসজিদে আগমনের পর যদি দেখে যে, ইমাম তার নামায শেষ করে ফেলেছে, তখন সে একাকী নামায আদায় করল। তবুও তাকে ক্ষমা করা হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৬৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন জামা'আতে সালাত আদায় করা একা আদায় করা অপেক্ষা সাতাশগুণ বেশি মর্যাদা রাখে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২১৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

উছমান ইবনু আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি ইশার জামা'আতে হাজির হতে পারবে সে অর্ধ রত্রির সালাত আদায়ের ছওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি ইশা ও ফজরের সালাত জামা'আতে আদায় করব সে পূর্ণ রত্রি সালাত আদায়ের ছওয়াব পাবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২২১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

বুরায়দা আল আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যারা রাতের আধারে মসজিদে বেশি বেশি যাতায়াত করে তাদেরকে কিয়ামত দিবসের পরিপূর্ণ নূরের খোশ খবরী দিয়ে দাও। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২২৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কেউ যদি আল্লাহর উদ্দেশ্যে চল্লিশ দিন তাকবীরে উলার সাথে জামাআতে সালাত আদায় করে তবে তাকে দুটি মুক্তি সনদ লিখে দেয়া হয় একটি হল জাহান্নাম থেকে মুক্তির, অপরটি হল মুনাফিকী থেকে মুক্তির। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৪১, হাদিসের মানঃ  হাসান]

জামাআত পরিত্যাগের কঠোর পরিণতিঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, লোকদেরকে জামাআতের সাথে নামায আদায়ের নির্দেশ দেই এবং তাদের জন্য একজন ইমাম নিযুক্ত করি। অতঃপর আমি কাষ্ঠ বহনকারী একটি দল আমার সাথে নিয়ে ঐ লোকদের নিকট যাই যারা জামাআতে শরীক হয়নি। অতঃপর তাদের ঘর-বাড়ি জালিয়ে দেই[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৪৮, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুআয্যিনের আযান শুনে বিনা কারণে মসজিদে উপস্হিত হয়ে জামাআতে নামায আদায় করবে না তার অনত্র আদায়কৃত নামায আল্লাহর নিকটে কবুল হবে না (অর্থাৎ তার নামাযকে পরিপূর্ণ নামায হিসেবে গণ্য করা হবে না)। সাহাবীরা ওজর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি কেউ ভয়ভীতি ও অসুস্থতার কারণে জামাআতে হাযির হতে অক্ষম হয় তবে তার জন্য বাড়ীতে নামায পড়া দুষণীয় নয় [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৫১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

ইবনু উম্মে মাকছুম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ মদ্বীনা শহরে অনেক বিষাক্ত ও হিংস্র প্রাণী আছে যার দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশংকা আছে এমতাবস্হায় জামাআতে হাযির হওয়ার ব্যাপারে আমার করণীয় কি? তিনি বলেনঃ তুমি কি আযানের হাইয়া আলাস-সালাহ্ ও হাইয়া আলাল-ফালাহ্ শুনতে পাও? আমি বলি হাঁ। তিনি বলেনঃ তুমি তার জবাব দাও (জামাআতে হাযির হও)[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৫৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সাথে ফজরের নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ অমুক ব্যক্তি কি জামাআতে হাযির হয়েছে? সাহাবীরা বলেন-না। অতঃপর তিনি বলেনঃ অমুক ব্যক্তি কি নামাযে উপস্হিত হয়েছে? তারা বলেন, না। তিনি বলেনঃ এই দুই সময়ের (ফজর ও এশার) নামায আদায় করা মুনাফিকদের জন্য কষ্টকর। যদি তোমরা এই দুই ওয়াক্তের নামাযের ফযীলাত সম্পর্কে অবহিত থাকতে, তবে অবশ্যই তোমরা এই দুই সময়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও জামাআতে হাযির হতে এবং জামাআতের প্রথম লাইনটি ফেরেশতাদের কাতারের অনুরূপ। যদি তোমরা এর ফযীলত সম্পর্কে অবগত থাকতে তবে তোমরা প্রথম কাতারে দাড়ানোর জন্য অবশ্যই প্রতিযোগিতা করতে নিশ্চয়ই মানুষের একাকী নামায হতে -দুইজনের একত্রে নামায আদায় করা অধিক উত্তম এবং দুইজনের একত্রে নামায অপেক্ষা তিনজনের একত্রে নামায আদায় করা আরও অধিক উত্তম। এর অধিক জামাআতে যতই লোক বেশী হবে- ততই তা মহান আল্লাহর নিকট অধিক পছ্ন্দনীয় [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৫৪, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন আমার ইচ্ছা হয়, যুবকদের বলি তাঁরা যেন জ্বালানী কাঠ জমা করে আর আমি সালাতের নির্দেশ দেই এবং তা দাঁড়িয়ে যায় পরে যারা সালাতে হাযীর হয় না সেই লোকদের আগুনে জ্বালিয়ে দেই। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২১৭, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

ইকামাত দেওয়া শুরু করলে নফল সালাত নেইঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন ইকামত দেওয়া হয়, তখন ফরয ব্যতীত অন্য সালাত নেই। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫১৭]

ইবনু বুহায়না (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজরের সালাতে দাঁড়িয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতে পেলেন যে, এক ব্যাক্তি সালাত আদায় করছে। মুয়াযযিন তখন তাকবীর দিচ্ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বললেন, তুমি কি ফজরের সালাত চার রাকআত আদায় করছ? [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫২৩]

আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। লোকটি মসজিদের কোনায় দু রাকআত সালাত আদায় করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে শামিল হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরিয়ে বললেন, হে ওমুক! তুমি এ দু' সালাতের মধ্যে কোনটিকে (আসল) গন্য করেছ? যা তুমি একাকী পড়লে তা, না যা আমাদের সাথে পড়লে তা? [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫২৪]

কাতার সোজা করে গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়ানোঃ
জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করে বললেন, তোমরা চঞ্চল ঘোড়ার লেজের মত হাত উঠাচ্ছ কেন? সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে স্থির থাকবে। একবার তিনি আমাদেরকে দলে দলে বিভক্ত দেখে বললেন, তোমরা পৃথক পৃথক রয়েছ কেন? আরেকবার আমাদের সামনে এসে বললেন, তোমরা এমনভাবে কাতার বাধবে, যেমনিভবে ফেরেশতাগণ তাদের রবের সামনে কাতারবন্দী হয়ে থাকেন। আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ফেরেশতাগণ তাঁদের রবের সামনে কীভাবে কাতারবন্দী হন? তিনি বললেন, ফেরেশতাগণ সামনের কাতারগুলী আগে পূর্ণ করেন এবং গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়ান। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮৫২]

আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় আমাদের কাঁধ স্পর্শ করে বলতেন, তোমরা সমান্তরালভাবে দাঁড়াও এবং আগে-পিছে হয়ো না। অন্যথায় তোমাদের অন্তরেও বিভেদ সৃষ্টি হবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা অধিক সমঝদার ও জ্ঞানী, তারা আমার কাছাকাছি দাঁড়াবে। অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারা তাদের পরঅতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারা তাদের পর দাঁড়াবে। আবূ মাসউদ (রাঃ) বলেন, কিন্তু আজকাল তোমাদের মধ্যে চরম বিভেদ বিরাজ করছে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮৫৬]

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা রাখবে। কেননা কাতার সোজা করা সালাত (নামায/নামাজ)-এর পূর্ণতার অংশ। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮৫৯]

হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) কতিপয় হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে আমাদের নিকট বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সালাতের মধ্যে কাতার সোজা রাখবে। কেননা, কাতার সোজা করা সালাত (নামায/নামাজ)-এর সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮৬১]

মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তোমরা তোমাদের কাতার সমূহ সোজা রাখবে। নতুবা আল্লাহ তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮৬২]

নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাতারগুলোকে এমন ভাবে সোজা করে দিতেন যেন তিনি ধনুকের কাঠিটি সোজা করছেন। যতক্ষন না তিনি বুঝলেন, আমরা বিষয়টি তাঁর নিকট হতে যথাযথভাবে বুঝে নিয়েছি। অতঃপর একদিন (হুজরা হতে) বের হয়ে এসে স্বীয় স্থানে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলবেন, এমন সময় দেখতে পেলেন যে, এক ব্যাক্তির বক্ষদেশ কাতার হতে আগে বেড়ে আছে। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর বান্দারা! তোমরা তোমাদের কাতার অবশ্যই সোজা কর। নতুবা আল্লাহ তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৬৩]

জাবের ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের নিকটে যেরূপ সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান হয়ে থাকে তোমরা ঐরূপ কর না কেন? আমরা জিজ্ঞেস করি, ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের নিকটে কিরূপে কাতারবদ্ধ হয়ে দাড়ায়? তিনি বলেনঃ তারা সর্বাগ্রে প্রথম কাতার পূরণ করে, অতঃপর পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় কাতার ইত্যাদি পূর্ণ করে এবং তারা কাতারে দন্ডায়মান হওয়ার সময় পরস্পর মিলে দাড়ায়[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬৬১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

নুমান ইবনু বশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমবেত ব্যক্তিদের নিকট উপস্হিত হয়ে তিনবার বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর। আল্লাহর শপথ! তোমরা কাতার সোজা করে দন্ডায়মান হবে, অন্যথায় আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করবেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি মুসল্লীদেরকে পরস্পর কাঁধে কাঁধ, পায়ে পা এবং গোড়ালির সাথে গোড়ালি মিলিয়ে দাঁড়াতে দেখেছি [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬৬২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

কাতারের পিছনে একা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় প্রসঙ্গেঃ
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার মুহাম্মাদ ইবনু জাফার শু'বা আমর ইবনু মুররা হিলাল ইবনু ইয়াসাফ আমর ইবনু রাশিদ ওয়াবিসা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে জনৈক ব্যক্তি একবার কাতারের পিছনে একা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিরেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাকে সালাত পুনরায় আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৩১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]
   
দুই ব্যাক্তি একত্রে নামায আদায়ের সময় কিরূপে দাঁড়াবেঃ
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমি সালাত আদায় করেছিলাম। আমি তাঁর পাশে দাড়িয়েছিলাম। তখন তিনি আমার পিছন দিয়ে মাথায় ধরে আমাকে তাঁর ডান পাশে এনে দাঁড় করালেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৩২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ও একজন মহিলার ইমামতি করেন। তিনি তাকে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাশে এবং ঐ মহিলাকে আনাসের পেছনে দাঁড় করান[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬০৯, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

ইমামতির জন্য যোগ্য ব্যাক্তি সম্পর্কেঃ
আবূ মাসউদ আল-বদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ উপস্হিত লোকদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব (তার কিরাআত) সম্পর্কে সর্বাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি তাদের ইমামতি করবে। যদি এ বিষয়ে সকলে সমান যোগ্যতার অধিকারী হয়, তবে যিনি প্রথম হিজরতকারী ব্যক্তি তিনি ইমাম হবেন যদি তাতেও সকলে সমান হয়, তবে যিনি অধিক বয়স্ক হবেন- তিনই ইমামতি করবেন। কোন ব্যক্তি যেন অন্য কোন স্থানে অথবা অন্যের আধিপত্যের স্হানে ইমামতি না করে। কারো জন্য নির্ধারিত আসনে তার অনুমতি ব্যতিরেকে যেন আসন গ্রহণ না করে। অর্থাৎ ইমাম বা অন্য কারো জন্য নির্ধারিত বিছানায় যেন না বসে [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৮২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ মাসঊদ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ননা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহর কিতাব কুরআন অধ্যয়নে যে অধিক পারদর্শী সে ইমাম হবে। যদি অধ্যয়ন ক্ষেত্রে সকলেই এক বরাবর হয় তবে সুন্নাহ সম্পর্কে যে বেশি জ্ঞনী সে ইমামত করবে, সুন্নাহর ক্ষেত্রে সমান সমান হলে যে অগ্রে হিজরত করেছে সে; আর হিজরতরে ক্ষেত্রে সমান হরে যার বয়স বেশি সে ইমাম হবে। কারো কর্তৃত্বাধীন স্থানে তাঁর অনুমতি ভিন্ন অন্য ব্যক্তি ইমামত করবে না এবং কারো বাড়িতে তাঁর নিজস্ব বসার স্থানে অনুমতি ব্যতিরেকে অন্য কেউ বসবে না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৩৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

বনূ উকায়লের জনৈক ব্যক্তি আবূ আতিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের মসজিদে আলাপ-আলোচনা করতে আসতেন। একদিন তাঁর উপস্থিতিতে সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল আমরা তাকে সামনে গিয়ে ইমামতি করতে অনুরোধ জানালাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ ইমামতি করুক। আমি কেন ইমামতি করছি না তা তোমাদের বলছিঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কেউ যদি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়, তবে সে যেন তাদের ইমামতি না করে, বরং ঐ সম্প্রদায়ের কেউ যেন ইমামতি করে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩৫৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

প্রথম কাতারের ফযীলতঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষ যদি আযান ও প্রথম কাতারের সাওয়াবের কথা জানত এবং লটারী ছাড়া তা লাভের কোন উপায় না থাকত তবে তারা এর জন্য অবশ্যই লটারী করত এবং যদি (যূহরের সালাতে) আউয়াল ওয়াক্তে গমনের ফযিলত যদি তারা জানত তবে তারা এর জন্য পরস্পরে প্রতিযোগিতা করত। আর এশা ও ফজরের মাহাত্ম্য যদি জানত, তবে তারা ঐ দুটির জন্য হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আগমন করত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৬৫]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষদের প্রথম কাতার হল সর্বোত্তম এবং শেষ কাতার হল নিকৃষ্টতম। অপরপক্ষে মহিলাদের জন্য সর্বশেষ কাতারই হল সর্বোত্তম এবং প্রথম কাতার হল মিকৃষ্টতম [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬৭৮, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন আযান এবং প্রথম কাতরে কি ছওয়াব নিহিত আছে তা যদি মানুষ জানত আর তা লাভ করার জন্য লটারি ছাড়া অন্য কোন উপায় না থাকত তবে তারা লটারি করে হলেও তা লাভ করত। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২২৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

তাকবীর বলার পর বুকের নীচে নাভীর উপরে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখাঃ
ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন তিনি যখন সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করলেন তখন উভয় হাত উঠিয়ে তাকবীর বললেন। রাবী হাম্মাম বলেন, উভয় হাত কান বরাবর উঠালেন। তারপর কাপড়ে ঢেকে নিলেন (গায়ে চাঁদর দিলেন)। তারপর তার ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন। তারপর রুকু করার সময় তার উভয় হাত কাপড় থেকে বের করলেন। পরে উভয় হাত উঠালেন এবং তাকবীর বলে রুকুতে গেলেন। যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বললেন , তখন উভয় হাত তুললেন। পরে উভয় হাতের মাঝখানে সিজদা করলেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৮১]

তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযরত অবস্হায় ডান হাত বাম হাতের উপর স্হাপন করে তা নিজের বুকের উপর বেঁধে রাখতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৭৫৯, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

ওয়ায়িল বিন হুজর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছিলাম, তিনি স্বীয় ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে তার সিনার উপর স্থাপন করলেন। [গ্রন্থের নামঃ বুলুগুল মারাম (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ পর্ব - ২/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ২৭৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]

নাভীর নিচে হাত বাধার হাদিস যঈফঃ
আবূ জুহাইফাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। আলী (রাঃ) বলেছেন, সলাত আদায়কালে বাম হাতের তালুর উপর ডান হাতের তালু নাভীর নীচে রাখা সুন্নাত। [গ্রন্থের নামঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), অধ্যায়ঃ ২/সালাত, পাবলিশারঃ  আল্লামা আলবানী একাডেমী, হাদিস নম্বরঃ ৭৫৬, হাদিসের মানঃ যঈফ]

তাকবীরে তাহরীমার পর দু'আঃ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাত্রিকালে নামায আদায় করার জন্য দন্ডায়মান হতেন, তখন তাকবীর তাহরীমা বলার পর এই দুআ পাঠ করতেনঃ সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা।অতঃপর তিনি তিনবার লা ইল্লাহা ইল্লাল্লাহবলতেন এবং আল্লাহু আক্বার কাবীরানতিনবার বলার পর আউযূবিল্লাহিস সামীইল-আযীম মীনাস শাইতানের রাজীম মিন হামযিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফছিহিবলতেন, অতঃপর কিরাআত পাঠ করতেন[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৭৭৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামায আরম্ভ করতেন তখন এই দুআ পাঠ করতেনঃ সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা।[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৭৭৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীরের পর বলতেনঃ
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ
হে আল্লাহ, পবিত্রতা এবং প্রশংসা আপনারই; বরকতময় আপনার নাম; অতি উচ্চ আপনার মর্যাদা, আর কোন ইলাহ নেই আপনি ছাড়া। এরপর বলতেনঃ
اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا
পরে বলতেনঃ
أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ
 আমি পানাহ চাই আল্লাহর যিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ অভিশপ্ত শয়তান ও তাঁর ওয়াসওয়াসা, দম্ভ ও যাদু টোনা থেকে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২২৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআত পাঠের মধ্যবর্তী সময়ে কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআত পাঠের পূর্বে কেন চুপ থাকেন- তা আমাকে অবহিত করুন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (তখন আমি) চুপে চুপে এই দুআ পাঠ করিঃ আল্লাহুম্মা বায়েদ বায়নী ওয়া বায়না খাতায়ায়া কামা বায়েদতা বায়নাল-মাশরিকে ওয়াল মাগরিবে আল্লাহুম্মা আনকেনী মিন খাতায়ায়া কাছ্‌-ছাওবিল আবয়াদি মিনাদ-দানাসে আল্লাহুম্মা আগসিলনী বিছ-ছালজে ওয়াল-মায়ে ওয়াল-বারদি[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৭৮১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

তাকবীরে তাহরীমা, রুকু এবং রুকু থেকে উঠার পর উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠানোঃ
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত উঠাতেন। এমন কি তা তাঁর উভয় কাঁধ বরাবর হয়ে যেত। তারপর তাকবীর বলতেন। পরে যখন রুকু করার ইরাদা করতেন তখন ও অনুরুপ করতেন। আবার রুকু থেকে যখন উঠতেন তখনও অনুরুপ করতেন। কিন্তু সিজদা থেকে যখন মাথা তুলতেন তখন এরূপ করতেন না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৪৮]

মালিক ইবনুল হুওয়ায়রিস (রাঃ) থেকে বর্নিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবির (তাকবীরে তাহরিমা) বলে উভয় কান বরাবর হাত উঠাতেন। আর যখন রুকু করতেন তখনও কান বরাবর উভয় হাত উঠাতেন। আবার যখন রুকু থেকে মাথা তুলে سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন তখনো অনুরূপ করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৫১]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন দাঁড়িয়ে الله اكبر বলতেন। তারপর রুকু করার সময় তাকবীর বলতেন। তারপর যখন রুকু থেকে পিঠ তুলতেন তখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন। তারপর দাঁড়ানো অবস্থায় বলতেনرَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ তারপর সিজদায় ঝুকবার সময় তাকবির বলতেন। তারপর সিজদা থেকে যখন মাথা উঠাতেন তখন তাকবীর বলতেন। তারপর সিজদা করার সময় (আবার) তাববীর বলতেন। তারপর মাথা তুলবার সময় তাকবীর বলতেন। তারপর সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করা পর্যন্ত পূর্ণ সালাতই এরূপ করতেন। তারপর দুই রাকআতের বৈঠকের পর উঠে দাঁড়াবার সময় তাকবীর বলতেন। তারপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, তোমাদের সকলের চাইতে আমার সালাত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সঙ্গে অধিক সদৃশ্যপূর্ণ। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৫৪]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমাম যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (সামিআল্লাহু লিমান হামীদা) বলেন, তোমরা তখন اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ (আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ) বলবে। কেননা, যার বাক্য ফিরিশতাদের বাক্যের অনুরূপ হবে, তার পূর্ববতী সমস্ত পাপ মোচন হয়ে যাবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৮]

ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামাযের দুই রাকাত আদায়ের পর দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলে উভয় হাত উত্তোলন করতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৭৪৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ বাকর ইবনু আব্দুর রহমান এবং আবূ সালামা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তারা বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) ফরয ও অন্যান্য নামায আদায়ের সময় দাঁড়ানো ও রুকূ করা কালে তাকবীর বলতেন। অতঃপর তিনি দাড়িয়ে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহবলার পর রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদবলতেন সিজদায় যাওয়ার পূর্বে। অতঃপর সিজদায় যেতে আল্লাহু আকবারবলতেন। সিজদা হতে মাথা উত্তোলন এবং পুনরায় সিজদায় গমনকালে তিনি তাকবীর বলতেন, অতঃপর সিজদা হতে মাথা উঠাবার সময় তাকবীর বলতেন। দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠক হতে দন্ডায়মান হবার সময়ও তিনি আল্লাহু আকবারবলতেন। প্রত্যেক রাকাতেই আল্লাহু আকবারবলতেন। নামাযান্তে তিনি বলতেনঃ আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জীবন! তোমাদের তুলনায় আমার নামায রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাযের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত এরূপে নামায আদায় করেন [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৩৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

রুকুর সময় হাত না উঠানোর বর্ণনা যঈফঃ
বারাআ আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় তার হস্তদ্বয় উত্তোলন করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি নামাযের শেষ পর্যন্ত আর কখনও স্বীয় হস্তদ্বয় (একবারের অধিক) উত্তোলন করেননি। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৭৫২, হাদিসের মানঃ  যঈফ]

বিসমিল্লাহ্‌ সরবে পাঠ না করাঃ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাঃ) এর পেছনে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি, কিন্তু তাঁদের কাউকে بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ সরবে পড়তে শুনিনি। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৭৫]

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবূ বাকর (রাঃ), উমার (রাঃ) ও উছমান (রাঃ) আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীনহতে কিরাআত পাঠ শুরু করতেন [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৭৮২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

প্রতি রাক'আতে সূরা ফাতিহা পড়াঃ
উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, যে ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করবে না তার (পরিপূর্ণ) সালাত (নামায/নামাজ) হবে না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৬০]

উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করল না তার সালাত (নামায/নামাজ) হবে না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৬১]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যাক্তি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল (অথচ) তাতে উম্মুল কুরআন পাঠ করল না সে সালাত হবে অসম্পূর্ণ। তিনি তিনবার এটা বললেন। অতঃপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, আমরা তো ইমামের পেছনে থাকি (তখনো কি ফাতিহা পড়ব?) তিনি বললেন, তখন মনে মনে তা পড়। কারণ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে অর্ধেক করে ভাগ করেছি। আর বান্দা যা চাইবে তা সে পাবে।
অতঃপর বান্দা যখন বলেالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য); আল্লাহ তাআলা এর জবাবে বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। সে যখন বলে, الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (তিনি দয়াময়, পরম দয়ালু); আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা আমার গুনাবলী বর্ণনা করেছে, গুণগান করেছে। অতঃপর সে যখন বলে, مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (কর্মফল দিবসের মালিক), তিনি বলেন, আমার বান্দা আমার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছে। আর কখনো বলেছেন, আমার বান্দা  (তার সব কাজ) আমার উপর সোপর্দ করেছে। সে যখন বলে, إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি); তিনি বলেন- এটা আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। আমার বান্দা যা চাইবে তা সে পাবে। যখন সে বলে, اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ (আমাদের সরল পথ প্রদর্শন কর, তাদের পথে যাদেরকে তুমি অনুগ্রহ দান করেছ, যারা ক্রোধ নিপতিত নয়, পথভ্রষ্টও নয়); তখন তিনি বলেন, এটা কেবল আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দা যা চায় তা সে পাবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৬]

আতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, প্রত্যেক সালাতে (নামায)-এই কিরাআত পাঠ করা উচিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব সালাত (নামায/নামাজ) আমাদের কে শুনিয়ে কিরাআত পাঠ করেছেন সে সব সালাত আমরাও তোমাদের কে শুনিয়ে পাঠ করি। আর যে সব সালাতে কিরাআত নীরবে পাঠ করেছেন সে সব সালাতে আমরাও নীরবে পাঠ করি। অতঃপর তাকে এক ব্যাক্তি জিজ্ঞাসা করল, আমি যদি উম্মুল কুরআন এর চেয়ে আর বেশী না পড়ি? তিনি বললেন, তুমি যদি উম্মূল কুরআনের পর আরো বেশী পড় তাহলে তা হবে উত্তম। আর যদি শুধু উম্মুল কুরআনই পড় তাহলে তা হবে তোমার জন্য যথেষ্ট। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৬৮]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন ঘোষণা করে দেই যে, সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে আল-কুরআনের কিছু অংশ (সূরা বা আয়াত) না মিলালে কিছুতেই নামায বিশুদ্ধ হবেনা। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮২০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না তার নামায ক্রটিপূর্ণ, তার নামায ক্রটিপুর্ণ, তার নামায ক্রটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ। রাবী বলেন, পরবর্তীকালে আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি যে, আমি যখন ইমামের পিছনে থাকি, তখন সূরা ফাতিহা পাঠ করব কি? তিনি আমার বাহু চাপ দিয়ে- বলেন, হে ফারসী। তখন তুমি তোমার মনে মনে তা পাঠ করবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি মহান আল্লাহ বলেন, আমি নামাযকে (অর্থাৎ সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বিভক্ত করেছি। এর অর্ধেক আমার জন্য এবং বাকী অর্ধেক আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দা আমার নিকট যা কামনা করে- তাই তাকে দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলইহে ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমরা সূরা ফাতিহা পাঠ কর। আল্লাহ্ বলেন, যখন আমার বান্দা বলেঃ আল্হামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। অতঃপর বান্দা যখন বলেঃ আর-রাহমানির রাহীম, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। বান্দা যখন বলেঃ মালিকি ইয়াওমিদ্দ্বীন, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার সম্মান প্রদর্শন করেছে। অতঃপর যখন বান্দা বলেঃ ইয়াকানাবুদু ওয়া ইয়াকানাস্তাইন, তখন আল্লাহ্ বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যে সীমিত এবং আমার বান্দা যা প্রার্থনা করল- তাই তাকে দেয়া হয়। অতঃপর বান্দা যখনই ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীম, সীরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীনবলে তখন আল্লাহ্ বলেন- এ সমস্তই আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দা যা কিছু প্রার্থনা করেছে- তাও প্রাপ্ত হবে [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮২১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

সূরা ফাতিহা ব্যাতিত সালাত হয় নাঃ
আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন সালাতের চাবি হল তাহারাত। তাকবীর তাহরীমা (সালাতের পরিপন্থী) সকল কাজ হারাম করে দেয় আর সালাত তা হালাল করে। কেউ যদি সূরা ফতিহা ও একটি সূরা না পড়ে তবে তাঁর সালাত হয় না তা ফরয হোক বা অন্য কিছু। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৩৮, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি ফতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা)পাঠ করবে না তাঁর সালাত হবে না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৪৭, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

জোরে আমীন বলাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন ইমাম আমীন বলবেন, তোমরাও তখন আমীন বলবে। কেননা, যে ব্যাক্তি ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে একই সময় আমীন বলবে, তার পূর্ববতী সমস্ত পাপ মোচন হয়ে যাবে। রাবী ইবনু শিহাব বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমীন বলতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮০০]

ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালাদ্দল্লীনপাঠ করার পর জোরে আমীনবলতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৩২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবু হুরায়রা (রাঃ)-র চাচাত ভাই আবু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লীনপাঠের পর এমন জোরে আমীনবলতেন যে প্রথম কাতারে তাঁর নিকটবর্তী লোকেরা এই শব্দ শুনতে পেত। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৩৪, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে আমীন বলবে ও ফেরেশতারা আকাশের উপর আমীন বলবে এবং উভয়টি একই সময় হবে, যখন তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮০২]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআন পাঠকারী (ইমাম) যখন غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ বলবেন এবং তাঁর পিছনের ব্যাক্তি (মুকতাদী) آمِينَ বলবে, এবং তার বাক্য আকাশবাসীর (ফেরেশতার) বাক্যর অনুরুপ একই সময় উচ্চারিত হবে, তখন তার পূর্ববর্তী সমুদয় পাপ মোচন হয়ে যাবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮০৫]

আবু হুরায়রা (রাঃ) হত বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন ইমাম গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লীনবলবে, তখন তোমরা আমীনবল। কেননা যার আমীনশব্দটি ফেরেশতার আমীন শব্দের সাথে মিশ্রিত হবে, তার অতীত যাবতীয় (সগীরাহ বা ছোট) গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৩৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন ইমাম আমীন বলবে, তখন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা যে ব্যক্তির আমীন শব্দ ফেরেশতার আমীন শব্দের সাথে মিলবে তার পূর্ব-জীবনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৩৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

সালাতে কিরা'আত পাঠঃ
আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন যুহর ও আসরের প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতিহা ও দুটি সূরা পাঠ করতেন এবং কখনও কখনও আমরা আয়াত শুনতে পেতাম। আর যুহারের প্রথম রাকআত লম্বা করতেন এবং দ্বিতীয় রাকআত খাট করতেন। অনুরুপ ফজরের সালাতেও। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৬]

আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতিহা ও আরও একটি সূরা পাঠ করতেন এবং কখনও আয়াত আমাদেরকে শোনাতেন। আর শেষের দু রাকআতে শুধু-সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৭]

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আমরা যেন নামাযের মধ্যে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে আল-কুরআনের সহজপাঠ্য কোন আয়াত পাঠ করি। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮১৮, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

ইমামের পেছনে মুকতাদীর জোরে কিরা'আত পাঠ নিষেধঃ
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) আমাদের কে নিয়ে যুহর অথবা আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। (সালাত (নামায/নামাজ) শেষে) তিনি বললেন, তোমাদের কে আমার পেছনে سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى সুরাটি পড়ছিলে? এক ব্যাক্তি বলল, আমি। আর এর দ্বারা মঙ্গল লাভ ছাড়া আমার ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য ছিলনা। তিনি বললেন, আমার মনে হল, তোমরা কেউ এ নিয়ে আমার পাঠে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছ। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৭২]

ইমামের প্রথম রাক'আত দীর্ঘ করাঃ
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সম্ভবতঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাআতে অধিক লোকের শরীক হওয়ার সুযোগ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রথম রাকাত দীর্ঘ করতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮০০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

শেষের দুই রাকআত সংক্ষেপ করা সম্পর্কেঃ
জাবের ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) সাদ (রাঃ) -কে বলেন, জনসাধারণ আপনার বিরুদ্ধে প্রতিটি ব্যাপারে অতিযোগ করেছে, এমনকি আপনার নামায সম্পর্কেও। সাদ (রাঃ) বলেন, আমি নামাযের প্রথম রাকাতে কিরাআত দীর্ঘ এবং শেষ দুই রাকাতে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করে থকি। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে যেরূপ নামায পড়েছি- তার কোন ব্যতিক্রম করিনি। উমার (রাঃ) বলেন। আমিও আপনার সম্পর্কে এরূপ ধারণা পোষণ করে থাকি[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮০৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

রুকু-সিজদা পূর্ণভাবে করাঃ
হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি তাঁর রুকু-সিজদা পুরোপুরি আদায় করছিল না। সে যখন সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করলো তখন তাকে হুযায়ফা (রাঃ) বললেনঃ তোমার সালাত (নামায/নামাজ) ঠিক হয়নি। রাবী বলেনঃ আমার মনে হয় তিনি (হুযায়ফা) এ কথাও বলেছেন, (এ অবস্থায়) তোমার মৃত্যু হলে তা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরীকা অনুযায়ী হবে না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৩৮২]

হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নামায আদায় করেছেন। তিনি রুকুর মধ্যে সুবহানা রাব্বিয়াল আজীমএবং সিজদায় সুবহানা রাব্বিয়াল আলাপড়তেন এবং কুরআন পাঠের সময় তিনি যখন কোন রহমতের আয়াতে পৌঁছতেন, তখন তথায় থেমে রহমতের জন্য দোয়া করতেন। তিনি যখন কোন আযাবের আয়াত পাঠ করতেন, তখন তথায় থেমে আযাব হতে মুক্তি কমনা করতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৭১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন একটি লোক প্রবেশ করল। সে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল। তারপর এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাম করল। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন , ফিরে গিয়ে সালাত আদায় কর। কারণ তোমার সালাত হয়নি। লোকটি ফিরে গিয়ে সালাত আদায় করল। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে সালাম করল। রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিয়ে বললেন, ফিরে গিয়ে সালাত আদায় কর। কারণ তোমার সালাত হয়নি। এই রূপ তিনবার করলেন।
অতঃপর লোকটি বলল, আপনাকে সত্য নাবী করে পাঠিয়েছেন সেই সত্তার কসম! সালাত আদায়ের এর চেয়ে ভাল কোন পন্থা থাকলে আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে তখন তাকবীর বলবে। তারপর তুমি কুরআনের যতটুকু জানো তা থেকে যা সহজ হয় তাই পাঠ করবে। তারপর রুকু করবে। এমন কি নিবিষ্টভাবে (কিছুক্ষণ) রুকু করতে থাকবে। তারপর (রুকু থেকে) উঠবে, সোজা ভাবে (কিছুক্ষণ) দণ্ডায়মান থাকবে। তারপর সিজদা করবে। (কিছুক্ষণ) নিবিষ্টভাবে সিজদারত থাকবে। তারপর উঠে বসবে। এবং (কিছুক্ষণ) সোজাভাবে বসে থাকবে। তোমার গোটা সালাতই এরূপ করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৭০]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দ্বারা সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করতেন এবং الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ দ্বারা কিরাআত আরম্ভ করতেন। যখন রুকু করতেন তখন তাঁর মাথা উঠিয়েও রাখতেন না, ঝুঁকিয়েও রাখতেন না; বরং মাঝামাঝি রাখতেন। আর যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, তখন সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সিজদায় যেতেন না। আর যখন সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন, তখন সোজা হয়ে না বসে (দ্বিতীয়) সিজদায় যেতেন না। এবং প্রতি দু-রাকআতে আত-তাহিয়্যাতু পড়তেন বাম পা বিছিয়ে রাখতেন আর ডান পা খাড়া করে রাখতেন। শয়তানের মত পাছার উপর বসা থেকে নিষেধ করতেন। পূরুষকে তার দুবাহু হিংস্র জন্তুর মত বিছিয়ে রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি সালামের দ্বারা সালাত সমাপ্ত করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৯৩]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সিজদা করার সময় উটের ন্যায় বসবে না এবং সিজদায় যেতে মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৩৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

মুসয়াব ইবনে সাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার পিতার পাশে দণ্ডায়মান হয়ে আদায় করা কালে আমার হাতদুটি দুই হাঁটুর মাঝখানে রাখি। তা দেখে তিনি আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। কিন্তু আমি পুনরায় এরূপ করায় তিনি আমাকে বলেন: তুমি আর এরূপ করোনা, কেননা একসময় আমারাও এরূপ করতাম; কিন্তু আমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং আমাদের হাঁটুর উপর হাত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৬৭, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আলকামা ও আসওয়াদ (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন রুকু করবে, তখন সে যেন তার হাত-দ্বয় রানের উপর সম্প্রসারিত করে রাখে এবং হাতের আঙ্গুলগুলো যেন দৃঢ়ভাবে স্থাপন করে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর আঙ্গুলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে রাখতে দেখেছি। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৬৮, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ মাসউদ আল আনসারী আল বাদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ রুকূ ও সিজদার সময় যদি কেউ তাঁর পিঠ স্থির না রাখে তবে তাঁর সালাত হবে না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৬৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন ইমাম যখন বলবে (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) তখন তোমরা বলবে (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) ফেরেশতাদের এই দুআর অনুরূপ যার দুআ পাঠ হবে তাঁর পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যাবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৬৭, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুমায়দ আল সাঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার সময় তাঁর নাক ও কপালকে মাটিতে স্থির করে স্থাপন করতেন, শরীরের দুই পার্শ্ব থেকে হাত দুটো সরিয়ে রাখতেন এবং কাঁধ বরাবর দুই হাত রাখতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৭০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন আমি বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সিজদার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চেহারা কোথায় রাখতেন? তিনি বললেন দুই হাতের মাঝে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৭১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আব্বাস ইবনু আবদিল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, বান্দা যখন সিজদা করে তখন তাঁর সথে তাঁর সাতটি অঙ্গও সিজদা করে- তাঁর চেহারা, তাঁর দুই করতল, দুই হাঁটু এবং দুই পা। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৭২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন তোমাদের কেউ যখন সিজাদ করবে তখন সে যেন মধ্যপন্থা অবলম্বন করে এবং কুকুরের মত কনুই পর্যন্ত হাত যেন বিছিয়ে না রাখে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৭৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

সিজদা থেকে কিভাবে দাঁড়াবেঃ
মালিক ইবনু হুওয়রিছ আল লায়ছী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি যখন বেজোড় রাকআতের সিজাদ থেকে উঠতেন তখন সোজা হয়ে না বসে উঠতেন না।  [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৮৭, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

ইমামের অনুসরণ করাঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন। এতে আঘাত লেগে তাঁর ডান পাশের চামড়া ছিলে গেল। আমরা তাঁর রোগের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য তাঁর কাছে গেলাম। ইতিমধ্যে সালাতের সময় হলে তিনি বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। আমরাও বসে সালাত আদায় করলাম। পরে তিনি বললেনঃ ইমাম তো নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্য। কাজেই তিনি তাকবীর বললে, তোমরাও তাকবীর বলবে, রুকূকরলে তোমরাও রুকূকরবে, তিনি মাথা উঠালে তোমরাও মাথা উঠাবে। তিনি যখন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ)  বলে তখন তোমরা বলবে (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৮/সালাতে কসর করা, হাদিস নম্বরঃ ১০৪৮]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ইমাম এজন্যই নিয়োজিত করা হয় যে, অন্যরা তার অনুসরণ করবে যখন ইমাম তাকবীর বলে- তখন তেমরাও তাকবীর বলবে। যতক্ষণ সে তাকবীর না বলবে- ততক্ষণ তোমরাও বলবে না। অতঃপর ইমাম যখন রুকু করে- তখন তোমরাও রুকূ করবে এবং সে রুকূতে যাওয়ার পূর্বে তোমরা রুকূতে যাবে না। অতঃপর ইমাম যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহবলবে- তখন তোমরা আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদবলবে। মুসলিম ইবনু ইবরাহীম বলেন, “ওয়ালাকাল হাম্দবলবে। যখন ইমাম সিজদা করবে তখন তোমরা সিজদা করবে এবং তিনি সিজদায় যাওয়ার পূর্বে তোমরা সিজদায় যেও না। আর ইমাম যখন দাড়িয়ে নামায আদায় করবে তখন তোমরাও ঐরূপ করবে এবং যখন ইমাম বসে নামায আদায় করবে- তখন তোমরাও সকলে বসে নামায পড়বে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬০৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন ইমাম সিজদায় থাকা অবস্হায় তোমাদের কেউ মস্তক উত্তোলন করতে কেন ভয় করে না যে, যদি আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার মাথাকে গাধার মাথায় অথবা তার অবয়বকে গাধার আকৃতিতে রপান্তরিত করে দেন [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৬২৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যাওয়ার দরুণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীরের দক্ষিন পাশ‍‌ ছিলে যায়। আমরা তাকে দেখতে গেলাম। ইতিমধ্যে সালাতের ওয়াক্ত হল। তিনি আমাদের নিয়ে বসে বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। আমরাও বসে বসে তার পেছনে সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষ হওয়ার পর তিনি বললেন, অনুসরণ করার জন্য ইমাম মনোনীত হন। তিনি যখন তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বল, তিনি যখন সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা কর, তিনি যখন উঠেন, তোমরাও উঠবে। তিনি যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলবেন, তোমরা তখন رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বল। আর তিনি যখন বসে সালাত আদায় করেন, তোমরাও তখন বসেই সালাত আদায় কর। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮০৬]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে তার শুশ্রূষার জন্য সাহাবায়ে কিরাম আগমন করলেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে বসে বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। কিছুলোক দাঁড়িয়ে সালাত শুরু করলে তিনি তাদেরকে বসে সালাত আদায় করতে ইশারা করলেন। তাই তারা বসে পড়লেন। সালাত সমাপনান্তে তিনি বললেন, ইমাম নিয়োগ করা হয় তাঁকে অনুসরণ করার জন্য। তিনি রুকু করলে তোমরাও রুকু করবে। তিনি মাথা তুললে তোমরাও মাথা তুলবে। আর তিনি বসে সালাত আদায় করলে তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮১১]

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর দাদী মুলায়কাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খাওয়ার দাওয়াত দিলেন, যা তাঁর জন্যই তৈরী করেছিলেন। তিনি তা থেকে খেলেন, এরপর বললেনঃ উঠ, তোমাদের নিয়ে আমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করি। আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি আমাদের একটি চাটাই আনার জন্য উঠলাম, তা অধিক ব্যাবহারে কাল হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি সেটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য দাঁড়ালেন। আমি ও একজন ইয়াতীম বালক (যুমায়রা) তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম আর বৃদ্ধা দাদী আমার পেছনে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে দুরাকআত সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি চলে গেলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৩৭৩]

বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, যখন তিনি রুকু করতেন, তাঁরাও রুকু করতেন। যখন তিনি রুকু হতে মাথা উঠাতেন এবং سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন তখন আমরা দাঁড়িয়ে থাকতাম। তারপর যখন তাকে মাটির উপর কপাল রাখতে দেখতাম, তখন আমরাও তার অনুসরণ করতাম। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৪৮]

বারা (ইবনু আযিব) (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে (সালাত (নামায/নামাজ) আদায়) আমাদের এ নিয়ম ছিল আমরা যতক্ষন পর্যন্ত তাঁকে সিজদা করতে না দেখতাম, ততক্ষন পর্যন্ত আমাদের কেউ পিঠ ঝুঁকাত না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৪৯]

রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে কি বলবেঃ
ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকু থেকে পিঠ উঠাতেন, তখন বলতেনঃ
سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ
(অর্থাৎ প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ্‌ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক! সকল প্রশংসা আপনারই জন্য যা আসমানপূর্ণ ও যমিনপূর্ণ এবং পূর্ণতা ছাড়াও যা আপনি ইচ্ছা করেন)[সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৫১]

 রিফাআ ইবনু রাফে আয-যুরাকী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে নামায আদায় করি তিনি যখন রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহবলেন, তখন এক ব্যক্তি বলে উঠেন-আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাছীরান তাইয়েবান মুবারাকান ফীহনামাযান্তে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ এই দুআ পাঠকারী কে? ঐ ব্যক্তি বলেন- ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমি তিরিশেরও অধিক ফেরেশ্তাকে তা সবাগ্রে লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রতিযোগিতা করতে দেখেছি[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৭৭০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ হতে সোজা হওয়ার পর সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ, মিলউস-সামাওয়াতে ওয়া মিলউল-আরদে ওয়া মিলউ মা শিতা মিন শায়ইন বাদু বলতেন [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৪৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন ইমাম সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহবলবে তখন তোমরা (মুক্তাদিগণ) আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল-হামদবলবে। কেননা যে ব্যক্তির এ উক্তির সাথে ফিরিশতাদের উক্তির সমন্বয় ঘটবে তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৪৮, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবদুল্লাহ ইবন আবু আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু'আ পাঠ করতেনঃ
اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ
[সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৫২]

আবদুল্লাহ ইবন আবু আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু'আ পাঠ করতেনঃ
اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاءِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي مِنَ الذُّنُوبِ وَالْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الْوَسَخِ

(হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনারই জন্য যা আসমানপূর্ব এবং যমীনপূর্ণ তাছাড়াও যতটূকু আপনি ইচ্ছা করেন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে পবিত্র করুন বরফ, শিলা ও ঠাণ্ডা পানি দ্বারা। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে গুনাহ ও ক্রটি বিচ্যুতি থেকে পবিত্র করুন যেমনিভাবে সাদা বস্ত্র পরিষ্কার করা হয় ময়লা থেকে)। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৫৩]

 ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) যখন রুকু হতে মাথা উঠাতেন, তখন এই দু'আ পড়তেনঃ
اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
[সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৫৬]

রুকু-সিজদায় কুরআন পাঠ নিষেধঃ
আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রুকু এবং সিজদারত অবস্থায় (কুরআন) পড়তে নিষেধ করেছেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৬০]

আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রুকু এবং সিজদারত অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৬১]

রুকু এবং সিজদার তাসবীহঃ
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত পড়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূতে সুবহানা রাব্বিআল আযীম এবং সিজদায় সুবহানা রাব্বিআল আলা পাঠ করতেন। রহমতের আয়াত তিলাওয়াত করলে থামতেন এবং রহমতের দুআ করতেন। আযাবের আয়াত তিলাওয়াত করলে থামতেন এবং তা থেকে পানাহ চাইতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৬২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

সিজদায় দু'আ করাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সিজদার অবস্থায়ই বান্দা তার রবের অধিক নিকটবর্তী হয়ে থাকে। অতএব, তোমরা (সিজদায়) অধিক পরিমাণ দু'আ পড়বে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৬৭]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় (এ দুআটি) পড়তেনঃ
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلاَنِيَتَهُ وَسِرَّهُ
(হে আল্লাহ! আমার সকল গুনাহ মাফ করে দিন। সল্প এবং অধিক, প্রথম এবং শেষ, প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য।)[সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৬৮]

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই সিজদার মাঝে নিম্নের দুআ পাঠ করতেন। আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়া আফিনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৫০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ মাসউদ আল-বাদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রুকূ হতে উঠার পর সোজা হয়ে দাঁড়াবে না এবং দুই জিজদার মধ্যবর্তী বিরতীর সময় সোজা হয়ে বসবে না তার নামায যথেষ্ট হবে না [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৫৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকু এবং সিজদাসমূহে অধিকাংশ সময় এই দুআটি পাঠ করতেনঃ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي  (হে আল্লাহ্‌, আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার সপ্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ্‌! আমাকে ক্ষমা কর) তিনি এটা করতেন নির্দেশ অনুযায়ী। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৬৯]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরা إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ নাযিল হওয়ার পর আমি লক্ষ্য করেছি, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই সালাত (নামায/নামাজ) পড়তেন, তখনই দুআ করতেন এবং বলতেনঃ (سُبْحَانَكَ رَبِّي وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي) [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৭১]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিছানায় না পেয়ে (অন্ধকারে) হাতড়াতে লাগলাম। হঠাৎ আমার হাত খানি তাঁর পায়ের তালুতে গিয়ে লাগল। তিনি সিজদারত আছেন, পা দু-খানি খাড়া রয়েছে। তিনি বলছিলেনঃ
اللَّهُمَّ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
হে আল্লাহ! আমি তোমার অসন্তোষ থেকে তোমার সন্তোষের মাধ্যমে এবং তোমার আযাব হতে তোমার ক্ষমার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং আমি তোমার (শাস্তি) হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার প্রশংসা করে শেষ করতে সক্ষম নই। তুমি তেমনই যেমন তুমি নিজে তোমার প্রশংসা করেছ। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৭৪]

আয়িশা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকু এবং সিজদায় এ দুআ পড়তেনঃ (سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ) [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৭৫]

সিজদার ফযীলতঃ
মা'দান ইবনু আবূ তালহা ইয়ামুরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আযাদকৃত গোলাম সাওবন (রাঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আমি বললাম, আপনি আমাকে এমন একটি আমলের সংবাদ দান করুন, যার উপর আমল করলে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে দাখিল করাবেন কিংবা তিনি বললেন, আপনি আমাকে আল্লাহর একটি প্রিয়তম আমলের সংবাদ দিন। তিনি নীরব রইলেন। আমি আবার বললাম, তিনি এবারও কিছু বললেন নাঅতঃপর আমি তৃতীয়বার জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছেন, আল্লাহর উদ্দেশ্যে অধিক সিজদা কর। কেননা, তুমি যখনই আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সিজদা করবে, তখন এ দিয়ে আল্লাহ তাআলা তোমার মর্যাদা এক ধাপ বাড়িয়ে দিবেন এবং তোমার একটি পাপ মোচন করে দিবেন। মাদান বলেন, অতঃপর আবূদ দারদা (রাঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হল। তাঁর নিকটও আমি একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম। তিনিও সাওবান (রাঃ) এর অনুরুপ বললেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৭৭]

সিজদার অঙ্গসমূহ এবং সালাতে চুল ও কাপড় না গুটানোঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার চুল ও কাপড় গুটাতে নিষেধ করা হয়েছে। ইহা ইয়াহইয়ার বর্ণনা। আবূ রাবী' বলেন, সাতটি অঙ্গের উপর (সিজদা করতে আদেশ করা হয়েছে) এবং চুল ও কাপড় গুটাতে নিষেধ করা হয়েছে। (আর ঐ সাতটি অঙ্গ হচ্ছে) দুই হাত, দুই হাঁটু, দুই পা এবং কপাল। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৭৯]

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করতে এবং কাপড় ও চুল না গুটাতে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৮০]

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি আদিষ্ট হয়েছি সাতটির উপর সিজদা করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে। (ঐ সাতটি হল) কপাল ও নাক, দুই হাত, দুই হাটু এবং দুই পা। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৮৩]

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিসকে দেখতে পেলেন যে, তিনি তার চুলগুলোকে পিছনে বেধে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তা খুলে দিলেন। তিনি সালাত শেষ করে ইবনু আব্বাসের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমার মাথার এবং আপনার (এ কর্মের) ব্যাপারটি কি? আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, এই ব্যাক্তির উদাহরণ (যে ব্যাক্তি সালাতের অবস্থায় মাথার চুল বেধে রাখে) ঐ ব্যাক্তির মত যে তার হাত বাধা অবস্থায় সালাত আদায় করে।  [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৮]

সিজদার অঙ্গসমূহ ঠিকভাবে রাখা এবং সিজদার সময় দুই হাত বিছিয়ে না দেয়াঃ
আবদুল্লাহ ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় উভয় বাহু পৃথক রাখতেন। এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পেতো। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৩]

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সিজদার সময় অংগসমূহ সঠিক রাখবে-কুকুরের মত দুই হাত বিছিয়ে দিবে না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৮]

বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তুমি সিজদা করবে, তখন তোমার দুই হাতের তালূ (ভূমিতে) রাখবে এবং দুই কনূই (ভূমি থেকে) উঠিয়ে রাখবে[সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৮]

আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহায়নাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় (সিজদা) করতেন তখন তাঁর উভয় হাত পার্শ্বদেশ থেকে এতখানি পৃথক রাখতেন যে তার বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পেত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৮৮]

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন তাঁর দুই হাত (পার্শ্বদেশ থেকে) এরুপ দুরে রাখতেন যে, তাঁর বগলের উজ্জ্বলতা পিছন হতে দেখা যেত। এবং যখন বসতেন, তখন তাঁর বাম উরুর উপর শান্ত হয়ে বসতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৯১]

সিজদার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গঃ
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে আল্লাহর তরফ হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, হাম্বাদের বর্ণনায় আছে তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সাতটি অংগ দ্বারা সিজদা করতে বলা হয়েছে। তিনি নামাযের অবস্থায় চুল ও কাপড় বাঁধতে নিষেধ করেছেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৯০, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যখন কোন বান্দা আল্লাহকে সিজদা করে, তখন তার সাথে তার শরীরের সাতটি অংগ প্রত্যঙ্গও সিজদা করে। যেমন- তার মুখমণ্ডল, দুই হাতের তালু, দুই হাটুঁ এবং দুই পা। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৯২, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। এই হাদিসের বর্ণনাক্রম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বান্দার দুই হাত মুখমণ্ডলের ন্যায় সিজদা করে। যখন তোমাদের কেউ কপাল দ্বারা সিজদা করে, তখন অবশ্যই সে যেন তার দুটি হাতের তালুও জমিনে রাখে এবং যখন সে কপাল উঠাবে, তখন হাতও উঠাবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৯৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমরা সঠিকভাবে সিজদা করবে কুকুরের ন্যায় হস্তদ্বয়কে জমিনের সাথে মিলাবে না। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৯৭, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

মায়মুনা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন তিনি তাঁর হস্তদ্বয়কে এত দূরে রাখতেন যে, কোন বকরীর বাচ্চা ইচ্ছা করলে এর নীচ দিয়ে চলে যেতে পারত।  [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৯৮, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

ইমামের পূর্বে রুকু সিজদা করা নিষেধঃ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের পর আমাদের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের ইমাম। সুতরাং রুকু, সিজদা, কিয়াম ও সালামে আমার আগে চলে যেও না। কারণ আমি সম্মুখ ও পাশ্চাৎ হতে তোমাদেরকে দেখতে পাই। অতঃপর বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার শপথ, আমি যা দেখছি, তোমরা তা দেখতে পেলে হাসতে কম, কাঁদতে বেশী। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কী দেখেছেন? তিনি বললেন, আমি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছি। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৪৫]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমামের পূর্বে সিজদা হতে যে ব্যাক্তি মাথা তুলবে, তার ভয় করা উচিত, আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথার মত করে দিবেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮৪৭]

জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যারা সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে আকাশের দিকে তাকায়, অবশ্যই তাদের তা হতে বিরত হওয়া উচিত, অন্যথায় তাদের দৃষ্টি আর ফিরে না আসতে পারে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮৫০]

ইমামের সালাতের পূর্ণতা বজায় রেখে সংক্ষিপ্ত করাঃ
আবূ মাসঊদ আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করে বলল, আমি অমুক ব্যাক্তির কারণে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)-এ আসছি না। কেননা, সে আমাদের নিয়ে (সালাত) দীর্ঘ করে। তখন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নসীহত করার ক্ষেত্রে কখনও এত অধিক রাগান্বিত হতে দেখি নি, যতটা দেখলাম সে দিন। তিনি বললেন, হে লোক সকল! তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা (দ্বীন সম্পর্কে) ঘৃণা সৃষ্টি করেছে। তোমাদের যে কেউ লোকদের ইমামতি করবে, সে যেন সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষিপ্ত করে। কেননা, তার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল ও অভাবগ্রস্ত (মানুষ) থাকে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯২৮]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখন তোমাদের মধ্যে কেউ লোকদের ইমামতি করবে, তখন (সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষিপ্ত করবে। কেননা, তাদের মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ, দুর্বল, ও রুগ্ন, ব্যক্তি থাকে। আর যখন একাকী সালাত আদায় করবে তখন যেভাবে মন চায় তা আদায় করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৩০]

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্ষেপে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন কিন্তু তা হতো পূর্ণাঙ্গ। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৩৬]

বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ) পর্যবেক্ষণ করেছি। অতএব, তাঁর কিয়াম (সালাতে দাঁড়ান), রুকু, রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়ান, অতঃপর সিজদা এবং দুই সিজদার মধ্যবর্তী বসা অতঃপর (দ্বিতীয়) সিজদা এবং সালাম ও (মুসাল্লীদের দিকে) ফিরে বসার মধ্যবতী বৈঠক এই সবগুলোকে প্রায়ই সমান সমান পেয়েছি। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৪১]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন তোমাদরে কেউ যদি লোকদের ইমামত করে তবে যে যেন সংক্ষেপে সালাত আদায় করে। কেননা জামাআতের লোকদের মধ্যে শিশু, বয়ঃবৃদ্ধ, দুর্বল ও অসুস্থ লোকও থাকে। আর যদি একাকী সালাত আদায় করে তবে সে যেভাবে ইচ্ছা তা আদায় করতে পারে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৩৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

দ্বিতীয় ও চতুর্থ রাকাতে বসা সম্পর্কেঃ
আবু হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাদিসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দশজন সাহাবীর নিকট হতে শ্রবণ করেছি। রাবী আহমদে ইবনে হাম্বল (রহঃ) বলেন, আমার আব্দুল হামীদ মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু হুমাইদ সাঈদী (রাঃ) কে দশজন সাহাবীর উপস্থিতে এরূপ বলতে শুনেছি, যাদের মধ্যে . আবু কাতাদা (রাঃ)ও উপস্থিত ছিলেন। আবু হুমাইদ (রাঃ) বলেন, আমি তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ। তখন তাঁরা বলেন, তবে আপনি বর্ণনা করুন। তখন তিনি এই হাদিসটি বর্ণনা প্রসংগে বলেন, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার সময় দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে রাখতেন, অতঃপর আল্লাহু আকবারসিজদা হতে মাথা উঠাতেন। এই সময় তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতেন। তিনি দ্বিতীয় রাকাতও অনুরূপ ভাবে আদায় করতেন। অতঃপর হাদিসের বাকী অংশ বর্ণনা প্রসংগে তিনি আরও বলেন, যখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ রাকাতের জন্য সিজদা করতেন, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বাম পা একটু দূরে স্থাপন করে পাছার উপর বসতেন। ইমাম আহমদ তাঁর বর্ণনায় আরও বলেন, অতঃপর উপস্থিত সকলে তাঁর কথার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আপনি ঠিক বলেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই নামায আদায় করতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৬৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]  

মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আমেরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উপরোক্ত হাদিস বর্ণনার মজলিসে আমি হাজির ছিলাম। রাবী বলেন, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দ্বিতীয় রাকাতের জন্য বসতেন তখন বাম পায়ের পাতার পেটের উপর বসতেন এবং ডান পা খাঁড়া করে রাখতেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চতুর্থ রাকাতে বসতেন, তখন তাঁর বাম পাছাকে জমিনের সাথে মিলিয়ে দিতেন এবং বাম পা'কে ডান দিকে বের করে দিতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৬৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

সালাতে তাশাহুদ পাঠঃ
আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার সময় (বৈঠকে) বলতামالسَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ السَّلاَمُ عَلَى فُلاَنٍ (আল্লাহর উপর সালাম, অমুকের উপর সালাম) একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বললেন, আল্লাহর নামই সালাম। তোমাদের কেউ যখন সালাতে বসে সে যেন বলেঃ
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ
যাবতীয় মান-মর্যাদা, প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নাবী, আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক। যখন সে একথাগুলো বলে তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌঁছে যায়, সে আসমানেই থাক অথবা জমীনে।
পরে বলবে أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُআমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।এরপর তা যা মন চায় দু'আ করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৮২]

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তাশাহুদ শিক্ষা দিতেন, যেমনিভাবে শিক্ষা দিতেন আমাদেরকে কুরআনের সূরা। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৮৮]

ইবন উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে তাশাহহুদ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। (তিনি বলেনঃ) তাশাহহুদের মধ্যে এই দুআ পাঠ করতে হবে। যথা ‘‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহে ওয়াসসালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যেবাতু আসসালামু আলায়কা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’’রাবী মুজাহিদ বলেনঃ . ইবন উমার (রাঃ) বলেনঃ এর মধ্যে ওয়া বারাকাতুহুআমি যোগ করেছি। আসসালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সালেহীন আশহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ বাক্য অতিরিক্ত পাঠ করিতাম
ইবন উমার (রাঃ) বলেনঃ আমি এতে অতিরিক্ত বলতামঃ ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহু।’’ [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৭১, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

হিত্তান ইবন আবদুল্লাহ আর-রুকাশী (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা . আবু মূসা আল্-আশআরী (রাঃ) আমাদের সাথে জামাআতে নামায আদায়ের পর যখন সর্বশেষ বৈঠকে বসেন, তখন এক ব্যক্তি বলেঃ কল্যাণ ও পবিত্রতার মধ্যে নামায সুস্থির হয়েছে। . আবু মূসা (রাঃ) নামায শেষে লোকদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেনঃ তোমাদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি এরূপ কথা বলেছে? রাবী বলেনঃ সমবেত সকলে নিশ্চুপ থাকে। পুনরায় তিনি একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে সকলে একইরূপে চুপ থাকে। তখন তিনি বলেনঃ হে হিত্তান! সম্ভবত তুমিই এরূপ বলেছ। জবাবে তিনি বলেনঃ আমি তা বলি নাই। তবে আমি ভয় করেছিলাম যে, এ ব্যাপারে হয়ত আমাকেই দোষারোপ করা হবে।
রাবী হিত্তান বলেনঃ এমন সময় কওমের মধ্যেকার এক ব্যক্তি বলল, আমিই তা বলেছি। তবে আমি এরূপ বলার দ্বারা ভালো কিছুর আশা করেছিলাম। তখন . আবু মূসা (রাঃ) বলেনঃ তোমরা কি অবগত নও তোমরা নামাযের মধ্যে কি বলবে? রাসূলুল্লাহ সা. এ সম্পর্কে আমাদের খুতবার মধ্যে শিক্ষা দিয়েছিল এবং নিয়ম কানুন ও নামায সম্পর্কে বিশেষরূপে জ্ঞাত করিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ যখন তোমরা নামায আদায়ের ইরাদা করবে, তখন সোজাভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে এবং তোমাদের মধ্যেকার একজন ইমামতি করবে। ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলবেন তখন তোমরাও তা বলবে এবং যখন ইমাম ‘‘গায়রিল মাগদূবে আলায়হিম ওলাদদাল্লীন পড়বেন তখন তোমরা ‘‘আমীন’’ বলবে। (এর ফলশ্রুতিতে) আল্লাহ পাক তোমাদের দুআ কবুল করবেন। অতঃপর ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলে রুকু করবেন, তখন তোমরাও আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবে। কেননা ইমাম তোমাদের পূর্বেই রুকুতে গমন করবেন এবং উঠবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এটা ওর পরিবর্তে (অর্থাৎ ইমাম রুকুতে আগে যাওয়ার আগে উঠবেন)।
অতঃপর ইমাম যখন ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ বলবেন, তখন তোমরা বলবেঃ ‘‘আল্লাহুম্মা রববানা লাকাল হাম্দু।’’ আল্লাহ তোমাদের ওটা কবুল করবেন। কেননা আল্লাহ জাল্লা জালালুহু তাঁর নবীর যবানীতে ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাবলিয়েছেন। অতঃপর ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলে সিজদা করবেন, তখন তোমরাও তা বলে সিজদা করবে এবং যেহেতু ইমাম তোমাদের পূবেৃ সিজদায় গমন করবেন, সেহেতু তিনি তোমাদের পূর্বেই উঠবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসালাম বলেছেনঃ এটা ওটার পরিবর্তে। অতঃপর তোমরা যখন বৈঠকে বসবে, তখন তোমরা বলবেঃ ‘‘আত্তাহিয়্যাতু ওয়াত্তায়্যেবাতু ওয়াস্-সালাতু লিল্লাহে আস্-সালামু আলায়কা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু আস্-সালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন। আশহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াআশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।’’ [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৭২, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

ইবন আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কুরআনের মতই তাশাহ্হুদ শিক্ষা দিতেন এবং তিনি বলতেনঃ আত্তাহিয়্যাতু আল-মুবারাকাতু আস-সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যেবাতু লিল্লাহি, আস-সালামু আলায়কা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আস-সালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন ওয়া আশহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৭৪, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

হিত্তান ইবনু আবদুল্লাহ আর রুকাশী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন (একবার) আমি আবূ মূসা (রাঃ) এর সাথে এক সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। তিনি যখন তাশালূদের বৈঠকে ছিলেন তখন মুসল্লীদের মধ্য থেকে এক ব্যাক্তি বলে উঠলأُقِرَّتِ الصَّلاَةُ بِالْبِرِّ وَالزَّكَاةِ (সালাত (নামায/নামাজ) নেকী ও যাকাতের সাথে ফরয করা হয়েছে)। হিত্তান বলেন, আবূ মূসা যখন সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করলেন এবং সালাম ফিরালেন তখন বললেন, তোমাদের মধ্যে এই ধরনের কথা কে বলেছে? সবাই চুপ করে রইল। তিনি আবার বললেন, এরকম কথা তোমাদের কে বলেছে? সবাই চুপ রইল। তিনি বললেন, “হিত্তান! তুমিই হয়ত এরকম বলেছ। হিত্তান বললেন, আমি এটা বলিনি। আমি ভয় করলাম যে, আপনি এ কারনে আমাকে তিরস্কার করবেন। অতঃপর এক ব্যাক্তি বলল, আমি এটা বলেছি। আর আমি এটা কেবলমাত্র সাওয়াব হাসিলের জন্য বলেছি
আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, তোমরা তোমাদের সালাত (নামায/নামাজ) কি বলবে তা জান না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদেরকে খুতবা দিলেন। তিনি আমাদের করনীয় কাজসমূহ পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করলেন এবং আমাদেরকে সালাত (নামায/নামাজ) শিক্ষা দিয়ে বললেন যখন তোমরা সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইচ্ছা করবে তখন তোমাদের কাতার সোজা করবে। তারপর তোমাদের একজন ইমামত করবে। ইমাম যখন তাকবীর বলবে তখন তোমরা সবাই তাকবীর বলবে আর যখন وَلاَ الضَّالِّينَ বলবে তখন তোমরা آمِينَ বলবে। এতে আল্লাহ তোমাদের দুই দুআ কবুল করবেন।
অতঃপর ইমাম যখন তাকবীর বলবে এবং রুকু করবে, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে এবং রুকু করবে। কারন ইমামকে তোমাদের আগে রুকুতে যেতে হয় এবং তোমাদের আগে উঠতে হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ফলে তোমাদের এই দেরি করাটা (ইমামকতৃক আগে করা) এর বদলা হয়ে যায়। আর যখন ইমাম سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলবে তখন তোমরা বলবে اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ আল্লাহ তাআলা তোমাদের দুয়া শুনেন।
কারন তিনি তার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যবানিতে বলেছেন যে, যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শুনেন। আর যখন ইমাম তাকবীর বলবে এবং সিজদা করবে তখন তোমরাও তাকবীর বলবে এবং সিজদা করবে। কারণ ইমাম তোমাদের আগে সিজদা করে এবং তোমাদের আগে উঠে।
অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ফলে তোমাদের এই দেরী করা (ইমামকতৃক আগে করা) এর বদলা হয়ে যায়। ইমাম যখন তাশাহুদে বসবে তখন সর্বপ্রথমে তোমরা বলবে,
التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
[সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৮৯]

তাশাহুদের সময় কিভাবে বসতে হবেঃ
ওয়াইল ইবনু হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, মদীনায় এসে আমি মনে মনে ভাবলাম, অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত লক্ষ্য করে দেখব। লক্ষ্য করে দেখলাম, তিনি তাশাহ্হুদের জন্য যখন বসলেন তখন বাম পা বিছিয়ে দিলেন এবং বাম উরুতে তাঁর বাম হাত রাখলেন আর ডান পাটি (অর্থাৎ পায়ের পাতটি) খাড়া করে রাখলেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৯২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

তাশাহুদের মধ্যে (আঙ্গুল দ্বারা) ইশারা করাঃ
আলী ইবন আব্দুর রাহমান আল-মুআবী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা . আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) আমাকে নামাযের মধ্যে কংকর নিয়ে অনর্থক খেলতে দেখেন। তিনি নামায শেষে আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করেন এবং বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপে নামায আদায় করতেন, তদ্রূপ করবে। তখন আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেন, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযের মধ্যে বসতেন, তখন ডান হাতের তালুকে ডান পায়ের রানের উপর রাখতেন এবং তার সমস্ত আংগুলগুলো (শাহাদাত আংগুল ব্যতীত) বন্ধ করে রাখতেন এবং শাহাদাত আংগুল দ্বারা ইশারা করতেন। এবং তিনি বাম হাতের তালু বাম পায়ের রানের উপর রাখতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৮৭, হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

আব্বাস ইবনু সাহল আস-সায়িদী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বললেন, একবার আবূ হুমায়দ, আবূ উসায়দ, সাহল ইবনু সাদ এবং মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা একত্রিত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখন আবূ হুমায়দ বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে আমি সবচেয়ে ভাল জ্ঞাত আছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহ্হুদের জন্য বসেছিলেন তখন বাম পা বিছিয়ে দিয়েছিলেন এবং ডান পায়ের অগ্রভাগ (আঙ্গুলিসমূহ) কিবলার দিকে স্থাপন করেছিলেন। ডান হাতের তালু ডান হাঁটুতে এবং বাম হাতের তালু বাম হাঁটুতে স্থাপন করেছিলেন আর শাহাদাত আঙ্গুলির মাধ্যমে ইশারা করেছিলেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৯৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের মাঝে বসতেন তখন ডান হাত হাঁটুতে রাখতেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববর্তী অঙ্গুলিটি উঠিয়ে ইশারা করতেন আর তাঁর বাম হাতটি (বাম) হাঁটুতে বিছিয়ে রাখতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৯৪, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

তাশাহ্হুদ পাঠ শেষে দু'আঃ
উরওয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। আয়েশা (রাঃ) তাঁকে জানান যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করতেন- আল্লাহুম্মা ইন্নি আ-উ-যুবিকা মিন আযাবিল কাবরি ওয়া আ-উ-যুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ-দাজ্জাল ওয়া আ-উ-যুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত। আল্লাহুম্মা ইন্নি আ-উ-যুবিকা মিনাল মাছামি ওয়াল মাগরামতখন এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করেন যে, মাগরাম বা কর্জ হতে অধিক ভাবে পরিত্রাণ চাওয়ার কারণ কী? জবাবে তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়, তখন সে কথা বলতে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে এবং ওয়াদাও খেলাফ করে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৮০, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমরা নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পাঠ শেষ করবে, তখন আল্লাহর নিকট চারটি বিষয় হতে পানাহ চাইবেঃ
(১) জাহান্নামের আযাব হতে,
(২) কবরের আযাব হতে,
(৩) জীবিত ও মৃত্যুকালে যাবতীয় ফিতনা হতে এবং
(৪) দাজ্জালের ক্ষতি হতে
[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৮৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

ইবন আববাস (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহহুদের পর এই দুআ পাঠ করতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন্ আযাবে জাহান্নাম ওয়া আউযু বিকা মিন আযাবিল্ কাবরে, ওয়া আউযু বিকা মিন্ ফিত্নাতিদ্ দাজ্জাল ওয়া আউযু বিকা মিন্ ফিত্নাতিল মাহ্য়া ওয়াল মামাত।’’ [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৮৪, হাদিসের মানঃ  হাসান] 

আবদুল্লাহ ইবন আমর ও আবু মামার (রহঃ) হান্যালা ইবন আলী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা মেহ্জান ইবন আদ্রা কে এই মর্মে জানানো হয় যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে জনৈক ব্যক্তিকে নামায শেষে তাশাহ্হুদ পাঠ করতে দেখেন। তখন সে এও পড়ছিলঃ ‘‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ইয়া আল্লাহ আল্-আহাদু আল-সামাদু আল্লাযী লাম য়ালিদ ওয়ালাদ ইয়ূলাদ। ওয়া লাম ইয়া কুললাহু কুফুওয়ান আহাদ আন তাগ্ফিরলী যুনূবী ইন্নাকা আন্তাল্ গাফুরুর রাহীম।’’ রাবী বলেন, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার এরূপ বলেন, ‘‘তাঁকে মাফ করা হয়েছে’’ [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৮৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

তাশাহুদ এর পর নবী () এর উপর দুরুদ পাঠঃ

আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন, আমরা তখন সাদ ইবনু উবাদা (রাঃ) এর মজলিসে বসা ছিলাম। অতঃপর বশীর ইবনু সাদ (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা'আলা আপনার উপর সালাত পাঠ করার জন্য আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা কিভাবে আপনার উপর সালাত পাঠ করব? আবু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন। এমনকি আমরা অপেক্ষা করতে লাগলাম যে, তাঁকে যদি এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা না হত (তা হলে খুবই ভালো হত)। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেলন, তোমরা বলবেঃ
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
 আর সালাম দেয়ার নিয়ম তো তোমাদের জানাই আছে[সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৭৯২]

কাব ইবন উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা বলি অথবা তাঁরা বলেছেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আমাদের আপনার উপরে দরূদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর সালাম সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। এখন আমরা আপনার উপর দরূদ কিভাবে পেশ করব? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা বলবে, ‘‘আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লায়তা আলা ইব্রাহীমা, ওয়া বারেক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’ [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৭৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

আমর ইবন সুলায়ম আয-যুরাকী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ . আবু হুমায়েদ সাইদী (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, একদা তাঁরা (সাহাবাগণ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার উপর কিরূপে দরূদ পাঠ করব? জবাবে তিনি বলেন, তোমরা বলবেঃ আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আয্ওয়াজিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহী কামা সাল্লায়তা আলা আলি ইবরাহীমা ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আসওয়াজিহি ও জুররিয়্যাতিহী কামা বরাকতা আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’ [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৭৯, হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

ইবনু আবূ লায়লা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, এক বার কাবা ইবনু উজরা (রাঃ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমি তোমাকে একটি হাদিয়া দেব না? একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন! আমরা বললাম, (ইয়া রাসুলাল্লাহ!) আপনাকে কিভাবে সালাম দিতে হয় তাতো আমরা জানি, কিন্তু আপনার উপর সালাত আমরা কি ভাবে পাঠ করব? তিনি বললেন, তোমরা বলবেঃ
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
[উচ্চারনঃ আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ] [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৩]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি আমার প্রতি একবার দুরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৯৭]

সালাম ফিরানোর নিয়মঃ
জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমরা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম, তখন সালাত শেষে ডান-বাম দিকে হাত ইশারা করে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহবলতাম। তাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা চঞ্চল ঘোড়ার লেজ নাড়ার মত হাত ইশারা করছ কেন? (সালাতের বৈঠকে) উরুর ওপর হাত রেখে ডানে-বামে অবস্থিত তোমাদের ভাইকে (মুখ ফিরিয়ে) আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতূল্লাহবলাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/কিতাবুস স্বলাত, হাদিস নম্বরঃ ৮৫৪]

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে ডান দিকে ফিরতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬/মুসাফিরের সালাত ও কসর, হাদিস নম্বরঃ ১৫১৪]

আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে এমনভাবে মুখ ঘুরিয়ে সালাম ফিরাতেন যে, তাঁর মুখমন্ডলের শুভ্র অংশটি পরিলক্ষিত হত এবং তিনি আসসালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে সালাম ফিরাতেন[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৯৯৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডানে ও বামে সালাম ফিরাতেন এবং বলতেনঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ২৯৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

নামাযের পরে তাকবীর বলা সম্পর্কেঃ
আমর ইবন দ্বীনার (রহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ . ইবন আববাস (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মুসল্লীগন ফরয নামায শেষে, গমনের কালে উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করতেন। ইবন আববাস (রাঃ) বলেনঃ লোকেরা গমনকালে যে তাকবীর পাঠ করতেন, তা আমি শুনতাম। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১০০৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের বর্ণনাঃ
মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুমায়েদ আস-সাইদী (রাঃ) -কে দশজন সাহাবীর উপস্হিতিতে যাদের মধ্যে আবূ কাতাদা (রাঃ)- ও ছিলেন- বলতে শুনেছিঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায সম্পর্কে আপনাদের চেয়ে সমধিক অবগত আছি। তাঁরা বলেন, তা কিরূপে? আল্লাহর শপথ! আপনি তাঁর - অনুসরণের ও সাহচর্যের দিক দিয়ে আমাদের চাইতে অধিক অগ্রগামী নন। তিনি বলেন, হাঁ। অতঃপর তারা বলেন, এখন আপনি আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযে দাঁড়াতেন তখন তিনি, তাঁর হস্তদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে পূর্ণরূপে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তিনি কিরাআত পাঠের পর তাকবীর বলে রুকূতে যাওয়ার সময় আল্লাহু আক্বার বলে নিজের উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। রুকূতে গিয়ে তিনি দুই হাতের তালু দ্বারা হাঁটুদ্বয় মজবুতভাবে ধরতেন। অতঃপর তিনি এমনভাবে রুকু করতেন যে, তাঁর মাথা পিঠের সাথে সমান্তরাল থাকত। অতঃপর তিনি মাথা উঠিয়ে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহবলে স্বীয় উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। পুনরায় আল্লাহু আক্বার বলে তিনি সিজদায় গিয়ে উভয় বাহু স্বীয় পাজরের পাশ হতে দূরে সরিয়ে রাখতেন। অতঃপর সিজদা হতে মাথা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতেন এবং সিজদার সময় পায়ের আংগুলগুলি নরম করে কিবলামুখী করে রাখতেন। তিনি আল্লাহু আক্বার বলে (দ্বিতীয়) সিজদা হতে উঠে বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর সোজা হয়ে বসতেন। অতঃপর তিনি সর্বশেষ রাকাতে স্বীয় বাম পা ডান দিকে বের করে দিয়ে বাম পাশের পাছার উপর ভর করে বসতেন। তখন তারা সকলে বলেন, হাঁ আপনি ঠিক বলেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রূপেই নামায আদায় করতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৭৩০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

মূসাদ্দাদ ইবনু আমার আল-আমিরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহাবায়ে কিরামের মজলিসে উপস্হিত থাকাকালে সেখানে রাসূলুল্লহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায সম্পর্কে আলোচনা হয়। তখন আবূ হুমায়েদ (রাঃ) বলেন অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীছটির কিছু অংশ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন তিনি রুকূ করতেন তখন তাঁর হাতের তালু দ্বারা হাঁটু মজবুতভাবে ধরতেন এবং হাতের আংগুলগুলি পরস্পর বিচ্ছিন্ন রাখতেন এবং এ সময় তিনি স্বীয় মাথা পিঠের সমান্তরালে রাখতেন। রাবী বলেন, অতঃপর যখন তিনি দুই রাকাত নামায আদায়ের পর বসতেন, তখন বাম পায়ের উপর বসতেন এবং ডান পায়ের পাতা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। অতঃপর তিনি যখন চতুর্থ রাকাতের পর বসতেন, তখন তিনি নিজের উভয় পা ডান দিকে বের করে দিতেন এবং বাম পাশের পাছার উপর ভর দিয়ে বসতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৭৩১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন। এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করতঃ নামায আদায়ের পর তাকে গিয়ে সালাম করল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সালামের জবাব দিয়ে বলেনঃ তুমি পুনরায় গিয়ে নামায আদায় কর, কারণ তোমার নামায হয় নাই। অতঃপর ঐ ব্যক্তি পূর্ববত নামায পড়ে এসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পুনরায় সালাম প্রদান করল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সালামের জবাব দিয়ে বলেনঃ তুমি পুনরায় গিয়ে নামায আদায় কর, তোমার নামায হয় নাই। এভাবে সে তিনবার নামায পড়ল তখন ঐ নামাযী ব্যক্তি বললঃ আল্লাহর শপথ! যিনি আগনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, এর চাইতে উত্তমরূপে আমি নামায পড়তে জানি না। অতএব নামাযের পদ্ধতি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তুমি নামাযে দন্ডায়মান হবে তখন সর্বপ্রথম তাকবীরে তাহরীমা বল। অতঃপর তোমার সুবিধা অনুযায়ী কুরআনের আয়াত পাঠ কর, অতঃপর শান্তি ও স্থিরতার সাথে রুকূ করবে, অতঃপর রুকূ হতে একদম সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর ধীরস্হিরভাবে সিজদা আদায় করবে এবং (দুই সিজদার মধ্যবর্তী স্তানে সোজা হয়ে বসবে। তুমি তোমার সমস্ত নামায এরূপে আদায় করবে[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৮৫৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আতা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আবূ কাতাদা ইবনু রিবঈও ছিলেন যাঁদের মধ্যে উপস্থিত, সেই ধরনের দশজন সাহাবীর এক সমাবেশে আমি আবূ হুমায়দ আস-সায়িদীকে বলতে শুনেছিঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে তোমাদের মধ্যে আমি অধিক অবহিত। উপস্থিত সাহাবীরা বললেনঃ আপনি তো আমাদের তুলনায় প্রবীণ নন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে আমাদের চেয়ে বেশি আসা-যাওয়া করেননি। আবূ হুমায়দ (রহঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, আমি অধিক পরিজ্ঞত। সাহাবীরা বললেনঃ আচ্ছা, এই কথা উপেক্ষা করুন।
আবূ হুমায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়াতেন তখন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন এবং কাঁধ বরাবর দুই হাত তুলতেন। পরে যখন রুকূতে যেতে চাইতেন তখন কাঁধ বরাবর তাঁর দুই হাত তুলতেন এবং ‘‘আল্লাহু আকবার’’ বলে রুকূ করতেন। পিঠ স্থির ও সোজা করে রাখতেন, মাথা নিচে ঝুঁকিয়ে রাখতেন না এবং উপরে তুলেও রাখতেন না। রুকূতে দুই হাত রাখতেন দুই হাঁটুর উপর।
পরে ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’’ বলে দুই হাত তুলতেন এবং এমনভাবে স্থির হয়ে দাঁড়াতেন যে, প্রতিটি অঙ্গ স্ব স্ব স্থানে ফিরে আসত। এরপর সিজদার উদ্দেশ্যে ভূমিতে অবনত হতেন এবং বলতেন, ‘‘আল্লাহু আকবার’’তাঁর দুই বাহু বগল থেকে সরিয়ে রাখতেন। পায়ের আঙ্গুলি (সামনের দিকে) ভাঁজ করে রাখতেন। পরে বাম পা ঘুরিয়ে তার উপর এমনভাবে স্থির হয়ে বসতেন যে, প্রতিটি অঙ্গ স্ব স্ব স্থানে ফিরে আসত। পরে আবার সিজদার জন্য ঝুঁকতেন এবং ‘‘আল্লাহু আকবার’’ বলতেন। এরপর পা ঘুরিয়ে তার উপর এমনভাবে স্থির হয়ে বসতেন যে, প্রতিটি অঙ্গ স্ব স্ব স্থানে ফিরে আসত। এরপর উঠে দাঁড়াতেন।
পরে দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপ আমল করতেন। দুই রাকআত শেষ করে যখন দাঁড়াতেন তখনও কাঁধ বরাবর দুই হাত তুলতেন সালাতের শুরুতে যেমন কাঁধ বরাবর দুই হাত তুলতেন। সব রাকআতে এভাবেই আমল করতেন। পরে যে রাকআতে সালাত শেষ হতো তাতে বাম পাটি বের করে নিতম্বের উপর বসতেন। এরপর সালাম ফিরাতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৩০৪, হাদিসের মানঃ  সহিহ]



No comments:

Post a Comment